মেস খাতা

মেসের নিয়ম ও দৈনন্দিন জীবন

সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন

বাংলাদেশের ব্যাচেলর মেস প্রতিদিন কিভাবে চলে: কোন নিয়মগুলো লিখে রাখা দরকার, মিল আর বুয়া, রমজান ও ঈদ, আর ঝগড়া বড় হওয়ার আগেই মিটিয়ে ফেলার উপায়।

ব্যাচেলর মেসে কী কী নিয়ম থাকা দরকার?

একটা ব্যাচেলর মেসে ছোট একটা লিখিত নিয়ম থাকা দরকার: মিল অন/অফের নোটিশ, গেস্ট, পরিষ্কারের ডিউটি, গেট বন্ধের সময়, চুপ থাকার সময়, ধূমপান, শেয়ার করা জিনিস আর মেস ছাড়ার নোটিশ। দশ থেকে পনেরো লাইনই যথেষ্ট, এর বেশি লম্বা হলে কেউ পড়ে না। মিটিংয়ে সবাই মিলে ঠিক করুন, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপে পিন করে দিন, আর একটা প্রিন্ট রান্নাঘরের কাছে লাগিয়ে রাখুন। নিয়ম ভাঙলে কী হবে সেটাও এক লাইনে লিখে দিন, যাতে পরে কেউ বলতে না পারে যে জানত না।

মেসের নিয়ম সবাইকে দিয়ে কিভাবে মানাব?

নিয়ম তখনই মানা হয় যখন সবাই মিলে ঠিক করেছে, লিখিত আছে, আর ম্যানেজারসহ সবার জন্য একইভাবে খাটে। নতুন কেউ এলে নিয়মগুলো পড়ে শোনান আর গ্রুপে তাকে রাজি আছে বলে জানাতে বলুন। প্রতিটা নিয়ম যাচাই করার মতো রাখুন: “আগের রাত ১০টার মধ্যে মিল অফ” কাজ করে, “সবাই খেয়াল রাখবেন” কাজ করে না। কয়েক মাস পরপর তালিকা দেখে যে নিয়ম কেউ মানায় না সেটা বাদ দিন, কারণ একটা নিয়ম অমান্য হলে বাকিগুলোও দুর্বল হয়ে যায়।

মেসে মিল অফ করার জন্য কতক্ষণ আগে জানানো উচিত?

সাধারণ নিয়ম হলো আগের রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, যেমন রাত ১০টায়, মিল অফ জানাতে হবে, কারণ পরদিনের বাজার আর বুয়া কতটুকু রান্না করবে সেটা তখনই ঠিক হয়। কিছু মেস একই দিনে সকাল ১০টা পর্যন্ত বদলাতে দেয়। একটা সময় বেছে নিয়ে সেটাই মেনে চলুন। মেস খাতায় ম্যানেজার সেটিংসে এই কাটঅফ ঠিক করতে পারেন: আগের সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময়, সেদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বা দিনের শেষে; এরপর সদস্যের ওই দিনের এন্ট্রি লক হয়ে যায়।

কাটঅফ টাইম পার হয়ে গেলে কি মিল বদলানো যায়?

সাধারণত না; কাটঅফ পার হলে মিল ধরা হয়, কারণ বাজার কেনা বা রান্না হয়ে গেছে। হঠাৎ বাড়ি যাওয়া বা অসুস্থতার মতো সত্যিকারের জরুরি অবস্থায় ব্যতিক্রম করুন, আর সিদ্ধান্ত ম্যানেজারকে নিতে দিন। মেস খাতায় সদস্য ওই দিনটা লক দেখবেন আর ম্যানেজারকে বলতে হবে; ম্যানেজার তখনও ঠিক করতে পারেন, আর সেই পরিবর্তন অ্যাক্টিভিটি লগে ওঠে যা সব সদস্য দেখতে পারেন।

বুয়াকে প্রতিদিন কয়টা মিল রান্না করতে হবে সেটা কিভাবে জানাব?

প্রতিদিন একই সময়ে, মিল অফের কাটঅফের ঠিক পরে, প্রতি বেলার জন্য বুয়াকে একটা সংখ্যা বলে দিন। যেমন ১২ জন খায়, ৩ জন দুপুরের মিল অফ করেছে আর একজনের গেস্ট আছে, তাহলে দুপুরে রান্না হবে ১০ জনের। সামনাসামনি বা একটা ছোট মেসেজে বলুন, যাতে ভাত-তরকারির পরিমাণ নিয়ে গোলমাল না হয়। সবাই কাটঅফের আগে নিজের মিল তুলে রাখলে হিসাব করতে দুই মিনিটও লাগে না।

মেসে গেস্টের মিল কিভাবে হিসাব করে?

গেস্টের মিল যে সদস্য তাকে এনেছে তার মিলের সাথে যোগ হয়, তাই গেস্ট যা খেল তার দাম সেই সদস্যই দেবেন। রহিম যদি সাধারণত দিনে ২টা মিল খায় আর তার কাজিন দুপুর ও রাতে তার সাথে খায়, তাহলে ওই দিন রহিমের মিল ৪টা। কাটঅফের আগে ম্যানেজারকে জানান যাতে বুয়া পর্যাপ্ত রান্না করে। মেস খাতাও গেস্টকে এভাবেই রাখে, হোস্টের মিলে বাড়তি মিল হিসেবে, আর আধা মিলের জন্য ০.৫ এর মতো দশমিকও চলে।

ব্যাচেলর মেসে কি গেস্ট রাতে থাকতে পারবে?

এটা আপনাদের মেসের নিয়ম আর বাড়িওয়ালার উপর নির্ভর করে, তাই প্রতিবার আলাদা সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটা পরিষ্কার নিয়ম লিখে রাখুন। কাজের নিয়ম হতে পারে: ম্যানেজার আর রুমমেটকে আগে জানিয়ে এক-দুই রাত, আর গেস্টের খাওয়া ও আচরণের দায় হোস্টের। এর বেশি থাকতে হলে পুরো মেসের সম্মতি লাগা উচিত, কারণ গেস্টও বিদ্যুৎ, পানি আর বাথরুমের সময় ব্যবহার করে।

মেসে পরিষ্কার করার ডিউটি রোস্টার কিভাবে বানাব?

সব শেয়ার করা কাজের তালিকা করুন, যেমন বারান্দা ঝাড়ু, বাথরুম পরিষ্কার, ময়লা ফেলা আর রান্নাঘর মোছা, তারপর সাপ্তাহিক ঘুরিয়ে দিন যাতে সবার পালা আসে। নাম আর তারিখসহ রোস্টার লিখে গ্রুপে পিন করুন আর দেয়ালে লাগান। নিজের রুম প্রত্যেকে নিজে পরিষ্কার রাখবেন। মেস যদি এর বদলে বুয়া রাখে, তার বেতন মাসিক শেয়ার খরচ, যা মেস খাতায় ভাড়া আর ওয়াইফাইয়ের মতো খরচের ঘরে রাখা যায়।

মেসে পড়াশোনার জন্য চুপ থাকার সময় কখন রাখা উচিত?

সাধারণ নিয়ম হলো রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চুপ থাকার সময়, তখন জোরে গান, স্পিকারে ফোন বা শেয়ার করা রুমে গেম চলবে না। পরীক্ষার সময় কেউ চাইলে আরও কড়া নিয়ম রাখা যায়, আর বাকিদের মেনে নেওয়া উচিত। ঠিক কোন সময় সেটা নিয়মে লিখে দিন আর হেডফোন ব্যবহারকে স্বাভাবিক নিয়ম বানান। আলাদা রুটিনের রুমমেটরা রুমের লাইট-ফ্যান নিয়ে আগে নিজেরাই ঠিক করে নিন।

মেসের ভেতরে কি সিগারেট খাওয়া চলবে?

বেশিরভাগ মেসে রুম, রান্নাঘর আর বারান্দায় ধূমপান নিষেধ রেখে শুধু ছাদে বা বাইরে খাওয়ার অনুমতি দিলেই ভালো চলে, কারণ ধোঁয়া আর ছাই সবার সমস্যা আর অনেক বাড়িওয়ালাও এটা নিষেধ করেন। কেউ ওঠার আগেই নিয়মটা পরিষ্কার করে বলুন, যাতে যারা ধূমপান করেন তারা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ভেতরে ধূমপানের জন্য জরিমানা রাখলে টাকার অঙ্ক নিয়মে লিখুন আর সবার জন্য একইভাবে প্রয়োগ করুন।

মেসের গেট বন্ধের সময় নিয়ে নিয়ম কী হওয়া উচিত?

গেট বন্ধের সময় সাধারণত বাড়িওয়ালা বা দারোয়ান ঠিক করেন, তাই তাদের সময় ধরেই মেসের নিয়মে লিখে দিন। তারপর লিখুন দেরি হলে সদস্য কী করবেন: আগে থেকে ম্যানেজার বা রুমমেটকে জানাবেন আর নিশ্চিত করবেন কেউ দরজা খুলে দিতে পারবে। কার কাছে চাবি আছে তার একটা তালিকা রাখুন, আর বাড়তি চাবি মেসের বাইরের কারও হাতে যেতে দেবেন না।

মাসের মাঝখানে নতুন মেম্বার আসলে কিভাবে হিসাব করব?

যেদিন থেকে খাওয়া শুরু করবেন সেদিন থেকে তার মিল গুনুন, আর ওঠার আগেই ঠিক করে নিন ভাড়া, ওয়াইফাইয়ের মতো স্থায়ী খরচ বাকি মাসের জন্য কিভাবে দেবেন। যেমন ৩০ দিনের মাসে সিট ভাড়া ৩,০০০ টাকা আর তিনি ১৬ তারিখে উঠলে ১৫ দিনের ভাড়া হয় ১,৫০০ টাকা। মেস খাতায় ম্যানেজার ইনভাইট কোড শেয়ার করেন, নতুন সদস্য যোগ দেন, প্রথম যেদিন মিল তোলা হয় সেদিন থেকেই তার মিল শুরু হয়, আর আংশিক মাসের ভাগ কাস্টম অঙ্কে বসানো যায়।

মেস ছাড়ার আগে কতদিনের নোটিশ দিতে হয়?

এক মাসের নোটিশই সাধারণ নিয়ম, কারণ সিট ভরাতে মেসের সময় লাগে আর ভাড়া মাস ধরে দেওয়া থাকে। অনেক মেস এর সাথে যোগ করে যে নোটিশ ছাড়া চলে গেলে নতুন কেউ না ওঠা পর্যন্ত পরের মাসের সিট ভাড়া দিতে হবে। নোটিশের সময় আর এই শর্তটা সদস্য ওঠার সময়ই নিয়মে লিখে রাখুন, ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় না।

একেবারে মেস ছেড়ে যাওয়ার আগে কী কী করতে হয়?

যাওয়ার আগে সদস্যের উচিত নিজের হিসাব মিটিয়ে দেওয়া, চাবি ফেরত দেওয়া, ফ্রিজ আর রান্নাঘর থেকে নিজের জিনিস নিয়ে যাওয়া, আর বাজারের পালার মতো কোনো দায়িত্ব থাকলে বুঝিয়ে দেওয়া। শেষ যেদিন খাবেন তার পরদিন থেকে ম্যানেজার তার মিল বন্ধ করবেন। মেস খাতায় সদস্য নিজেকে মেস থেকে সরিয়ে দিলেই বের হয়ে যান, আর তার আগের এন্ট্রিগুলো থেকে যায় যাতে বন্ধ হওয়া মাসগুলোর হিসাব মেলে।

মেসের জন্য বুয়া বা খালা কিভাবে খুঁজব?

আশেপাশের মেস, দারোয়ান বা বাড়িওয়ালার কাছে এমন বুয়া খুঁজুন যিনি এলাকায় আগে থেকেই কাজ করেন, কারণ যাচাই করা যায় এমন রেফারেন্সই সবচেয়ে জরুরি। কোন কোন বেলা রান্না করবেন, মাসিক বেতন কত, ছুটি কবে, আর থালাবাসন ধোয়া বা বাজারে সাহায্য করবেন কিনা সব পরিষ্কার করে ঠিক করুন। পাকা করার আগে কয়েকদিন ট্রায়াল দিন, আর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে বেতন দিন। মেস খাতায় বুয়ার বেতন খাবারের বাইরের খরচ হিসেবে সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়।

নতুন বুয়ার সাথে প্রথম দিনেই কী কী ঠিক করে নেওয়া উচিত?

রান্নার সময়, প্রতিদিনের মিলের সংখ্যা তিনি কিভাবে জানবেন, বাজার কে বুঝিয়ে দেবে, তেল-লবণ-মসলা কতটুকু দেবেন, আর রান্নাঘর ও হাঁড়িপাতিল কতটা পরিষ্কার রেখে যাবেন সব ঠিক করুন। মেসের কে তার সাথে কথা বলবেন সেটাও ঠিক করুন, সাধারণত ম্যানেজার, যাতে দশজনের দশ রকম নির্দেশ না আসে। সাপ্তাহিক ছুটি আর ছুটির দিনে খাওয়া কিভাবে চলবে সেটাও ঠিক করুন। শুরুতে একটা ছোট, সম্মানজনক আলাপ পরের বেশিরভাগ ঝামেলা এড়ায়।

বুয়া না আসলে মেসে খাওয়া-দাওয়া কিভাবে চলবে?

ঘটার আগেই নিয়মে একটা বিকল্প ব্যবস্থা লিখে রাখুন: সদস্যরা পালা করে ভাত, ডাল আর ডিমের মতো সহজ রান্না করবেন, পাশের হোটেল থেকে আনা হবে, বা সেদিন মিল অফ থাকবে। কয়টা ছুটি বেতনসহ আর না জানিয়ে না এলে বেতন কাটা হবে কিনা সেটাও আগে ঠিক করুন। বারবার না এলে একবার পরিষ্কার কথা বলুন, তারপর রেফারেন্স দিয়ে নতুন বুয়া খোঁজা শুরু করুন।

মেসের রান্না খারাপ হলে অভিযোগ কিভাবে করব?

অভিযোগ ম্যানেজারকে করুন, সবার সামনে সরাসরি বুয়াকে না, আর নির্দিষ্ট করে বলুন: তেল বেশি, ভাত কাঁচা, মাছ টাটকা ছিল না। ম্যানেজার শান্তভাবে বুয়াকে জানাবেন আর দেখবেন সমস্যা বুয়ার, বাজারের মানের, নাকি বাজেটের। একই সমস্যা বারবার হলে মাসিক মিটিংয়ে তুলুন। মেস খাতায় প্রতিটা বাজারে ৩টা পর্যন্ত রসিদের ছবি যোগ করা যায়, তাই বুয়াকে দোষ দেওয়ার আগে সবাই দেখতে পারেন কী কেনা হয়েছিল।

মেসে প্রতিদিন কী রান্না হবে সেটা কে ঠিক করে?

সাধারণত ম্যানেজার সদস্যদের জিজ্ঞেস করে মেনু ঠিক করেন আর পুরো সপ্তাহের মেনু শেয়ার করেন, যাতে বাজারের পরিকল্পনা করা যায়। সাত দিনের সকাল, দুপুর আর রাতের সাপ্তাহিক মেনু থাকলে রোজকার তর্ক থামে আর বুয়ারও সুবিধা হয়। পছন্দের খাবারগুলো ঘুরিয়ে দিন আর সপ্তাহে দুই-এক দিন সাদামাটা, কম খরচের রাখুন। মেস খাতায় সাপ্তাহিক মেনু আছে যা ম্যানেজার এডিট করেন আর সবাই দেখতে পারেন, আর আজকের মেনু ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়।

মেসের শেয়ার করা ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম কী রাখা ভালো?

ফ্রিজকে মেসের খাবার আর ব্যক্তিগত খাবারে ভাগ করুন, আর ব্যক্তিগত জিনিসে নাম ও তারিখ লিখে রাখুন। মেসের খাবার শুধু মেসের রান্নার জন্য, আর ব্যক্তিগত খাবার জিজ্ঞেস না করে কেউ নেবে না। সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট দিনে এক সপ্তাহের বেশি পুরনো জিনিস ফেলে দিন, আর ফ্রিজ পরিষ্কার ডিউটি রোস্টারে রাখুন। জায়গা কম হলে প্রত্যেককে একটা নির্দিষ্ট তাক বা বক্স দিন।

কেউ বারবার অন্যের জিনিস ব্যবহার করলে কী করব?

প্রথমে আলাদা করে তাকে বলুন, কারণ কেউ কেউ সত্যিই ভাবেন তেল, সাবান বা চা সবার জন্য। তারপরও চললে ম্যানেজার গ্রুপে একটা পরিষ্কার নিয়ম দিন: ব্যক্তিগত জিনিস অনুমতি ছাড়া না, আর শেয়ার করা জিনিস মেসের ফান্ড থেকে কেনা হবে। থালা ধোয়ার লিকুইড আর টয়লেট ক্লিনারের মতো সবাই যা ব্যবহার করে, সেগুলো পুরো মেসের জন্য কেনাই সহজ। মেস খাতায় একটা শেয়ার করা বাজার লিস্ট আছে, যেখানে যে কেউ শেষ হয়ে যাওয়া জিনিস যোগ করতে পারেন।

রমজানে মেসে সেহরি আর ইফতার কিভাবে ম্যানেজ করব?

প্রথম রোজার আগেই রমজানের রুটিন ঠিক করুন: সূর্যাস্তে ইফতার, কেউ চাইলে পরে রাতের খাবার, আর ফজরের আগে সেহরি। বুয়াকে সন্ধ্যায় আসতে হতে পারে, আর হয় রাতে সেহরি রান্না করবেন নয়তো গরম করার জন্য রেখে যাবেন, তাই তার সময় নতুন করে ঠিক করুন। সেহরিতে কে উঠে খাবার গরম করে দেবে সেটা পালা করে ঠিক করুন। সাপ্তাহিক মেনুও বদলান, কারণ ছোলা, পিঁয়াজু আর খেজুরের মতো ইফতারের জিনিসে বাজার বদলে যায়।

রোজার মাসে রোজাদারদের মিল কিভাবে গুনব?

রোজাদার সদস্যের মিল হিসেবে সেহরি আর ইফতার গুনুন, আর দুপুরের মিল শূন্য রাখুন। ইফতার পুরো মিল নাকি আধা মিল, যেমন সেহরি ১ আর ইফতার ০.৫, সেটা রমজানের আগেই ঠিক করে সবার জন্য একইভাবে চালান। মেস খাতায় সদস্য রমজানের প্রথম দিন থেকে নিজের স্ট্যান্ডিং মিল প্ল্যান বদলাতে পারেন, সকাল আর রাতের ঘরে সেহরি আর ইফতার রেখে, আর পরিবর্তনটা ওই তারিখ থেকে চালু হয়, আগের দিনগুলো বদলায় না।

রমজানে কেউ রোজা রাখে আর কেউ রাখে না, তখন মেসে খাওয়া কিভাবে চলবে?

যারা রোজা রাখছেন না, যেমন অসুস্থ, সফরে থাকা বা অন্য ধর্মের সদস্য, তাদের জন্য ছোট করে দুপুরের রান্না চালু রাখুন, আর রোজাদাররা দুপুরের মিল অফ করবেন। তখন বুয়াকে প্রতিদিন দুইটা সংখ্যা দিতে হবে: দুপুরে কয়জন, আর ইফতার-সেহরিতে কয়জন। যারা রোজা রাখছেন না তাদের দিনের বেলা শেয়ার করা জায়গায় খাওয়ার সময় একটু খেয়াল রাখতে বলুন, আর নিশ্চিত করুন কেউ না খাওয়া মিলের টাকা দিচ্ছেন না।

ঈদে সবাই বাড়ি গেলে মেসের কী হয়?

বেশিরভাগ মেস ঈদের কয়দিন রান্না বন্ধ রাখে আর সদস্যরা যতদিন বাইরে থাকবেন ততদিন মিল অফ করেন। কোন তারিখগুলোতে বন্ধ থাকবে আগেই ঠিক করুন, বুয়াকে ছুটি দিন, আর যাওয়ার আগে কাঁচা খাবার শেষ করে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। ভাড়া আর ওয়াইফাইয়ের মতো স্থায়ী খরচ যথারীতি চলবে। মেস খাতায় প্রত্যেক সদস্য যে তারিখগুলোতে বাইরে থাকবেন সেটা দাগিয়ে দিতে পারেন, আর ওই পুরো সময়ের জন্য শূন্য বসে যায়।

ঈদে যারা মেসে থেকে যায় তারা খাবে কিভাবে?

মাত্র দুই-তিনজন থাকলে পুরো রান্নাঘর চালু না রেখে নিজেরা রান্না করা বা বাইরে খাওয়াই সাধারণত সহজ। মেসের চাল, তেল বা গ্যাস ব্যবহার করলে সেটা তাদের মিল হিসেবে তুলুন বা অল্প একটা অঙ্ক ঠিক করুন, যাতে যারা বাইরে আছেন তাদের উপর অন্যায় না হয়। চাবি কার কাছে থাকবে, গ্যাস আর বিদ্যুৎ কে দেখবে, আর অন্যদের রুমে কে নজর রাখবে সেটাও ঠিক করে নিন।

মেসের বুয়াকে কি ঈদে বোনাস আর ছুটি দিতে হয়?

হ্যাঁ, বুয়াকে বেতনসহ ছুটি আর ঈদ বোনাস দেওয়াই প্রচলিত, আর সারা বছর মেস চালু রাখেন অনেকটা তিনিই। রমজানের আগে মিটিংয়ে অঙ্কটা ঠিক করুন যাতে কেউ অবাক না হয়, আর তার বেতনের মতোই সদস্যদের মধ্যে ভাগ করুন। এটা আলাদা খরচের লাইন হিসেবে রাখুন যাতে সবাই দেখতে পান। মেস যতদিন বন্ধ তার চেয়ে বেশিদিন তিনি ছুটিতে থাকলে কবে ফিরবেন আর ততদিন খাওয়া কিভাবে চলবে সেটা ঠিক করে নিন।

মেসে কেউ অসুস্থ হলে তার খাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে?

অসুস্থ সদস্যকে ইচ্ছামতো মিল অন-অফ করতে দিন, আর চাইলে বুয়াকে নরম ভাত আর পাতলা ডাল, স্যুপ বা খিচুড়ির মতো হালকা খাবার করতে বলুন। স্যুপ, ফল বা ডাক্তারের দেওয়া আলাদা খাবারের খরচ শুধু তার নাকি সবার, সেটা ঠিক করুন। রুমমেটরা খোঁজ নেবেন, ওষুধে সাহায্য করবেন, আর অবস্থা খারাপ হলে পরিবারকে জানাবেন। তিনি মিল তুলতে না পারলে মেস খাতায় ম্যানেজার তার হয়ে মিল তুলে দিতে পারেন।

মেসের দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হলে কিভাবে মেটাব?

আগে দুজনকে আলাদা করুন, তারপর প্রত্যেককে আলাদাভাবে ম্যানেজার বা এক-দুইজন নিরপেক্ষ সদস্যের কাছে বলতে দিন, আর খুঁজে বের করুন কোন নিয়ম বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটা হলো। মেসের ঝগড়া সাধারণত টাকা, শব্দ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা শেয়ার করা জিনিস নিয়ে শুরু হয়, তাই কারও পক্ষ না নিয়ে লিখিত নিয়মটা দেখান। একটা নির্দিষ্ট সমাধান ঠিক করে এক সপ্তাহ পর আবার খোঁজ নিন। হিসাব নিয়ে ঝগড়া হলে মেস খাতার অ্যাক্টিভিটি লগ সব সদস্যকে দেখায় কে কখন কী বদলেছে।

বারবার নিয়ম ভাঙলে কি কাউকে মেস থেকে বের করে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, যদি লিখিত নিয়মে সেটা থাকে, তবে ন্যায্য প্রক্রিয়া মেনে: আগে মুখে সতর্ক করা, তারপর গ্রুপে লিখিত সতর্কতা, তারপর মিটিংয়ে বেশিরভাগের সিদ্ধান্তে একটা যুক্তিসঙ্গত তারিখ, সাধারণত মাসের শেষ। যাওয়ার আগে তার হিসাব পুরোপুরি মিটিয়ে নিন, আর পরে ঝামেলা এড়াতে কারণগুলো লিখিতভাবে দিন। সিট বা চুক্তি তার নামে থাকলে আগে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলুন।

নিয়ম ভাঙলে মেসে জরিমানা রাখা কি ঠিক?

যাচাই করা সহজ এমন নিয়মে ছোট, নির্দিষ্ট জরিমানা ভালো কাজ করে, যেমন পরিষ্কারের পালা মিস করা বা মিল অফের নোটিশ না দেওয়া, তবে এটা কথা বলার বিকল্প না। অঙ্ক ছোট রাখুন, যেমন ডিউটি মিস করলে ৫০ টাকা, নিয়মে লিখে রাখুন, আর ম্যানেজারসহ সবার উপর প্রয়োগ করুন। জরিমানার টাকা কোনো একজনের কাছে না রেখে মেসের ফান্ডে সবার কাজে লাগান।

মেস খাতায় শুধু একজনের উপর জরিমানা কিভাবে বসাব?

জরিমানাটা কাস্টম অঙ্কে ভাগ করা খরচ হিসেবে যোগ করুন, পুরো অঙ্কটা ওই একজনের উপর রেখে, তাহলে শুধু তার ব্যালেন্সেই পড়বে। যেমন ভেতরে সিগারেট খাওয়ার জন্য ১০০ টাকা জরিমানা তার স্টেটমেন্টে দেখা যাবে, আর বাকি সবার মোট একই থাকবে। এন্ট্রিটা অ্যাক্টিভিটি লগে ওঠে, তাই যার জরিমানা হলো তিনি দেখতে পারেন কে কখন বসিয়েছে। তারিখ আর কোন নিয়ম ভাঙা হয়েছে সেটা গ্রুপেও জানিয়ে দিন।

সকালে মেসের বাথরুম নিয়ে লাইন লাগলে কী নিয়ম করব?

কে আগে ক্লাস বা অফিসে বের হন সেই অনুযায়ী সকালের একটা সহজ ক্রম ঠিক করুন, আর কাজের দিনে প্রত্যেকের জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিটের সীমা রাখুন। লম্বা গোসল আর কাপড় ধোয়া সন্ধ্যায় সরিয়ে নিন। প্রতিটা বাথরুমের জন্য পরিষ্কারের পালা আর শুকনো ও পরিষ্কার রেখে বের হওয়ার নিয়ম রাখুন। অনেকে এক বাথরুম শেয়ার করলে প্রতি সপ্তাহে ক্রম বদলান, যাতে একই জন সবসময় শেষে না পড়েন।

মেসের রান্নাঘরে কি নিজের জন্য আলাদা রান্না করা যায়?

বেশিরভাগ মেস চা, নুডলস বা ডিমের মতো ছোট রান্না করতে দেয়, যদি নিজের উপকরণ ব্যবহার করেন, সাথে সাথে পরিষ্কার করেন আর বুয়ার কাজে বাধা না দেন। গ্যাসের ব্যাপারটা ঠিক করুন: কেউ প্রায়ই নিজের জন্য রান্না করলে তার কাছে অল্প বাড়তি ভাগ চাওয়া ন্যায্য। কোন সময়ে নিজের রান্না চলবে সেটা লিখে দিন, যাতে মেসের রান্নার সময় বুয়ার অসুবিধা না হয়।

মেসে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে কী কী নিয়ম রাখা উচিত?

রুম খালি থাকলে লাইট-ফ্যান বন্ধ, ইস্ত্রি আর পানি গরমের হিটার অল্প সময় ব্যবহার, আর এসি, রুম হিটার বা ইন্ডাকশন চুলার মতো ভারী জিনিস আনার আগে মেসের সম্মতি, এই নিয়মগুলো ঠিক করুন। কেউ এমন জিনিস আনলে ঠিক করা বাড়তি অঙ্ক বা সাব-মিটারের ভাগ দেবেন। মেস খাতায় বিল কাস্টম অঙ্কে ভাগ করা যায়, তাই বাড়তি অংশটা শুধু যার জিনিস তার উপর পড়ে।

মেসে কতদিন পরপর মিটিং করা উচিত?

মাসের হিসাব শেষ হওয়ার ঠিক পরে মাসে একবার ছোট একটা মিটিংই বেশিরভাগ মেসের জন্য যথেষ্ট। এতে হিসাব দেখা, রান্নার মান নিয়ে কথা, নিয়ম পর্যালোচনা, পরের মাসের ম্যানেজার বা বাজারের পালা ঠিক করা, আর অভিযোগ বড় হওয়ার আগেই তোলা যায়। মোটামুটি ৩০ মিনিটে শেষ করুন আর সিদ্ধান্তগুলো পরে গ্রুপে লিখে দিন। মিটিংয়ের আগে মেস খাতার সেটেলমেন্ট পিডিএফ গ্রুপে শেয়ার করলে সময় বাঁচে।

প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক

মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।

আরও প্রশ্নোত্তর