মেসের ভাড়া আর বিল
সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন
মেসে বাজারের চেয়েও বেশি ঝামেলা হয় ভাড়া, কারেন্ট বিল, গ্যাস, ওয়াইফাই আর বুয়ার বেতন নিয়ে। এখানে প্রতিটার জন্য একটা ন্যায্য নিয়ম আর টাকার হিসাবসহ উদাহরণ দেওয়া হলো।
মেসে রুমের সাইজ অনুযায়ী ভাড়া কিভাবে ভাগ করব?
প্রতিটা রুমের আয়তন অনুযায়ী অনুপাতে ভাড়া ভাগ করুন, তারপর রুমের ভাড়া সেই রুমের লোকদের মধ্যে ভাগ করুন। ২৪,০০০ টাকার ফ্ল্যাটে ১৫০, ১২০ আর ৯০ বর্গফুটের তিনটা রুম হলে (মোট ৩৬০) রুমগুলো দেবে ১০,০০০, ৮,০০০ আর ৬,০০০ টাকা। মেস খাতায় এটা শেয়ার হিসেবে ৫, ৪ আর ৩ দিলেই একই হিসাব বের হয়।
অ্যাটাচড বাথরুম বা বারান্দাওয়ালা রুমের ভাড়া কি বেশি হওয়া উচিত?
হ্যাঁ, নিজস্ব বাথরুম বা বারান্দা থাকলে সাধারণত একটু বেশি ভাড়া ধরা হয়, তবে সেটা ওঠার আগেই ঠিক করে নিন। ২২,০০০ টাকার ফ্ল্যাটে চারটা সিঙ্গেল রুম হলে অ্যাটাচড বাথের রুমকে ৬, বারান্দার রুমকে ৬ আর সাধারণ দুই রুমকে ৫ করে শেয়ার দিন; মোট ২২ শেয়ার, প্রতি শেয়ার ১,০০০ টাকা, অর্থাৎ ৬,০০০, ৬,০০০, ৫,০০০ আর ৫,০০০ টাকা। শেয়ারগুলো লিখে রাখুন যাতে প্রতি মাসে আবার তর্ক না হয়।
প্রিপেইড মিটারের কারেন্ট বিল মেসে কিভাবে ভাগ করব?
মাসে যতবার রিচার্জ হয়েছে সব যোগ করে সেই মোট টাকা সদস্যদের মধ্যে ভাগ করুন, পোস্টপেইড বিলের মতোই। মাসে ১,০০০, ১,৫০০ আর ১,০০০ টাকা রিচার্জ হলে কারেন্ট খরচ ৩,৫০০ টাকা, সাতজনে ভাগ করলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা। যে নিজের টাকায় রিচার্জ করেছে সে যেন সেটার ক্রেডিট পায়; মেস খাতায় কেউ নিজের পকেট থেকে বিল দিলে সেটা তার জমার মধ্যে ধরা হয়।
সাব-মিটার দিয়ে রুম অনুযায়ী কারেন্ট বিল কিভাবে ভাগ করে?
মাসের শুরু আর শেষে সাব-মিটারের রিডিং নিন, ওই রুমকে তার ইউনিট গড় রেটে চার্জ করুন, বাকিটা সবাই সমান ভাগ করুন। মূল বিল ৪০০ ইউনিটে ৪,০০০ টাকা হলে গড় ইউনিট ১০ টাকা; যে রুমের সাব-মিটারে ১২০ ইউনিট, সে দেবে ১,২০০ টাকা, আর বাকি ২,৮০০ টাকা সাতজনে ৪০০ টাকা করে। মেস খাতায় কাস্টম অ্যামাউন্ট দিয়ে এভাবে ভাগ করা যায়।
শীতে রুম হিটার চালালে কি তাকে কারেন্ট বিল বেশি দিতে হবে?
হ্যাঁ, হিটারে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাই যে মাসগুলোতে চালায় সেই মাসে তার জন্য আগে থেকে ঠিক করা একটা বাড়তি টাকা ধরুন। যেমন ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি হিটার ব্যবহারকারী মাসে ২০০ টাকা বেশি দেবে, বাকিদের ভাগ সেই অনুযায়ী কমবে। ইস্ত্রি, ফোন চার্জার বা টেবিল ল্যাম্পের মতো ছোট জিনিস সাধারণত সমান ভাগের মধ্যেই থাকে, এগুলো নিয়ে টানাটানি করলে লাভের চেয়ে সম্পর্ক বেশি নষ্ট হয়।
একজন সারাদিন ডেস্কটপ পিসি চালায়, তাহলেও কি কারেন্ট বিল সমান ভাগ হবে?
পুরোপুরি সমান ভাগ ন্যায্য না; পিসির মালিক মাসে একটা নির্দিষ্ট বাড়তি টাকা দেবে, বাকিটা সমান ভাগ হবে। ছয়জনের মেসে ৩,৩০০ টাকার বিলে পিসির মালিক আগে ৩০০ টাকা দেবে, বাকি ৩,০০০ টাকা জনপ্রতি ৫০০ করে, অর্থাৎ পিসির মালিক মোট দেবে ৮০০ টাকা। পার্থক্য বড় আর নিয়মিত হলে ওই রুমে সাব-মিটার লাগালে আসল হিসাবেই মিটে যায়।
মেসে লাইনের গ্যাসের বিল কিভাবে ভাগ করব?
লাইনের গ্যাসের বিল প্রতি মাসে একই থাকে, তাই রান্নাঘর যারা ব্যবহার করে তাদের মধ্যে সমান ভাগ করুন। মাসে ১,০৮০ টাকার গ্যাস বিল নয়জনে ভাগ করলে জনপ্রতি ১২০ টাকা। কেউ যদি মেসে কখনো রান্না করে না বা খায় না, তাকে বাদ দেওয়া যায়, তবে সেটা একবারেই ঠিক করুন, প্রতি মাসে নতুন করে না।
সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ মেসে কিভাবে ভাগ করে?
প্রতিবার সিলিন্ডার রিফিল যে মাসে কেনা হয় সেই মাসের গ্যাস খরচ হিসেবে লিখুন, আর মাসের মোট খরচ যারা মেসে খায় তাদের মধ্যে ভাগ করুন। মাসে ১,৪৫০ টাকা করে দুইটা রিফিল হলে গ্যাস খরচ ২,৯০০ টাকা, দশজনে জনপ্রতি ২৯০ টাকা। মাসের ২৮ তারিখে কেনা সিলিন্ডার পরের মাসে গড়ালেও যে মাসে টাকা দেওয়া হয়েছে সেই মাসেই ধরুন, সময়ের সাথে এটা সমান হয়ে যায়।
মেসের পানির বিল কিভাবে ভাগ করা উচিত?
বাড়িওয়ালা পানির বিল আলাদা নিলে জনপ্রতি সমান ভাগ করুন, কারণ পানি খরচ রুমের সাইজে না, মানুষের সংখ্যায় বাড়ে। ১,২০০ টাকার পানির বিল আটজনে ভাগ করলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা। পানির বিল যদি ভাড়ার মধ্যেই থাকে, তাহলে ভাড়ার ভাগেই সেটা চলে আসে, আলাদা লাইন লাগে না।
যে ওয়াইফাই ব্যবহার করে না, তাকেও কি ওয়াইফাই বিল দিতে হবে?
মেস যদি ওয়াইফাইকে সবার কমন খরচ ধরে তাহলে দিতে হবে, নাহলে শুধু যারা ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ভাগ করুন। ১,২০০ টাকার প্যাকেজ ছয়জনে ভাগ করলে জনপ্রতি ২০০ টাকা, কিন্তু একজন শুধু মোবাইল ডাটা চালিয়ে বাদ থাকলে বাকি পাঁচজন দেবে ২৪০ টাকা করে। মেস খাতায় বাছাই করা সদস্যদের মধ্যে সমান ভাগ করা যায়, তাই কাউকে বাদ দেওয়া মানে শুধু একটা টিক তুলে দেওয়া।
বুয়া বা খালার বেতন মেম্বারদের মধ্যে কিভাবে ভাগ করব?
বুয়ার মাসিক বেতন যাদের জন্য রান্না করে তাদের মধ্যে সমান ভাগ করুন। বুয়ার বেতন মাসে ৬,০০০ টাকা আর দশজনের রান্না করলে জনপ্রতি ৬০০ টাকা। বেতনটা বাজার খরচ থেকে আলাদা খরচ হিসেবে রাখুন, যাতে সবাই পরিষ্কার দেখে বেতন কত আর খাবারের খরচ কত।
পুরো মাস বাড়িতে থাকলে কি বুয়ার বেতন দিতে হবে?
সাধারণত না: যে পুরো মাসে একবেলাও খায়নি, তাকে বুয়ার বেতন থেকে বাদ রাখা হয়, বাকিরা ভাগ করে নেয়। ৫,৪০০ টাকা বেতন দশজনে ভাগ করলে জনপ্রতি ৫৪০ টাকা; একজন পুরো মাস না থাকলে উপস্থিত নয়জন দেবে ৬০০ টাকা করে। মেস খাতায় অনুপস্থিত দিনগুলো দাগিয়ে দিন আর বেতনটা সেই মাসে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে সমান ভাগ করুন।
ঈদে বুয়াকে কত টাকা বোনাস দেব, আর সেটা কে দেবে?
ঈদের আগে সবাই মিলে বোনাস ঠিক করুন; অনেকেই এক মাসের বেতন বা তার অর্ধেক দেয়, আর সেই মাসে মেসে যারা আছে সবাই সমান ভাগ করে। ৫,০০০ টাকা বোনাস দশজনে ভাগ করলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা। ঈদের মাসে এটাকে আলাদা খরচ হিসেবে লিখুন, যাতে নিয়মিত বেতনের সাথে গুলিয়ে না যায়।
বুয়া কয়েকদিন না আসলে কি বেতন কাটা যাবে?
কাটা যায়, তবে শুধু তার সাথে আগে থেকে ঠিক করা নিয়ম অনুযায়ী, আর বেশিরভাগ মেসে কয়েকদিনের ছুটিতে বেতন কাটে না। ছুটির পরে দিন হিসেবে কাটার নিয়ম থাকলে ৩০ দিনের মাসে ৬,০০০ টাকা বেতন মানে দিনে ২০০ টাকা, পাঁচদিন কাটলে বেতন হবে ৫,০০০ টাকা। নিয়মটা কাজে রাখার সময়েই বলে দিন, বেতনের দিনে না।
বাথরুম আর ঘর মোছার লোকের বেতন কিভাবে ভাগ করব?
ক্লিনারের বেতন মেসের সবার মধ্যে সমান ভাগ করুন, কারণ বাথরুম, করিডোর আর সিঁড়ি সবাই ব্যবহার করে। মাসে ১,৫০০ টাকা বেতন ছয়জনে ভাগ করলে জনপ্রতি ২৫০ টাকা। বুয়ার বেতনের মতো না, কয়েকদিন বাইরে থাকলেও এটা দিতে হয়, কারণ কমন জায়গা তো পরিষ্কার হচ্ছেই।
বাড়িওয়ালা বিল্ডিং মেইনটেন্যান্সের টাকা চাইলে কে দেবে?
আগে ভাড়ার চুক্তি দেখুন আর বিল্ডিংয়ের কাজের খরচ বাড়িওয়ালাকে দিতে বলুন; মেস যতটুকু দিতে রাজি হয় শুধু ততটুকু বর্তমান সদস্যদের মধ্যে ভাগ করুন। মেস যদি ধরুন ১,৬০০ টাকার পানির ট্যাংক পরিষ্কারের খরচ ভাগ করতে রাজি হয়, আটজনে জনপ্রতি ২০০ টাকা। রসিদ চেয়ে নিন আর মাসের হিসাবের সাথে রেখে দিন।
বিল্ডিংয়ের সার্ভিস চার্জ কী, এটা কি ভাড়া থেকে আলাদা?
সার্ভিস চার্জ দিয়ে দারোয়ান, সিঁড়ির লাইট, লিফট বা কমন জায়গা পরিষ্কারের মতো বিল্ডিংয়ের খরচ চলে; কোনো বাড়িওয়ালা ভাড়ার উপর আলাদা নেয়, কেউ ভাড়ার মধ্যেই রাখে। আলাদা নিলে জনপ্রতি সমান ভাগ করুন: ২,০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ আটজনে জনপ্রতি ২৫০ টাকা। ওঠার আগে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন এতে কী কী আছে।
মেসে ফ্যান নষ্ট হলে বা কল দিয়ে পানি পড়লে মেরামতের টাকা কে দেবে?
শেয়ার করা জিনিস স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হলে বর্তমান সদস্যরা সমান ভাগ করে দেবে। সাতজনের মেসে ৩৫০ টাকার ফ্যান মেরামত মানে জনপ্রতি ৫০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মেরামতটা বাড়িওয়ালার দায়িত্ব হলে আগে তাকে বলুন; আর কেউ স্পষ্টভাবে ভেঙে ফেললে পরের প্রশ্নটা দেখুন।
কেউ মেসের জিনিস ভেঙে ফেললে কি পুরো টাকা তাকেই দিতে হবে?
হ্যাঁ, একজনের অসাবধানতায় নষ্ট হলে পুরো খরচ তারই, আর স্বাভাবিক ক্ষয় হলে সবাই ভাগ করে। কেউ ২,৮০০ টাকার রাইস কুকার ভেঙে ফেললে পুরো ২,৮০০ টাকা শুধু তার নামে যাবে। মেস খাতায় কাস্টম অ্যামাউন্ট দিয়ে খরচটা একজনের উপর বসানো যায়, তাই সেটা শুধু তার ব্যালেন্সেই দেখায়।
মেসে কাউকে জরিমানা করলে সেটা কিভাবে হিসাবে তুলব?
আগে জরিমানার নিয়ম লিখে রাখুন, তারপর যে নিয়ম ভাঙল শুধু তার উপর জরিমানা ধরুন। যেমন বদলি ঠিক না করে বাজারের দিন বাজার না করলে ১০০ টাকা। মেস খাতায় জরিমানা হলো ওই একজন সদস্যের উপর কাস্টম অ্যামাউন্টের একটা খরচ, তাই সেটা তার ব্যালেন্সে যায়, আর অ্যাক্টিভিটি লগে দেখা যায় কে কখন যোগ করেছে।
একজন ভাড়া দেয়নি কিন্তু বাড়িওয়ালা পুরো ভাড়া চাইছে, এখন কী করব?
বাড়িওয়ালাকে সময়মতো পুরো ভাড়া দিন, ঘাটতিটা কেউ আপাতত দিয়ে দিক, আর দেরি করা সদস্যের নামে সেটা বাকি হিসেবে লিখুন। ভাড়া ৩০,০০০ টাকা আর একজনের ৪,০০০ টাকা বাকি থাকলে, যে ৪,০০০ টাকা দিল সে ক্রেডিট পাবে, আর দেরি করা সদস্যের ব্যালেন্সে ৪,০০০ টাকা দেনা দেখাবে। মেস খাতায় নেগেটিভ ব্যালেন্স মানে সদস্য মেসের কাছে দেনা, তাই কাউকে মাথায় হিসাব রাখতে হয় না।
ভাড়া কি সবাই আলাদা করে বাড়িওয়ালাকে দেবে, নাকি ম্যানেজার তুলে দেবে?
একজন, সাধারণত ম্যানেজার, সবার ভাগ তুলে একবারে বাড়িওয়ালাকে দেবে আর রসিদ নেবে। এতে বাড়িওয়ালা একজনের সাথেই লেনদেন করে, আর কারো ভাগ বাকি থাকলে বাড়িওয়ালার সাথে ঝামেলার আগেই ধরা পড়ে। সদস্যরা বিকাশ বা নগদে ট্রানজেকশন আইডি দিয়ে টাকা পাঠাতে পারে; মেস খাতায় সদস্যের ‘টাকা দিয়েছি’ রিপোর্ট ম্যানেজার অনুমোদন দিলে তবেই হিসাবে ধরে।
পুরো মাস বাড়ি থাকলেও কি মেসের ভাড়া দিতে হবে?
হ্যাঁ, সিট রাখতে চাইলে বাইরে থাকলেও পুরো ভাড়া দিতে হবে, কারণ বাড়িওয়ালা রুমের ভাড়া নেবেই। বাদ যায় খাবারের খরচ: পুরো মাস বাড়িতে থাকলে কোনো মিল নেই, তাই খাবার খরচ শূন্য। মেস খাতায় অনুপস্থিতির সময়টা দাগিয়ে দিলে তার মিল শূন্য হয়ে যায়, কিন্তু ভাড়ার ভাগ ঠিকই থাকে।
মেসে না থাকলে ভাড়া ছাড়া আর কোন কোন বিল দিতে হবে?
প্রচলিত নিয়ম হলো, বাইরে থাকা সদস্য ভাড়া আর নির্দিষ্ট কমন খরচ যেমন ওয়াইফাই আর সার্ভিস চার্জ দেবে, কিন্তু গ্যাস বা বুয়ার মতো ব্যবহারভিত্তিক খরচ দেবে না। তার ভাড়া ৪,০০০, ওয়াইফাই ১৫০ আর সার্ভিস চার্জ ২৫০ টাকা হলে সে মাসে দেবে ৪,৪০০ টাকা। নিয়মটা একবার ঠিক করে সবার জন্য একইভাবে চালান।
মাসের মাঝখানে নতুন মেম্বার উঠলে ভাড়া কিভাবে হিসাব করব?
দিন হিসেবে ভাড়া ধরুন: সিটের মাসিক ভাড়াকে মাসের দিন দিয়ে ভাগ করে যতদিন থাকবে তা দিয়ে গুণ করুন। ৩০ দিনের মাসে ৪,৫০০ টাকার সিটে কেউ ২১ তারিখে উঠলে ১০ দিন থাকে, ভাড়া ১,৫০০ টাকা। মেস খাতায় ওঠার মাসে কাস্টম ভাগে তার নামে এই টাকাটা বসান, পরের মাস থেকে স্বাভাবিকভাবে সবার সাথে রাখুন।
মাসের মাঝখানে মেস ছেড়ে দিলে কত টাকা ভাড়া দিতে হবে?
এটা আপনার নোটিশের নিয়মের উপর নির্ভর করে; অনেক মেসে এক মাসের নোটিশ লাগে, নোটিশ ছাড়া গেলে পুরো মাসের ভাড়া দিতে হয়। নোটিশ দিয়ে ৩০ দিনের মাসের ১০ তারিখে ৪,৫০০ টাকার সিট ছাড়লে দেবে ১,৫০০ টাকা। নোটিশ ছাড়া গেলে পুরো ৪,৫০০ টাকা দেবে, যদি না অন্য কেউ সেই সিটে ওঠে।
কেউ মেস ছেড়ে চলে গেলে তার সাথে হিসাব কিভাবে মেটাব?
চলে যাওয়ার তারিখ পর্যন্ত তার মোট খরচ আর মোট জমা মিলিয়ে দেখুন। সে ৮,০০০ টাকা দিয়ে থাকলে আর খরচ ৭,৩৫০ টাকা হলে মেস তাকে ৬৫০ টাকা ফেরত দেবে; উল্টো হলে যাওয়ার আগে সে বাকিটা দেবে। মেস খাতায় প্রত্যেক সদস্যের স্টেটমেন্টে ব্যালেন্সের পেছনের প্রতিটা লাইন থাকে, আর চলে যাওয়ার পরও তার পুরোনো এন্ট্রি থেকে যায়, তাই বন্ধ মাসের হিসাব ঠিক থাকে।
মেম্বার বদলালে বাড়িওয়ালার অ্যাডভান্সের টাকার কী হবে?
বাড়িওয়ালার অ্যাডভান্স সাধারণত যেমন আছে তেমনই থাকে, নতুন সদস্য চলে যাওয়া সদস্যকে তার অংশটা দিয়ে দেয়। আট সিটের জন্য অ্যাডভান্স ৪০,০০০ টাকা হলে প্রতি সিটের অংশ ৫,০০০ টাকা, তাই নতুন সদস্য চলে যাওয়া জনকে ৫,০০০ টাকা দেবে। হস্তান্তরটা লিখে রাখুন, যাতে শেষে বাড়িওয়ালার ফেরত টাকা সেই সময় সিটে যে আছে সে পায়।
ভাড়া আর ওয়াইফাই বিল প্রতি মাসে অটো যোগ করার উপায় কী?
মাসিক নির্দিষ্ট খরচগুলোর একটা তালিকা রাখুন আর প্রতি মাসের শুরুতে সেটা বসিয়ে দিন, বারবার টাইপ না করে। মেস খাতায় ভাড়া, ওয়াইফাই এ ধরনের খরচ রিকারিং টেমপ্লেট হিসেবে সেভ করে এক বাটনে পুরো মাসের জন্য বসানো যায়; দুইবার চাপলেও দুইবার বিল হয় না। টাকার পরিমাণ বদলালে শুধু তখন টেমপ্লেটটা বদলান।
বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ালে বাড়তি টাকা সবার মধ্যে কিভাবে ভাগ করব?
আগের অনুপাত ঠিক রেখে সবার ভাগ একই শতাংশে বাড়ান। ভাড়া ২৪,০০০ থেকে ২৬,৪০০ টাকা হলে বেড়েছে ১০%, তাই যে রুমগুলো ১০,০০০, ৮,০০০ আর ৬,০০০ দিত তারা এখন দেবে ১১,০০০, ৮,৮০০ আর ৬,৬০০ টাকা, যোগফল ২৬,৪০০। যে মাস থেকে ভাড়া বাড়ছে সেই মাসে রিকারিং ভাড়ার পরিমাণও বদলে দিন।
মেসের জন্য ফ্রিজ বা পানির ফিল্টার কিনলে খরচ কিভাবে ভাগ হবে?
একবারের কেনাকাটা কেনার সময় মেসে যারা আছে তাদের মধ্যে সমান ভাগ করুন, আর কেউ চলে গেলে কী হবে সেটা আগেই ঠিক করুন। ৩,৬০০ টাকার পানির ফিল্টার ছয়জনে জনপ্রতি ৬০০ টাকা। বেশিরভাগ মেসে নিয়ম সহজ রাখে: জিনিসটা মেসেই থাকে, চলে গেলে কিছু ফেরত পায় না, যদি না সবাই মিলে কিনে নেওয়ার দাম ঠিক করে।
মেস ম্যানেজারকে কি ভাড়ায় কিছু ছাড় দেওয়া উচিত?
এটা মেসের সিদ্ধান্ত, দিলে একটা নির্দিষ্ট টাকা ঠিক করুন যা বাকিরা খোলাখুলি ভাগ করে নেবে। ছয়জনের মেসে ৩০,০০০ টাকা ভাড়ায় ম্যানেজারকে ৬০০ টাকা ছাড় দিলে ম্যানেজার দেবে ৪,৪০০ টাকা আর বাকি পাঁচজন ৫,১২০ টাকা করে, মোট তবুও ৩০,০০০। মেস খাতায় কাস্টম অ্যামাউন্ট দিয়ে এটা লেখা যায়, আর ভাগটা সব সদস্যই দেখতে পায়।
ইউটিলিটি বিল জনপ্রতি ভাগ করা ভালো নাকি রুম প্রতি?
কারেন্ট, পানি আর গ্যাসের বিল সাধারণত জনপ্রতি ভাগ করাই ন্যায্য, কারণ খরচ রুমের সংখ্যায় না, মানুষের সংখ্যায় বাড়ে। সিঙ্গেল, ডাবল আর তিনজনের রুম মিলে ছয়জন থাকলে ৩,০০০ টাকার বিল জনপ্রতি ৫০০ টাকা; রুম প্রতি ধরলে প্রতি রুম ১,০০০ টাকা, অর্থাৎ সিঙ্গেলের একজন দেবে ১,০০০ আর তিনজনের রুমে প্রত্যেকে প্রায় ৩৩৩ টাকা। রুমের সাইজ ভাড়ার জন্য রাখুন, ইউটিলিটির জন্য না।
কারো আত্মীয় এক সপ্তাহ মেসে থাকলে কি তাকে বাড়তি টাকা দিতে হবে?
হ্যাঁ, অতিথি কয়েক রাত থাকলে কারেন্ট, পানি আর গ্যাস খরচ বাড়ে, তাই যার অতিথি তার উপর রাতপ্রতি অল্প টাকা ধরা ন্যায্য। রাতে ৫০ টাকা হলে ছয় রাত থাকা অতিথির জন্য হোস্টের ভাগে ৩০০ টাকা যোগ হবে। রেটটা আগে থেকে ঠিক করুন আর শুধু হোস্টের উপর ধরুন, পুরো মেসের উপর না।
কেউ মাসের অর্ধেক মেসে ছিল, তার কারেন্ট বিল কিভাবে ধরব?
উপস্থিত দিনের হিসাবে (পারসন-ডে) ভাগ করুন, তাহলে যে অর্ধেক মাস ছিল সে অর্ধেক দেবে। ৩,১০০ টাকার বিলে পাঁচজন ৩০ দিন আর একজন ৫ দিন থাকলে মোট ১৫৫ পারসন-ডে, দিনপ্রতি ২০ টাকা; পাঁচজন দেবে ৬০০ টাকা করে আর ষষ্ঠজন ১০০ টাকা। পরীক্ষার ছুটির মতো সময়ে যখন বেশিরভাগই বাড়ি যায়, তখন এই নিয়ম বেশি কাজে দেয়।
ভাড়া আর বিল যে সত্যিই দেওয়া হয়েছে, মেম্বারদের কিভাবে প্রমাণ দেখাব?
বাড়িওয়ালার ভাড়ার রসিদ আর প্রতিটা বিল বা রিচার্জের স্লিপ রাখুন, আর টাকা দেওয়ার সাথে সাথে মেসের গ্রুপে ছবি দিন। তাহলে প্রত্যেকে নিজের চার্জের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে। মেস খাতায় একটা অ্যাক্টিভিটি লগ আছে যা সব সদস্য দেখতে পায়, কে কোন খরচ কখন লিখেছে বা বদলেছে, আর মাসের সেটেলমেন্ট পিডিএফ গ্রুপে দেওয়া যায়।
প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক
মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।
আরও প্রশ্নোত্তর
- মেস খাতা কী, আর মেসের একদম শুরুর কথা
- মিল রেট আর মিল গোনা নিয়ে সব প্রশ্ন
- মেসের বাজার নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর
- মাস শেষের মেসের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের জমা আর পেমেন্ট
- মেস ম্যানেজার হওয়া: প্রশ্ন আর উত্তর
- মেসের নিয়ম ও দৈনন্দিন জীবন
- হোস্টেল, হল ডাইনিং আর ছাত্রদের বাজেট নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের সিট বা রুম খোঁজা
- মেসে টাকা বাঁচানোর উপায়
- মেস খাতা দিয়ে শুরু করবেন যেভাবে
- মেস খাতার ফিচারগুলো কিভাবে কাজ করে
- খরচ, প্রাইভেসি আর নিরাপত্তা
- মেস অ্যাপের তুলনা আর বিকল্প