মেস খাতা

মেস খাতা সম্পর্কে

যারা একসঙ্গে রান্না করে খান আর খরচ ভাগ করেন — মেস, হোস্টেল, শেয়ার্ড ফ্ল্যাট — তাদের জন্য মেস খাতা। প্রতিদিনের মিল আর বাজারের হিসাব রাখে, আর সেটাকে এমন একটা সংখ্যায় নিয়ে যায় যেটা সবাই মিলিয়ে দেখতে পারে।

যে সমস্যাটার সমাধান

যেখানে সবাই একসঙ্গে খায়, সেখানে কেউ না কেউ খাতা রাখে। মিল ওঠে এক পাতায়, বাজার আরেক পাতায়, আর যে বাজারে গিয়েছিল তার পাওনা কোথাও লেখা থাকে না। মাস শেষে দুই পাতা মেলে না, আর ঝগড়াটা আসলে টাকা নিয়ে নয় — সংখ্যাটা কোথা থেকে এল সেটা কেউ দেখাতে পারে না বলে।

হিসাবটা কঠিন নয়। মাসের মোট বাজার খরচকে মোট মিল দিয়ে ভাগ করলেই মিল রেট। সেটাকে একজনের মিল দিয়ে গুণ করলে তার খাওয়ার খরচ। কঠিন কাজটা সূত্র নয় — ত্রিশ দিনের ছোট ছোট এন্ট্রি এক জায়গায় রাখা, যেটা সবাই বিশ্বাস করে।

কীভাবে কাজ করে

প্রত্যেকে নিজের মিল তুলে রাখেন, বা একটা রুটিন সেট করে দেন যাতে সাধারণ দিনগুলো নিজে থেকেই ভরে যায়। যে বাজার করেন তিনি খরচটা তোলেন, চাইলে আইটেম ধরে ধরে — পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি মাছ, কোনটার কত।

ভাড়া, বিল আর জরিমানা আলাদা করে ওঠে। কেউ রাতের খাবার না খেলে ভাড়া কমে না, তাই ওগুলো মাথাপিছু ভাগ হয় আর মিল রেটের বাইরে থাকে।

মাস শেষে হিসাব দেখায় রেট কত, কে কত খেয়েছে, কে কত জমা দিয়েছে আর পার্থক্য কত — প্রতিটা সংখ্যার পাশে সেটা কীভাবে এল সেটাও। মাস বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাতে সংখ্যাগুলো আর নড়ে না।

কেউ নিজের পকেট থেকে খরচ করলে সেটা আলাদা করে চিহ্নিত হয় আর তার পাওনায় যোগ হয় — তবে ম্যানেজার অনুমোদন করার পরেই। নিজের পাওনা নিজে বসিয়ে নিতে পারলে সেটা আর পাওনা থাকে না, আর ওই অনুমোদনটাই বাকি খাতাটাকে বিশ্বাসযোগ্য রাখে।

বাংলা আর ইংরেজি

পুরো অ্যাপ দুই ভাষাতেই, বাংলা সংখ্যা সহ, আর ভাষা বদলানো সব জায়গা থেকেই এক ট্যাপ দূরে। প্রথমে বাংলাদেশের মেসের কথা ভেবেই বানানো — শব্দটা আর চলটা যেখান থেকে এসেছে — আর যেখানেই মানুষ একসঙ্গে খায়, একইভাবে কাজ করে।

খরচ কত

কিছু না। কার্ডের ঘর নেই, ট্রায়াল নেই, আর এখন পর্যন্ত কোনো পেইড প্ল্যানও নেই। কখনও বদলালে আগে থেকে থাকা মেসগুলোকে অ্যাকাউন্টে কিছু বদলানোর আগেই জানানো হবে।