মেস খাতা

মেস খাতা কী, আর মেসের একদম শুরুর কথা

সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন

মেস খাতা কী আর কিভাবে ব্যবহার করবেন তার ছোট ছোট উত্তর, সাথে মেসে সবাই যে শব্দগুলো বলে — মিল অফ থেকে ট্রানজেকশন আইডি — সেগুলোর সহজ মানে।

মেস লেজার কী?

মেস খাতা (ইংরেজিতে মেস লেজার) একটা ফ্রি ওয়েব অ্যাপ, যেটা মেসের পুরো হিসাব রাখে: প্রতিদিনের মিল, বাজার, ভাড়া আর বিল, জমা টাকা, আর মাস শেষে কার কত দেনা-পাওনা। মিল রেট বের করে মোট বাজার ÷ মোট মিল দিয়ে, আর প্রত্যেক মেম্বারকে তার ব্যালেন্সের পেছনের প্রতিটা লাইন দেখায়। যেকোনো ব্রাউজারে চলে, বাংলা বা ইংরেজিতে, কোনো বিজ্ঞাপন বা পেইড প্ল্যান নেই।

মেস খাতা অ্যাপ কী? এটা আর মেস লেজার কি একই?

মেস খাতা হলো মেস লেজারের বাংলা নাম — দুটো একই অ্যাপ, একই ওয়েবসাইট। নামটা এসেছে সেই খাতা থেকে, যেটাতে মেসগুলো চিরকাল হিসাব লিখে এসেছে। অ্যাপটা বাংলায় খুললে (যেটা ডিফল্ট) নিজেকে মেস খাতা বলে আর সব সংখ্যা বাংলায় দেখায়; ইংরেজিতে বদলালে নাম দেখাবে ইংরেজিতে।

মেস খাতা কি আসল? ব্যবহার করা নিরাপদ তো?

হ্যাঁ, মেস খাতা একটা আসল, চালু অ্যাপ — খরচ ৳০, আর আপনার ডেটা বিক্রি করা হয় না। পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করা (হ্যাশ) অবস্থায় রাখা হয়, সাইট চলে এইচটিটিপিএস-এ, আর এক মেস অন্য মেসের ডেটা দেখতে পারে না — ডাটাবেসই সেটা আটকায়। রিকোয়েস্ট লগে আইপি ঠিকানা রাখা হয় না, ৭ দিন পর মুছে যায়। নিজের অ্যাকাউন্ট নিজেই মুছতে পারবেন ‘আরও’ পেজ থেকে।

মেস খাতা কাদের জন্য বানানো?

মেস খাতা বানানো মেসে থাকা ছাত্র আর চাকরিজীবী ব্যাচেলরদের জন্য, বিশেষ করে যে ওই মাসে ম্যানেজার তার জন্য। মেম্বাররা নিজের মিল নিজে লেখে আর নিজের ব্যালেন্স দেখে; ম্যানেজার বাজার, বিল আর জমা লেখে, মাস ক্লোজ করে। যেসব বাণিজ্যিক হোস্টেল মালিকের সিট বুকিং, ইনভয়েস আর কর্মচারীর বেতনের হিসাব লাগে, তাদের জন্য এটা না।

নাম মেস খাতা কেন? এর মানে কী?

নামটাই বলে দেয় এটা কী: মেসের হিসাবের খাতা। বাংলাদেশে মেসের হিসাব সবসময় থাকে একটা খাতায়, যেটা ম্যানেজারের কাছে থাকে। ইংরেজি নাম লেজার মানেও হিসাবের খাতা। অ্যাপটা সেই একই খাতা রাখে, তবে পার্থক্য হলো এখানে সব মেম্বার খাতাটা পড়তে পারে, আর যোগ-ভাগ অ্যাপ নিজেই করে দেয়।

মেসলেজার ডট কম ওয়েবসাইটে কী কী করা যায়?

এই ওয়েবসাইটে সাইন আপ করে মেসের পুরো হিসাব চালাতে পারবেন, সাইন আপ ছাড়াই ফ্রি মিল রেট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন, আর মেস ফাইন্ডারে খালি সিট, রুম বা সাবলেট খুঁজতে বা পোস্ট করতে পারবেন। মিল রেট বের করা, মাস শেষের হিসাব আর মেস চালানো নিয়ে গাইডও আছে। সাইটের সবকিছুই ফ্রি।

বাংলাদেশের বাইরে কি মেস খাতা চলে?

হ্যাঁ, যেখানে ব্রাউজার আর ইন্টারনেট আছে সেখানেই মেস খাতা চলে, তবে এটা বানানো বাংলাদেশের মেসের জন্য। প্রত্যেক মেস নিজের টাইমজোন আর মাস শুরুর তারিখ ঠিক করে, আর মিল রেটের হিসাব যেকোনো মুদ্রায় একইভাবে চলে। ডিফল্ট সেটিংস, বাংলা ইন্টারফেস আর বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো পেমেন্ট মাধ্যম সব বাংলাদেশের মেসের নিয়ম মাথায় রেখে সাজানো।

ভারতের মেস বা শেয়ার করা ফ্ল্যাটে কি মেস খাতা ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ, ভারতের মেস বা শেয়ার করা ফ্ল্যাটেও মেস খাতা চালানো যায়, কারণ এটা যেকোনো ব্রাউজারে চলে আর মিল আর খরচ ভাগের হিসাব সব দেশে একই। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের মেসের জন্য বাংলা ইন্টারফেস সুবিধার, অন্যদের জন্য ইংরেজি আছে। নিয়ম সব জায়গায় এক: মিল আর বাজার লিখুন, খাবারের খরচ মিল অনুযায়ী ভাগ হয়ে যাবে।

মেস খাতার কি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ আছে?

মেস খাতা প্লে স্টোরে নেই; এটা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্রোম বা যেকোনো ব্রাউজারেই চলে, কিছু ইনস্টল করতে হয় না। ওয়েবসাইটটা খুলে লগইন করুন, তারপর ব্রাউজারের মেনু থেকে ‘হোম স্ক্রিনে যোগ করুন’ চাপুন। তখন ফোনে আলাদা আইকন হবে, আর অ্যাপের মতোই খুলবে। তবে ইন্টারনেট লাগবে।

আইফোনে কি মেস খাতা চালানো যায়?

হ্যাঁ, আইফোনে সাফারি বা যেকোনো ব্রাউজারে মেস খাতা চলে, অ্যাপ স্টোর থেকে কিছু নামাতে হয় না। ওয়েবসাইট খুলে শেয়ার বাটনে চাপুন, তারপর ‘হোম স্ক্রিনে যোগ করুন’ বেছে নিন — অ্যাপের মতো একটা আইকন পেয়ে যাবেন। ডেটা থাকে আপনার অ্যাকাউন্টে, তাই ফোন আর ল্যাপটপে একই মেস দেখবেন।

মেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম মানে কী?

মেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো মেসের মিল, বাজার, ভাড়া আর বিল লিখে রাখা আর মাস শেষে কার ভাগে কত পড়ল তা বের করার যেকোনো পদ্ধতি। এটা কাগজের খাতা, স্প্রেডশিট বা অ্যাপ — যেকোনোটা হতে পারে। ভালো সিস্টেমে খাবারের খরচ ভাগ হয় মিল অনুযায়ী, ভাড়া-বিল আলাদা ভাগ হয়, জমা টাকা লেখা থাকে, আর প্রত্যেকে নিজের হিসাব যাচাই করতে পারে।

মিল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কী?

মিল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো মেসে কে প্রতিদিন কয়টা মিল খেল তা গোনার ব্যবস্থা, যাতে খাবারের খরচ ন্যায্যভাবে ভাগ হয়। এতে প্রত্যেকের সকাল, দুপুর আর রাতের মিল, মিল অফ আর গেস্ট মিল লেখা থাকে, তারপর মাসের বাজারকে মোট মিল দিয়ে ভাগ করে মিল রেট বের হয়। মেস খাতায় মেম্বাররা নিজের মিল নিজে লেখে, আর যেদিন লেখে না সেদিন স্ট্যান্ডিং মিল প্ল্যান থেকে মিল বসে যায়।

ব্যাচেলর মেস কাকে বলে?

ব্যাচেলর মেস হলো ভাড়া নেওয়া একটা ফ্ল্যাট বা কয়েকটা রুম, যেখানে অবিবাহিত ছাত্র বা চাকরিজীবীরা একসাথে থাকে আর ভাড়া ও রান্নাঘর ভাগ করে নেয়। প্রত্যেকে একটা সিট বা রুমের ভাড়া দেয়, বাজার হয় একসাথে, আর খাবারের খরচ ভাগ হয় কে কয়টা মিল খেল সেই হিসাবে। ঢাকাসহ বড় শহরে বাইরে থেকে আসা তরুণদের থাকার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় এটাই।

মেসে মিল বলতে কী বোঝায়?

মেসে মিল মানে একজন মেম্বারের খাওয়া এক বেলার খাবার, আর এটাই সেই একক যা দিয়ে খাবারের খরচ ভাগ হয়। সাধারণত দুপুর আর রাত ১টা করে মিল, আর অনেক মেসে সকালের নাস্তা আধা মিল (০.৫)। কেউ যদি ৩০ দিন ধরে দিনে ২টা মিল খায়, তার মাসে ৬০ মিল, আর সে দেবে ৬০ × মিল রেট।

মিল অফ মানে কী?

মিল অফ মানে ম্যানেজারকে জানিয়ে দেওয়া যে আপনি নির্দিষ্ট কোনো বেলা খাবেন না, তাই আপনার জন্য রান্নাও হবে না, মিলও গোনা হবে না। বেশিরভাগ মেসে আগের রাতেই জানাতে হয়, যাতে বাজার আর রান্নার হিসাব করা যায়। মেস খাতায় নিজেই ওই মিল ০ করে দেন, বাড়ি গেলে তারিখ বেছে ‘বাইরে’ মার্ক করেন, আর ম্যানেজার চাইলে একটা কাটঅফ সময় দিতে পারেন যার পরে দিনটা লক হয়ে যায়।

মেসের খাতা মানে কী?

মেসের খাতা হলো সেই নোটবুক যেখানে মেসের সব হিসাব থাকে: প্রত্যেকের প্রতিদিনের মিল, প্রতিটা বাজার আর তার খরচ, ভাড়া-বিল, আর কে কত টাকা দিল। মাস শেষে ম্যানেজার এটা যোগ করে মিল রেট আর প্রত্যেকের ব্যালেন্স বের করে। সমস্যা হলো খাতা থাকে একজনের হাতে, বাকিদের তার যোগফল বিশ্বাস করে নিতে হয়।

মেসে বাজার বলতে কী বোঝায়?

বাজার মানে মেসের রান্নাঘরের জন্য কেনাকাটা, আর সেই কেনাকাটায় খরচ হওয়া টাকাও। সবার জন্য কেনা চাল, মাছ, সবজি, তেল, মশলা — সবই বাজার, আর মাসের মোট বাজারকে মোট মিল দিয়ে ভাগ করলে মিল রেট বের হয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল বা বুয়ার বেতন বাজারের মধ্যে পড়ে না; এগুলো ফিক্সড খরচ, আলাদা ভাগ হয়।

মেসের মিল চার্ট কী?

মিল চার্ট হলো একটা ছক, যার এক পাশে মেম্বারদের নাম আর উপরে মাসের তারিখ, আর প্রতিটা ঘরে লেখা থাকে সেদিন কে কয়টা মিল খেল। এক সারি যোগ করলে একজনের মোট মিল, সব সারি যোগ করলে পুরো মেসের মোট মিল। কেউ কেউ সপ্তাহের কোন দিন কী রান্না হবে সেই মেনুকেও মিল চার্ট বলে।

মেস ম্যানেজার কী কাজ করে?

মেস ম্যানেজার হলো সেই মেম্বার যে এক মাসের জন্য হিসাব রাখে আর রান্নাঘর চালায়: মিল গোনা, বাজার সামলানো, জমা টাকা তোলা, ভাড়া-বিল দেওয়া, আর মাস শেষে হিসাব মেলানো। অনেক মেসে প্রতি মাসে এই দায়িত্ব পালা করে বদলায়। মেস খাতায় যে মেস খোলে সে-ই ম্যানেজার হয়, আর এক মেসে একাধিক ম্যানেজার থাকতে পারে।

মেস আর সাবলেটের মধ্যে পার্থক্য কী?

মেস হলো কয়েকজন ভাড়াটে মিলে নিজেরাই চালানো একটা ফ্ল্যাট, যেখানে ভাড়া আর খাবার ভাগ হয়; আর সাবলেট হলো কোনো পরিবারের ফ্ল্যাটের ভেতর একটা রুম ভাড়া নেওয়া। সাবলেটে ভাড়া দেন পরিবারকে, আর খাওয়া-দাওয়া সাধারণত নিজের ব্যাপার। মেসে রান্নাঘর এক, নিয়ম সবাই মিলে ঠিক করে, আর খাবারের জন্য দেন আপনার মিল × মিল রেট।

মেস, হোস্টেল আর পিজির মধ্যে পার্থক্য কী?

মেস চালায় মেম্বাররা নিজেরাই, হোস্টেল চালায় মালিক বা প্রতিষ্ঠান, আর পিজি (পেয়িং গেস্ট, ভারতে প্রচলিত) হলো মালিকের বাড়িতে একটা রুম, সাধারণত খাবারসহ। হোস্টেল বা পিজিতে মালিকের ঠিক করা একটা নির্দিষ্ট টাকা দিতে হয়। মেসে রান্নাঘর থেকে কেউ লাভ করে না: মেম্বাররা নিজেরা বাজার করে, আর আসল খরচ মিল অনুযায়ী ভাগ করে।

ডাইনিং ম্যানেজার কাকে বলে?

ডাইনিং ম্যানেজার হলো সেই ছাত্র যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বা বড় মেসে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, প্রায়ই এক মাস, ডাইনিং চালায়। সে বাজার করে, কে কয়টা মিল নিল তা গোনে, টাকা তোলে, আর মেয়াদ শেষে হিসাব মিলিয়ে দেয়। কাজটা মেস ম্যানেজারের মতোই, শুধু মানুষ বেশি।

মেস মেম্বার বলতে কাকে বোঝায়?

মেস মেম্বার হলো মেসে থাকা যে কেউ, যে মেসের খরচ ভাগ করে নেয়: ভাড়া আর বিলের ভাগ দেয়, আর যতগুলো মিল খায় তার দাম দেয়। মেম্বাররা সাধারণত পালা করে বাজার করে আর মাসের শুরুতে টাকা জমা দেয়। মেস খাতায় একজন মেম্বার নিজের মিল নিজে লেখে আর নিজের হিসাব দেখে, আর ম্যানেজার সবার হয়ে লিখতে পারে।

মেসে গেস্ট মিল কী, কার নামে ধরা হয়?

গেস্ট মিল হলো কোনো মেম্বারের অতিথির খাওয়া মিল, আর এটা ধরা হয় যে মেম্বার অতিথি এনেছে তার নামে। আপনি যদি ৫০টা মিল খান আর আপনার কাজিন আপনার সাথে ২টা খায়, আপনার ধরা হবে ৫২টা; মিল রেট ৪০ টাকা হলে সেটা ২,০৮০ টাকা। মেস খাতায় অতিথির মিল ওই দিন নিজের মিলের সাথে যোগ করে দেন, তাতে সবার জন্য মিল রেট ঠিক থাকে।

মেসের খালা বা বুয়া কে, তার বেতন কিভাবে দেওয়া হয়?

খালা বা বুয়া হলো মেসের রান্নার জন্য রাখা লোক, সাধারণত মাসে একটা নির্দিষ্ট বেতনে রান্না করেন, কখনো ঘরও পরিষ্কার করেন। তার বেতন বাজারের মধ্যে পড়ে না, তাই মিল রেটে ঢোকে না; এটা ফিক্সড খরচ, সাধারণত সবার মধ্যে সমান ভাগ হয়। যেমন ৮ জনের মেসে ৬,০০০ টাকা বেতন হলে মাথাপিছু ৭৫০ টাকা। মেস খাতায় এটা বুয়ার খরচ হিসেবে লেখা যায়, আর প্রতি মাসে নিজে থেকে বসানোর জন্য সেট করে রাখা যায়।

বিকাশের ট্রানজেকশন আইডি কী?

ট্রানজেকশন আইডি হলো বিকাশ, নগদ বা রকেটে প্রতিটা লেনদেনের জন্য দেওয়া একটা ছোট কোড, যা অ্যাপে আর কনফার্মেশন এসএমএসে দেখা যায়। টাকা যে সত্যিই পাঠানো হয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে মেসে এটা চাওয়া হয়। মেস খাতায় মেম্বার ট্রানজেকশন আইডি দিয়ে ‘টাকা দিয়েছি’ জানাতে পারে; ম্যানেজার যাচাই করে অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত এটা পেন্ডিং থাকে, কিছুই গোনা হয় না।

মেসের মিল রেট কাকে বলে?

মিল রেট হলো এই মাসে মেসের এক মিলের খরচ: মোট বাজার ÷ মোট মিল। মেস যদি বাজারে ১২,০০০ টাকা খরচ করে আর সবাই মিলে ৩০০ মিল খায়, তাহলে রেট ৪০ টাকা, আর যার ৬০ মিল তার খাবারের খরচ ২,৪০০ টাকা। মেস খাতার ওয়েবসাইটে সাইন আপ ছাড়াই ব্যবহার করার মতো একটা ফ্রি মিল রেট ক্যালকুলেটর আছে।

মেস ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ কোন কোন সমস্যার সমাধান করে?

মেস অ্যাপ মাস শেষের ঝগড়াগুলো মেটায়: ভুলে যাওয়া মিল, হারানো বাজারের রসিদ, কে কবে টাকা দিল মনে না থাকা, আর এমন খাতা যেটা শুধু ম্যানেজার পড়তে পারে। প্রতিটা এন্ট্রি তখনই লেখা হয়, আর প্রত্যেকে নিজের হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারে। মেস খাতায় বাজারের রসিদের ছবি তোলা যায়, বিকাশের জমায় ট্রানজেকশন আইডি থাকে, কে কী বদলাল তার লগ থাকে, আর ক্লোজ করা মাস লক হয়ে যায়।

মেস খাতা কি পুরোপুরি ফ্রি?

হ্যাঁ, মেস খাতা পুরোপুরি ফ্রি: ৳০, কোনো পেইড প্ল্যান নেই, বিজ্ঞাপন নেই, মেম্বারের সংখ্যায় সীমা নেই, এডিটেও সীমা নেই। মেস যতদিন আছে, প্রতিটা মাসের হিসাব ততদিন থাকে। পিডিএফ আর সিএসভি এক্সপোর্ট, রসিদের ছবি আর মেস ফাইন্ডার — সবই বিনা খরচে।

মেস খাতা কি বাংলায় চালানো যায়?

হ্যাঁ, মেস খাতা ডিফল্টভাবেই বাংলায়, সংখ্যাও বাংলায়, আর যেকোনো সময় ইংরেজিতে বদলানো যায়। চাইলে লাইট, ডার্ক বা গ্লাস থিম আর পছন্দের ফন্টও বেছে নিতে পারবেন।

ইন্টারনেট ছাড়া কি মেস খাতা চলে?

না, মেস খাতা চালাতে ইন্টারনেট লাগে; অফলাইন মোড নেই। এ কারণেই সব মেম্বারের ফোনে একই সংখ্যা দেখায়, কারণ প্রতিটা এন্ট্রি সরাসরি মেসের শেয়ার করা হিসাবে যায়। মোবাইল ডেটাই যথেষ্ট, আর একদিন নেট না থাকলে ফিরে এসে বাদ পড়া মিল লিখে দিতে পারবেন, যদি কাটঅফ সময়ে দিনটা লক না হয়ে যায়।

মেসে মিলের কাটঅফ টাইম মানে কী?

মিল কাটঅফ হলো সেই সময়সীমা, যার পরে ওই দিনের মিল আর অন বা অফ করা যায় না — যেমন আগের রাত ১০টা। এটা থাকে যাতে ম্যানেজার আর বুয়া জানে কতটুকু বাজার আর রান্না লাগবে। মেস খাতায় ম্যানেজার কাটঅফ দিতে পারেন আগের সন্ধ্যায়, ওই দিনের কোনো সময়ে, বা দিনের শেষে; এরপর শুধু ম্যানেজারই ওই দিন বদলাতে পারেন, আর সেটা লগে থাকে।

মেসে বাজারের পালা বা বাজার ডিউটি কী?

বাজার ডিউটি হলো মেসের কেনাকাটা করার জন্য প্রত্যেক মেম্বারের পালা, সাধারণত কয়েক দিন বা এক সপ্তাহ করে। একটা রুটিন ঠিক করে দেয় কার পালা কখন, যাতে কাজটা সবার মধ্যে ভাগ হয়। মেস খাতায় বাজার ডিউটির রুটিন আছে — শুরুর তারিখ, কতদিনের পালা আর কার পর কে — আর এটা দেখায় আজ কে বাজার করবে আর সামনের দুই সপ্তাহের তালিকা।

মেসে জমা বা অগ্রিম টাকা মানে কী?

জমা বা অগ্রিম হলো মাসের শুরুতে প্রত্যেক মেম্বারের মেসের ফান্ডে দেওয়া টাকা, যাতে চূড়ান্ত হিসাবের আগেই বাজার আর বিল চালানো যায়। মাস শেষে এটা তার খরচের সাথে মেলানো হয়: ৩,০০০ টাকা জমা দিলেন, খরচ হলো ২,৭০০ টাকা, তাহলে ৩০০ টাকা ফেরত পাবেন। মেস খাতায় জমা লেখা হয় মাধ্যমসহ, যেমন বিকাশ বা ক্যাশ, আর ট্রানজেকশন আইডিসহ।

মেসের সিট ভাড়া আর সার্ভিস চার্জ কী?

সিট ভাড়া হলো মেসে আপনার বেড বা রুমের ভাড়া, আর সার্ভিস চার্জ হলো কিছু মেসে বুয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর ইউটিলিটির জন্য নেওয়া একটা নির্দিষ্ট মাসিক টাকা। দুটোই ফিক্সড খরচ, খাবারের খরচ থেকে আলাদা। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া সাধারণত শেয়ার করা রুমের সিটের চেয়ে বেশি, আর কিছু মেসে ভাড়া ভাগের সময় সিঙ্গেল রুমকে দুই ভাগ ধরা হয়।

মেস খাতার সাইটে খালি মেস সিট কিভাবে খুঁজব?

মেস খাতার মেস ফাইন্ডারে যান, সেখানে খালি মেস সিট, রুম আর সাবলেট ফ্রিতে দেওয়া থাকে; রুমের ধরন, কাদের জন্য আর সর্বোচ্চ ভাড়া দিয়ে ফিল্টার করুন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, ফার্মগেটের মতো এলাকার আলাদা পেজও আছে। প্রতিটা বিজ্ঞাপনে ভাড়া আর খরচ, শর্ত, ছবি আর ফোন নম্বর থাকে; শুধু দেখতে কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না।

প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক

মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।

আরও প্রশ্নোত্তর