মেসে টাকা বাঁচানোর উপায়
সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন
খাবারের মান না কমিয়ে মেসের খরচ কম রাখার কাজের উপায়: বুদ্ধি করে বাজার, কম অপচয়, কম বিল আর নিজের একটা টেকসই বাজেট। প্রতিটা উদাহরণে সহজ, বানানো সংখ্যা আছে, যাতে নিজের মেসের হিসাব নিজেই করে নিতে পারেন।
মেসের মিল রেট কিভাবে কমাব?
মিল রেট কমাতে হলে মিল নয়, মোট বাজার খরচ কমাতে হবে, কারণ মিল রেট = মোট বাজার ÷ মোট মিল। ধরুন মাসে বাজার ৳৩০,০০০ আর মোট মিল ৬০০, তাহলে রেট ৳৫০। অপচয়, হুটহাট কেনাকাটা আর বাড়তি রান্না মিলিয়ে ৳৩,০০০ কমালে রেট হবে ৳২৭,০০০ ÷ ৬০০ = ৳৪৫। আগে থেকে মেন্যু ঠিক করা, চাল-ডাল একসাথে কেনা, মৌসুমি সবজি আর বুক করা মিল অনুযায়ী রান্না সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।
বাজার খরচ একই, তবু মিল রেট বেড়ে গেল কেন?
কারণ একই বাজার খরচ এবার কম মিলে ভাগ হয়েছে। ৳২৪,০০০ বাজার ৬০০ মিলে ভাগ হলে রেট ৳৪০, কিন্তু কয়েকজন এক সপ্তাহ বাড়ি গিয়ে মিল ৪৮০-তে নামলে একই ৳২৪,০০০-এ রেট দাঁড়ায় ৳৫০। সমাধান হলো মানুষ কম থাকলে বাজার আর রান্নাও কমানো। মেস খাতায় সদস্যরা বাইরে থাকার দিনগুলো আগেই মার্ক করে রাখতে পারে, তাই বাজারের আগেই ম্যানেজার দেখতে পায় মিল কমছে।
পাইকারি বা কাঁচা বাজার থেকে কিনলে কি মেসের খরচ সত্যিই কমে?
চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলের মতো জিনিস বেশি পরিমাণে কিনলে সাধারণত কমে, তবে যাতায়াত খরচ আর সময় হিসাব করে দেখতে হবে। ধরুন সাপ্তাহিক পাইকারি বাজারে ৳৬০০ বাঁচল, কিন্তু সিএনজিতে যেতে-আসতে ৳১৫০ করে লাগল, তাহলে আসল সাশ্রয় ৳৩০০। টেকসই জিনিস পাইকারি থেকে একসাথে আনুন, আর শাক, মাছের মতো পচনশীল জিনিস অল্প অল্প করে বারবার কিনুন।
মেসের জন্য চাল কি বস্তা ধরে কেনা ভালো?
হ্যাঁ, যদি নষ্ট হওয়ার আগেই বস্তা শেষ হয় আর শুকনো, ঢাকা জায়গায় রাখার ব্যবস্থা থাকে। আগে মাসের চাহিদা বের করুন: ধরুন ১০ জন মিলে দিনে প্রায় ৬ কেজি চাল খান, তাহলে ৩০ দিনের মাসে লাগে প্রায় ১৮০ কেজি, তাই ছোট প্যাকেটের বদলে বস্তা কেনাই যুক্তিসঙ্গত। বস্তা মেঝে থেকে উঁচুতে রাখুন, প্রতিবার মুখ বন্ধ করুন, আর একটা বাজার এন্ট্রি হিসেবে লিখে রাখুন যাতে খরচ ঠিক মাসে পড়ে।
বড় বোতলে বা জারে তেল কিনলে কি মেসে লাভ হয়?
অনেক সময় হয়, কারণ বড় পাত্রে লিটারপ্রতি দাম সাধারণত কম, তবে আসল সাশ্রয় আসে তেল কতটা খরচ হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ করলে। বাবুর্চির সাথে ঠিক করুন প্রতিবার রান্নায় চামচ বা ছোট কাপে মেপে তেল দেবে, সরাসরি বোতল থেকে ঢালবে না। ধরুন মেপে দেওয়ায় সপ্তাহে এক লিটার কম লাগল, তাহলে মাসে প্রায় চার লিটার কম কিনতে হবে। তেল চুলার তাপ থেকে দূরে, ঢাকনা লাগিয়ে রাখুন।
মৌসুমি সবজি কিনলে মেসের খরচ কিভাবে কমে?
মৌসুমের সবজি বাজারে বেশি থাকে, তাই সাধারণত দামে কম আর টাটকা হয়, ফলে মেন্যু সেগুলো দিয়ে সাজালে খাবার না কমিয়েই বাজার খরচ কমে। সারা বছর একই পদ না রেখে এখন যা বেশি পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে সাপ্তাহিক মেন্যু করুন। অমৌসুমি সবজিও থাকতে পারে, শুধু কম দিন। যে বাজার করে তাকে বলুন এই সপ্তাহে কোন সবজি সস্তায় ভালো পেয়েছে লিখে রাখতে, পরের মেন্যুতে সেগুলো বেশি রাখা যাবে।
টাকা বাঁচাতে মেসের সাপ্তাহিক মেন্যু কিভাবে প্ল্যান করব?
সাত দিনের সকাল, দুপুর আর রাতের খাবার আগেই ঠিক করে শুধু সেই অনুযায়ী বাজার করুন, কারণ পরিকল্পনা ছাড়া রান্নায় একই জিনিস দুবার কেনা হয় আর খাবার নষ্ট হয়। সপ্তাহজুড়ে দামি পদের পাশে সস্তা পদ রাখুন, এক উপকরণ কয়েক দিনে কাজে লাগান, আর বেঁচে যাওয়া জিনিস শেষ করার জন্য একটা বেলা খালি রাখুন। মেস খাতায় সাপ্তাহিক মেন্যু আছে, ম্যানেজার এডিট করে, সব সদস্য দেখতে পায়, আর আজকের মেন্যু ড্যাশবোর্ডে দেখায়।
মেসে খাবার নষ্ট হওয়া কিভাবে কমাব?
বুক করা মিল অনুযায়ী রান্না করুন, বেঁচে যাওয়া খাবার ঠিকমতো রাখুন আর পরের বেলায় সেটা কাজে লাগান, কারণ ফেলে দেওয়া প্রতিটা প্লেটের দামও মিল রেটে ঢোকে। প্রতি বাজারের আগে ফ্রিজ আর ভাঁড়ার দেখে নিন যাতে কিছু দুবার কেনা না হয়, আর পুরোনো জিনিস আগে ব্যবহার করুন। ধরুন দিনে ৳১০০-র খাবার ফেলা যায়, তাহলে ৩০ দিনে ৳৩,০০০, যা সবাই বাড়তি মিল রেট হিসেবে দেয়।
কত মিলের জন্য কতটুকু চাল রান্না করা উচিত?
আন্দাজে নয়, মিলপ্রতি মেপে রান্না করুন: আপনার মেসে এক মিলে কতটুকু কাঁচা চাল লাগে সেটা বের করে ওই বেলার বুক করা মিল দিয়ে গুণ করুন। ধরুন এক কাপ চালে এক মিল হয়, আর দুপুরে ৮টা মিল বুক করা, তাহলে বাবুর্চি ৮ কাপ রাঁধবে, পুরো মেসের ১০ কাপ নয়। এক সপ্তাহ পর দেখুন খাবার বাঁচছে নাকি কম পড়ছে, সেই মতো ঠিক করুন। রান্নার আগে বাবুর্চিকে মিলের সংখ্যা জানানোই আসল কাজ।
মিল কাটঅফ দিলে বাড়তি রান্না কিভাবে বন্ধ হয়?
কাটঅফ থাকলে রান্না শুরুর আগেই মিলের সংখ্যা ঠিক হয়ে যায়, তাই বাবুর্চি সবার জন্য আন্দাজে না রেঁধে যারা খাবে শুধু তাদের জন্য রাঁধে। কাটঅফ না থাকলে শেষ মুহূর্তে মিল বদলায়, বাড়তি খাবার নষ্ট হয় কিন্তু টাকা ঠিকই যায়। মেস খাতায় ম্যানেজার কাটঅফ সেট করতে পারে, যেমন আগের রাত ১০টা বা সেদিন সকাল ১০টা; এরপর সদস্য সেই দিন বদলাতে পারে না, তবে ম্যানেজার ঠিক করতে পারে আর সেটা লগে থাকে।
মেসে মাছ-মাংসের দিন আর সবজির দিন আলাদা করে ঠিক করা কি ভালো?
হ্যাঁ, বাজার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটা এটা, কারণ মাছ-মাংসই সাধারণত সবচেয়ে দামি, আর নির্দিষ্ট রুটিন না থাকলে প্রতিদিনই সেগুলো ঢুকে পড়ে। ধরুন মেস ঠিক করল সপ্তাহে দুদিন মাংস, দুদিন মাছ, বাকি দিন ডিম, ডাল আর সবজি। সবাই জানে কী খাবে, বাজারকারী সেই মতো কেনে, আর বাজেটে কুলালে ভোট দিয়ে রুটিন বদলানো যায়।
কম বাজেটে মেসে প্রোটিন কিভাবে পাব?
ডিম, ডাল, ছোলা, ছোট মাছ আর সয়াবিনজাত খাবারের মতো তুলনামূলক সস্তা প্রোটিনে ভর দিন, আর মাংস রাখুন নির্দিষ্ট দিনের জন্য। দুপুর-রাতে এক হাঁড়ি ডাল আর সকালে ডিম মাসজুড়ে রোজ মাংসের চেয়ে অনেক কম খরচে চলে। এক পদে দুটো উৎস মেশালে, যেমন ছোট মাছ দিয়ে ডাল, দামি জিনিস অল্পতেই বেশি দূর যায়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের প্রয়োজনে একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মেসে ফিস্ট বা উৎসবের খাওয়ার বাজেট কিভাবে করব?
ফিস্টের বাজেট আগে ঠিক করুন আর কয়েক মাস ধরে অল্প অল্প করে টাকা তুলুন, যাতে এক মাসের বিলে হঠাৎ চাপ না পড়ে। ধরুন ১০ জনের মেসে ৳৪,০০০-এর ফিস্ট, মানে জনপ্রতি ৳৪০০, বা চার মাস ধরে মাসে ৳১০০ করে। মেন্যু আর পরিমাণ লিখে ফেলুন, একজনকে বাজারের দায়িত্ব দিন, আর রসিদ রাখুন যাতে সবাই দেখে টাকা কোথায় গেল।
ফিস্টের খরচ মিল রেটে ঢোকাব নাকি আলাদা ভাগ করব?
ফিস্ট যদি সাধারণ মিলের চেয়ে অনেক দামি হয় তবে আলাদা ভাগ করুন, কারণ মিল রেটে ঢুকলে সেই মাসের প্রতিটা সাধারণ মিলের দাম বেড়ে যায়। ধরুন সাধারণ বাজার ৳৩০,০০০, মিল ৬০০, রেট ৳৫০; এর সাথে ৳৩,০০০-এর ফিস্ট যোগ হলে ৳৩৩,০০০ ÷ ৬০০ = ৳৫৫, ফলে যে বেশি মিল খায় সে একবারের ফিস্টের জন্য বেশি দেয়। যারা ফিস্টে ছিল তাদের মধ্যে সমান ভাগ সাধারণত বেশি ন্যায্য। নিয়মটা ফিস্টের আগেই ঠিক করুন, পরে নয়।
মেসের কারেন্ট বিল কিভাবে কমাব?
ফাঁকা রুমের ফ্যান-লাইট বন্ধ রাখুন, চার্জার আর অব্যবহৃত যন্ত্র প্লাগ থেকে খুলে রাখুন, আর এসি, ইস্ত্রি, ওয়াটার হিটার বা ইলেকট্রিক চুলার মতো ভারী যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে নিয়ম ঠিক করুন। ফ্রিজ বারবার খুলবেন না, ঠাসাঠাসি করে ভরবেন না, আর দিনে জানালার আলো কাজে লাগান। কোনো রুমে এসি থাকলে সমান ভাগের চেয়ে সাব-মিটার বেশি ন্যায্য; মেস খাতায় কাস্টম অঙ্কে বিল ভাগ করা যায়, তাই ওই রুম তার মিটারের অংশটাই দেয়।
মেসের রান্নাঘরে গ্যাসের খরচ কিভাবে কমানো যায়?
ঢাকনা দিয়ে রাঁধুন, ভাত, ডাল আর মাংসে প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন, আর আগুন হাঁড়ির তলার চেয়ে বড় করবেন না। ডাল-ছোলা আগে ভিজিয়ে রাখুন, বারবার গরম না করে একবারে রাঁধুন, আর গরমের জন্য বা কাপড় শুকাতে কখনো চুলা জ্বালিয়ে রাখবেন না। সিলিন্ডার ব্যবহার করলে নতুনটা খোলার তারিখ লিখে রাখুন, তাহলে কত দিন চলছে দেখে আগেভাগে অপচয় ধরতে পারবেন।
মেসের পানির বিল কমানোর উপায় কী?
প্রথমে চুইয়ে পড়া কল আর লিক করা ফ্লাশ ঠিক করুন, কারণ ছোট লিকেও দিন-রাত পানি নষ্ট হয়, তারপর ট্যাংক ভরলেই পাম্প বন্ধ করুন। চলমান কলের নিচে না ধুয়ে গামলায় থালাবাসন ধুন, আর কাপড় একবারে বেশি করে কাচুন। মিটারে পানির বিল হলে এতে সরাসরি বিল কমে; নির্দিষ্ট চার্জ হলেও পাম্পের বিদ্যুৎ খরচ কমে।
মেসে ওয়াইফাই বিল কিভাবে ন্যায্যভাবে ভাগ করব?
সাধারণত যারা ওয়াইফাই ব্যবহার করে তাদের মধ্যে সমান ভাগ হয়, কারণ কে কতটা চালায় মাপা কঠিন আর বিলটা নির্দিষ্ট। ধরুন প্যাকেজ ৳১,২০০ আর ৮ জন ব্যবহার করে, তাহলে জনপ্রতি ৳১৫০। কেউ নিজের মোবাইল ডেটা চালিয়ে বাদ থাকতে চাইলে তর্ক না করে তাকে ভাগ থেকে বাদ দিন। মেস খাতায় ওয়াইফাই একটা রিকারিং টেমপ্লেট হিসেবে বাছাই করা সদস্যদের মধ্যে সমান ভাগে রাখা যায়, প্রতি মাসে এক বাটনে যোগ হয়।
মেসে থাকা স্টুডেন্ট হিসেবে মাসের বাজেট কিভাবে করব?
আগে নির্দিষ্ট খরচ, তারপর খাবার, তারপর বাকি সব ধরুন, আর বাড়তি খরচের আগেই সঞ্চয় আলাদা করুন। ধরুন মাসে হাতে ৳১০,০০০: ভাড়া ও বিলের ভাগ ৳৪,০০০, মেসের খাবার ৳৩,৫০০, যাতায়াত ও মোবাইল ৳১,০০০, পড়াশোনার খরচ ৳৫০০, সঞ্চয় ৳৫০০, আর নিজের খরচের জন্য থাকে ৳৫০০। খাবারের অঙ্ক ঠিকঠাক ধরতে গত মাসের মেস বিল দেখুন, আর প্রথম মাস শেষে বাজেট ঠিক করে নিন।
মেসে থেকে নিজের খরচের হিসাব রাখার সহজ উপায় কী?
প্রতিটা খরচ সেদিনই ফোনের নোটে বা ছোট খাতায় লিখুন, আর সপ্তাহে একবার যোগ করে বাজেটের সাথে মেলান। মেসের টাকা আর নিজের টাকা আলাদা রাখুন: আপনার জমা আর বিল মেস তো আগেই লিখে রাখে, তাই নিজের খাতায় শুধু নাস্তা, যাতায়াত, মোবাইল রিচার্জের মতো খরচ লিখলেই হয়। মেস খাতার সদস্যভিত্তিক স্টেটমেন্টে আপনার ব্যালান্সের পেছনের প্রতিটা লাইন দেখা যায়, তাই মেসের মোট খরচ আন্দাজ না করে সেখান থেকেই বাজেটে তুলতে পারবেন।
মেসে থাকলে কি ইমার্জেন্সি ফান্ড রাখা দরকার?
হ্যাঁ, অল্প হলেও রাখুন, নইলে হঠাৎ কোনো বিল, ডাক্তার দেখানো বা বাড়ির টাকা দেরিতে এলে রুমমেটের কাছে ধার করতে হয়। প্রতি মাসে বাড়তি খরচের আগে একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক আলাদা করুন; ধরুন মাসে ৳৫০০ রাখলে ছয় মাসে ৳৩,০০০ জমে। এটা মেসের জমা আর হাতখরচ থেকে আলাদা রাখুন, যেমন অন্য একটা মোবাইল ওয়ালেট বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে, আর শুধু সত্যিকারের বিপদে ব্যবহার করুন।
মেসের অন্য মেম্বারকে টাকা ধার দেওয়া কি ঠিক?
যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, দিলে অল্প দিন আর লিখে রাখুন, কারণ ফেরত না পাওয়া ব্যক্তিগত ধার রুমমেটদের মধ্যে ঝগড়ার একটা পরিচিত কারণ। ধার দিলে অঙ্ক আর ফেরতের তারিখ লিখিতভাবে ঠিক করুন, চ্যাট মেসেজে হলেও, আর ততটুকুই দিন যতটা না ফিরলেও আপনার চলবে। ব্যক্তিগত ধার মেসের হিসাবের পুরো বাইরে রাখুন, যাতে একজনের দেনা মেটাতে কখনো মেসের ফান্ড ব্যবহার না হয়।
কোনো মেম্বার বারবার দেরিতে টাকা দিলে কী করব?
মাসের শুরুতে অগ্রিম জমা নিন যাতে ফান্ড খালি না হয়, আর প্রত্যেকের ব্যালান্স সবার সামনে রাখুন যাতে ব্যক্তিগত তর্ক ছাড়াই বকেয়া পরিষ্কার থাকে। একটা শেষ তারিখ ঠিক করুন, আর মেস রাজি হলে দেরির জরিমানা সবার জন্য একইভাবে প্রয়োগ করুন। মেস খাতায় প্রত্যেক সদস্য নিজের ব্যালান্স আর স্টেটমেন্ট দেখতে পায়, আর জরিমানা একজনের ওপর কাস্টম খরচ হিসেবে যোগ করা যায়।
মেসে শেয়ার করে কেনা ফ্রিজের দাম কিভাবে ভাগ করব?
যারা টাকা দিচ্ছে তাদের মধ্যে দাম ভাগ করুন, আর কেনার দিনই লিখে রাখুন কে কত দিল, কারণ কেউ মেস ছাড়লে মালিকানার প্রশ্ন ওঠে। ধরুন ফ্রিজের দাম ৳২৪,০০০ আর ৬ জন দিচ্ছে, তাহলে জনপ্রতি ৳৪,০০০। এই হিসাব মাসিক মিলের হিসাব থেকে আলাদা রাখুন, কারণ ফ্রিজ শেয়ার করা সম্পত্তি, মাসিক খরচ নয়। কেউ চলে যাওয়ার আগেই ছেড়ে যাওয়ার নিয়মটা ঠিক করে ফেলুন।
যে মেম্বার রাইস কুকার বা ফ্রিজে টাকা দিয়েছিল, সে চলে গেলে জিনিসটা কার?
সাধারণত জিনিসটা মেসেই থাকে, আর যারা থাকছে তারা চলে যাওয়া মেম্বারের অংশ কিনে নেয়, কারণ ফ্রিজ বা রাইস কুকার তো কেটে ভাগ করা যায় না। অন্য উপায় হলো বিক্রি করে টাকা ভাগ করা, অথবা যে যাচ্ছে সে জিনিসটা নিয়ে বাকিদের অংশের টাকা দিয়ে দেওয়া। যে নিয়মই নিন, জিনিস কেনার সময়ই ঠিক করে লিখে রাখুন, যাতে মেস ছাড়ার দিন কেউ তর্ক না করে।
চলে যাওয়া মেম্বারের শেয়ার করা জিনিসের অংশের দাম কিভাবে হিসাব করব?
কেনা দাম নয়, এখনকার দাম সবাই মিলে ঠিক করুন, তারপর মূল শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। ধরুন ৬ জনে ৳২৪,০০০-এ কেনা ফ্রিজের এখনকার দাম ধরা হলো ৳১৮,০০০, তাহলে প্রতি শেয়ার ৳৩,০০০। ৫ জন থাকলে প্রত্যেকে চলে যাওয়া জনকে ৳৬০০ করে দেবে, আর ফ্রিজ তখন ওই ৫ জনের। পরে নতুন কেউ এলে তখনকার শেয়ারের দামে অংশ কিনে নিতে পারে।
ভালো দামে বাজার পেতে মেসে কে বাজার করবে?
পালা করে বাজার করলে কাজ ভাগ হয় আর সবাই দাম চিনতে শেখে, তবে নতুন কাউকে প্রথম কয়েকবার অভিজ্ঞ কারো সাথে পাঠান। বাজারকারীকে লিখিত লিস্ট আর খরচের সীমা দিন, আর রসিদ বা জিনিস ধরে দাম চান যাতে বিভিন্ন বাজারের তুলনা করা যায়। মেস খাতায় বাজার ডিউটির রোটা আছে, যেখানে আজ কে বাজার করবে আর পরের দুই সপ্তাহের পালা দেখা যায়, আর প্রতি বাজারে ৩টা পর্যন্ত রসিদের ছবিসহ জিনিস ধরে বাজার লেখা যায়।
মেসে প্রতিদিন বাজার করা সস্তা নাকি সপ্তাহে একবার?
দুটো মিলিয়ে করাই সাধারণত সবচেয়ে সাশ্রয়ী: চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মসলার মতো শুকনো জিনিস সপ্তাহে বা মাসে একবারে বেশি করে কিনুন, আর মাছ, মাংস, শাক একদিন-দুদিন পরপর কিনুন যাতে টাটকা থাকে আর নষ্ট না হয়। সবকিছু রোজ কিনলে সময় বেশি যায় আর টুকটাক বাড়তি কেনা হয়, আবার পচনশীল জিনিস পুরো সপ্তাহের জন্য কিনলে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। মেসের ফ্রিজ আর ভাঁড়ারের জায়গা বুঝে রুটিন ঠিক করুন।
শেয়ার করা বাজার লিস্ট কি সত্যিই মেসের টাকা বাঁচায়?
হ্যাঁ, কারণ বাড়তি খরচের বড় একটা অংশ আসে ঘরে থাকা জিনিস আবার কেনা বা কী ফুরিয়েছে ভুলে গিয়ে আরেকবার বাজারে যাওয়া থেকে। শেয়ার করা লিস্টে যে কেউ কিছু ফুরোলেই লিখে রাখে, আর বাজারকারী শুধু লিস্টের জিনিসই কেনে। মেস খাতায় যে কেউ শেয়ার করা বাজার লিস্টে জিনিস যোগ করতে, কেনা হলে টিক দিতে, আর টিক দেওয়া জিনিসগুলোকে জিনিসভিত্তিক বাজার এন্ট্রিতে বদলাতে পারে।
জিনিস ধরে বাজারের হিসাব রাখলে খরচ কমাতে কিভাবে সাহায্য হয়?
জিনিস ধরে লিখলে বোঝা যায় টাকা আসলে কোথায় যাচ্ছে, তাই কোন এক-দুটো জিনিস বিল বাড়াচ্ছে ধরা যায় আর বিভিন্ন বাজারকারী ও সপ্তাহের দাম তুলনা করা যায়। শুধু মোট অঙ্ক লিখলে জানা যায় একটা বাজারে ৳২,০০০ গেছে; জিনিস ধরে লিখলে দেখা যায় তেল, মাছ আর মসলাতেই বেশিরভাগ গেছে। মাস শেষে লিস্টটা দেখে পরের মাসের জন্য একটা পরিবর্তন ঠিক করুন, যেমন বড় জারে তেল কেনা বা সপ্তাহে এক দিন মাংস কমানো।
মেসে বাবুর্চি রাখা সস্তা নাকি নিজেরা রান্না করা?
নিজেরা রাঁধলে বেতন বাঁচে, তবে সদস্যদের সময় আর অনভিজ্ঞ রান্নার অপচয়ের সাথে তুলনা করে দেখুন। বাবুর্চির মাসিক বেতনকে সদস্যসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে আসল খরচ বোঝা যায়: ধরুন ৳৬,০০০ বেতন ১২ জনে ভাগ হলে জনপ্রতি ৳৫০০। মেস যত বড়, জনপ্রতি বাবুর্চির খরচ তত কম, আর ছোট মেসে পালা করে রান্নাও চলে। বাবুর্চির বেতন খাবারের বাইরের খরচ, তাই এটা মিল রেটে ঢোকাবেন না।
মাস শেষ হওয়ার আগেই মেসের টাকা ফুরিয়ে যাওয়া কিভাবে ঠেকাব?
মাসের শুরুতে প্রত্যেকের কাছ থেকে আন্দাজি বাজার আর বিল মেটানোর মতো অগ্রিম জমা নিন, আর সপ্তাহে একবার ফান্ডের ব্যালান্স দেখুন। ফান্ড পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত কমলে টাকা ফুরোনোর আগেই দামি জিনিস কেনা কমান, পরে নয়। মেস খাতায় ম্যানেজার জমার মাধ্যম আর ট্রানজেকশন আইডিসহ জমা লেখে, আর সদস্য বিকাশ বা নগদে পাঠানো টাকা রিপোর্ট করলে ম্যানেজার অ্যাপ্রুভ করার পর সেটা গোনা হয়।
মেসের মাসিক বাজার বাজেট কিভাবে ঠিক করব?
একটা লক্ষ্য মিল রেট আর আন্দাজি মোট মিল ধরে গুণ করুন: বাজেট = লক্ষ্য রেট × আন্দাজি মিল। ধরুন মেস ৳৪৫ রেট চায় আর মাসে ৬০০ মিল হবে বলে ধরছে, তাহলে বাজার বাজেট ৳২৭,০০০, অর্থাৎ ৩০ দিনে দিনে প্রায় ৳৯০০। এটাকে সপ্তাহের সীমায় ভাগ করুন, প্রতি সপ্তাহে খরচ মিলিয়ে দেখুন, আর কোনো সপ্তাহে বেশি হয়ে গেলে শুরুতেই দামি জিনিস কেনা কমান।
মিল কম খেলে কি মাসের বিল সত্যিই কমে?
খাবারের খরচ কমে, কিন্তু ভাড়া, ওয়াইফাই, বাবুর্চির বেতনের মতো নির্দিষ্ট খরচের ভাগ কমে না। আপনার খাবারের খরচ = আপনার মিল × মিল রেট, তাই ৳৫০ রেটে ১০টা মিল বাদ দিলে ৳৫০০ বাঁচে। নির্দিষ্ট খরচ মেসের নিয়ম অনুযায়ী ভাগ হয়, আপনি কম খান বা বেশি। কাটঅফের আগেই মিল বন্ধ করুন যাতে বাবুর্চি কম রাঁধে, নইলে অপচয়ে সবার মিল রেট বাড়ে।
গেস্টের মিলের টাকা কিভাবে ধরব যাতে সবার খরচ না বাড়ে?
প্রতিটা গেস্ট মিল যিনি দাওয়াত দিয়েছেন তার হিসাবে একই মিল রেটে ধরুন, তাহলে পুরো মেস নয়, হোস্টই টাকা দেয়। ধরুন আপনি দুদিন রাতে এক বন্ধুকে খাওয়ালেন, তাহলে আপনার হিসাবে ২টা বাড়তি মিল। কাটঅফের আগে বাবুর্চিকে জানান যাতে যথেষ্ট রান্না হয়। মেস খাতায় গেস্টের মিল হোস্ট সদস্যের মিলের সাথে বাড়তি মিল হিসেবে যোগ হয়।
চা, চিনি আর নাস্তা কি মেসের বাজারে ধরা উচিত?
সবাই মোটামুটি সমান ব্যবহার করলে তবেই ধরুন, নইলে বাদ রাখুন, কারণ কেউ অনেক বেশি আর কেউ একেবারেই না খেলে সেই খরচ মিল রেটের মাধ্যমে সবার ঘাড়ে পড়ে। মেস রাজি থাকলে সবার জন্য চা-পাতা আর চিনির মতো সাধারণ জিনিস বাজারে থাকতে পারে। নিজের নাস্তা, কোমল পানীয় বা কফি নিজে কেনাই ভালো। নিয়মটা লিখে রাখুন যাতে বাজারকারী জানে কী লিস্টে রাখবে না।
প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক
মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।
আরও প্রশ্নোত্তর
- মেস খাতা কী, আর মেসের একদম শুরুর কথা
- মিল রেট আর মিল গোনা নিয়ে সব প্রশ্ন
- মেসের বাজার নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর
- মেসের ভাড়া আর বিল
- মাস শেষের মেসের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের জমা আর পেমেন্ট
- মেস ম্যানেজার হওয়া: প্রশ্ন আর উত্তর
- মেসের নিয়ম ও দৈনন্দিন জীবন
- হোস্টেল, হল ডাইনিং আর ছাত্রদের বাজেট নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের সিট বা রুম খোঁজা
- মেস খাতা দিয়ে শুরু করবেন যেভাবে
- মেস খাতার ফিচারগুলো কিভাবে কাজ করে
- খরচ, প্রাইভেসি আর নিরাপত্তা
- মেস অ্যাপের তুলনা আর বিকল্প