মেস খাতা

মেসের সিট বা রুম খোঁজা

সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন

যারা মেসের সিট, রুম বা সাবলেট খুঁজছেন আর যে মেস খালি সিট ভরাতে চায়, তাদের জন্য কাজের উত্তর। কোথায় খুঁজবেন, টাকা দেওয়ার আগে কী দেখবেন আর মেস খাতার ফ্রি ফাইন্ডারে কিভাবে বিজ্ঞাপন দেবেন, সব এখানে।

ঢাকায় মেসের সিট কোথায় পাব?

সবচেয়ে দ্রুত পাওয়া যায় অনলাইন লিস্টিং, ফেসবুকের মেস আর টু-লেট গ্রুপ, রাস্তার টু-লেট সাইন আর যেসব বন্ধু বা সিনিয়র আগে থেকে মেসে থাকে তাদের কাছে। মেস খাতার ফ্রি ফাইন্ডারে খালি সিট, রুম আর সাবলেট ভাড়া ও খরচসহ দেখা যায়, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই। একসাথে কয়েকটা জায়গায় খুঁজুন, তিন-চারটা বাছাই করে প্রত্যেকটা নিজে গিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

মেস খাতার ফাইন্ডারে মেস কিভাবে সার্চ করব?

ফাইন্ডারের পেজ খুলে এলাকা, শহর বা কোনো শব্দ লিখে সার্চ করুন, তারপর রুমের ধরন, কাদের জন্য আর সর্বোচ্চ ভাড়া দিয়ে ফিল্টার করুন। প্রতিটা লিস্টিংয়ে ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, অ্যাডভান্স আর পোস্টদাতা দিলে আনুমানিক মিল খরচ দেখা যায়, সাথে শর্ত, সুবিধা, ছবি আর কল করার ফোন নম্বর। স্ক্রল করলে আরও লিস্টিং আসতে থাকে, বাজেট আর জায়গা মিললে থামুন।

মেস ফাইন্ডার কি ফ্রি? দেখার জন্য কি সাইনআপ লাগে?

হ্যাঁ, ফাইন্ডার পুরোপুরি ফ্রি, আর শুধু দেখার জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না। সার্চ, ফিল্টার, লিস্টিং খোলা, ফোন নম্বর দেখা সবই সাইনআপ ছাড়া করা যায়। নিজে খালি সিটের বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে শুধু ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে একটা ফ্রি মেস খাতা অ্যাকাউন্ট লাগবে। টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন উপরে তোলার মতো কিছু নেই।

ফেসবুক গ্রুপে মেস খোঁজা কি ভালো?

মেস সিট, টু-লেট আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে অনেক খালি সিটের পোস্ট আসে, তাই জয়েন করে রাখা ভালো। সমস্যা হলো পোস্ট দ্রুত নিচে চলে যায়, অ্যাডভান্সের মতো তথ্য প্রায়ই থাকে না, আর যে কেউ পোস্ট দিতে পারে। প্রতিটা পোস্টকে একটা খোঁজ হিসেবে নিন: ফোন দিন, প্রশ্ন করুন, নিজে গিয়ে দেখুন, আর পোস্ট বিশ্বাসযোগ্য লাগছে বলেই টাকা পাঠাবেন না।

বিক্রয় বা বিপ্রপার্টিতে কি মেসের সিট পাওয়া যায়?

কিছু মানুষ বিক্রয় আর বিপ্রপার্টির মতো ক্লাসিফাইড ও প্রপার্টি সাইটেও রুম আর সিটের বিজ্ঞাপন দেয়, তাই এগুলোও খোঁজার একটা জায়গা হতে পারে। যে সাইটেই বিজ্ঞাপন পান, নিয়ম একই: ঠিকানা নিশ্চিত করুন, টাকা দেওয়ার আগে গিয়ে দেখুন, যাদের সাথে থাকবেন তাদের সাথে দেখা করুন, আর অ্যাডভান্সের লিখিত প্রমাণ রাখুন। যেকোনো সাইটের বিজ্ঞাপন ঠিক ততটুকুই বিশ্বাসযোগ্য, যতটুকু যিনি পোস্ট দিয়েছেন।

টু-লেট সাইন দেখে কি এখনো মেস পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, পছন্দের এলাকার গলিতে হেঁটে গেট আর দেয়ালের টু-লেট সাইন পড়লে এমন সিট পাওয়া যায় যা অনলাইনে কখনো আসে না। সাইনের ছবি তুলে রাখুন যাতে নম্বর থাকে, রাস্তা থেকেই ফোন দিন আর তখনই দেখতে পারবেন কিনা জিজ্ঞেস করুন। বিশ্ববিদ্যালয় আর অফিসের কাছের এলাকায়, আর মাসের শুরুর দিকে যখন মানুষ সিট ছাড়ে, তখন এটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

চট্টগ্রাম বা ঢাকার বাইরে মেস কিভাবে খুঁজব?

ফাইন্ডারে শহর বা এলাকার নাম লিখে সার্চ করুন, কারণ বাংলাদেশের যেকোনো এলাকা আর শহরের লিস্টিং পোস্ট করা যায়, আর সার্চ শিরোনাম, এলাকা ও শহর সবকিছুতে খোঁজে। আলাদা এলাকা-পেজ শুধু ঢাকার দশটা এলাকার জন্য আছে, তাই ঢাকার বাইরে সার্চ বক্সই ভরসা। সাথে স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের টু-লেট সাইন আর সেখানে থাকা ছাত্রদের জিজ্ঞেস করুন।

মেস ফাইন্ডারে ঢাকার কোন কোন এলাকার আলাদা পেজ আছে?

ফাইন্ডারে ঢাকার দশটা এলাকার আলাদা পেজ আছে: মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, মগবাজার, ফার্মগেট, রামপুরা আর খিলগাঁও। প্রতিটা পেজে ওই এলাকায় পোস্ট করা খোলা লিস্টিংগুলো একসাথে থাকে, তাই পছন্দের পেজটা বুকমার্ক করে মাঝে মাঝে দেখতে পারেন। ঢাকার অন্য এলাকার লিস্টিংও ফাইন্ডারে আছে, সেগুলো সার্চ বক্সে খুঁজে নিন।

আমার এলাকার পেজে কোনো খালি সিট না দেখালে কী করব?

এলাকা-পেজ খালি মানে এই মুহূর্তে সেখানে কিছু খোলা নেই, কারণ সিট থাকুক বা না থাকুক পেজটা থেকেই যায়। কয়েক দিন পরপর আবার দেখুন, কারণ মাসের শেষ আর শুরুর দিকে সিট খালি হয়, আর পাশের যেসব এলাকা থেকে যাতায়াত করা যায় সেগুলোও সার্চ করুন। এর মধ্যে ওই এলাকার টু-লেট সাইন আর স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপেও চোখ রাখুন।

মেসে ওঠার আগে কী কী দেখে নেওয়া উচিত?

নিজে গিয়ে মৌলিক জিনিসগুলো দেখুন: পানির সাপ্লাই আর চাপ, রান্নার গ্যাস, এক বাথরুম কয়জন ব্যবহার করে, রুমে আলো-বাতাস, বিদ্যুৎ গেলে ব্যাকআপ, আর রাতে বিল্ডিং ও গলি কতটা নিরাপদ লাগে। যে সময়ে আপনি আসলে যাতায়াত করবেন, সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিসে যেতে কতক্ষণ লাগে মেপে দেখুন। গেট বা কারফিউর নিয়ম, বুয়া আছে কিনা, আর ভাড়ার মধ্যে কী কী ধরা আছে সেটাও জেনে নিন।

মেসের বর্তমান মেম্বারদের কী কী প্রশ্ন করব?

মিল রেট কিভাবে বের করা হয়, বাজার কিভাবে ভাগ হয়, ভাড়া আর বকেয়া কবে কার কাছে দিতে হয়, আর গত কয়েক মাসের মিল খরচ কেমন ছিল জিজ্ঞেস করুন। গেটের সময়, গেস্ট, শব্দ, ধূমপান, পরিষ্কারের দায়িত্ব আর আগের জন কেন চলে গেছে সেটাও জানুন। বাড়িওয়ালা বা যিনি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তার চেয়ে মেম্বাররা সাধারণত খোলাখুলি বলে, তাই অন্তত দুইজনের সাথে কথা বলুন।

মেসে ওঠার আগে কিভাবে বুঝব তারা হিসাব ঠিকঠাক রাখে কিনা?

গত মাসের হিসাবটা দেখতে চান: মোট বাজার, মোট মিল, মিল রেট আর প্রত্যেক মেম্বার কত দিয়েছে ও কত পাবে বা দেবে। ভালো চলা মেস এক মিনিটেই এটা দেখাতে পারে, আর মিল রেট হওয়া উচিত মোট বাজার ভাগ মোট মিল। মেসটা যদি মেস খাতা ব্যবহার করে, তাহলে প্রত্যেক মেম্বার বাজারের এন্ট্রি, রসিদের ছবি আর কে কী বদলেছে তার লগ দেখতে পারে, যা স্বচ্ছ হিসাবের ভালো লক্ষণ।

মেসের অ্যাডভান্স বা সিকিউরিটি মানি আসলে কী?

অ্যাডভান্স বা সিকিউরিটি মানি হলো সিট নেওয়ার সময় একবার দেওয়া টাকা, যা বাড়িওয়ালা বা মেস বকেয়া বা ক্ষতির জামানত হিসেবে রাখে আর সাধারণত চলে যাওয়ার সময় হিসাব করে দেয়। পরিমাণ প্রতিটা মেস নিজে ঠিক করে, তাই ঠিক কত, কার কাছে থাকবে আর কোন শর্তে ফেরত আসবে আগেই জেনে নিন। মেস খাতার ফাইন্ডারে প্রতিটা লিস্টিংয়ে ভাড়ার পাশেই অ্যাডভান্সের অঙ্ক দেখানো থাকে।

মেসে অ্যাডভান্স দিলে কি রসিদ নেওয়া উচিত?

হ্যাঁ, সবসময় প্রমাণ রাখুন। সম্ভব হলে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকে দিন আর ট্রানজেকশন আইডি রেখে দিন; নগদ টাকায় দিলে টাকার অঙ্ক, তারিখ, আপনার নাম আর সিটের কথা লিখে সই করা একটা কাগজ নিন। ওই কাগজেই লিখে নিন অ্যাডভান্স কবে আর কিভাবে ফেরত আসবে। কিছু না থাকার চেয়ে মেসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টাকা পাওয়ার স্বীকারোক্তিও ভালো।

মেস ছাড়লে অ্যাডভান্সের টাকা কি ফেরত পাব?

সাধারণত পান, তবে বকেয়া কেটে, আর সেটাও টাকা দেওয়ার সময় যে শর্ত ঠিক হয়েছিল সেই অনুযায়ী, তাই শর্তগুলো শুরুতেই পরিষ্কার করে নিন। ঝামেলা বেশি হয় দেরিতে নোটিশ, মিলের বকেয়া আর কিছু নষ্ট হলে। যেমন, শেষ হিসাবে আপনার ৭৫০ টাকা বকেয়া আর অ্যাডভান্স দিয়েছিলেন ৩,৫০০ টাকা, তাহলে কথামতো মেস আপনাকে ২,৭৫০ টাকা ফেরত দেবে।

সিট ভাড়া ছাড়া মেসে আর কী কী খরচ থাকে?

ভাড়া, অনেক সময় ইউটিলিটি আর বুয়ার জন্য সার্ভিস চার্জ, নিজের খাওয়ার খরচ, আর শুরুতে একবার অ্যাডভান্স ধরে রাখুন। যেমন, ভাড়া ৩,৫০০ টাকা আর সার্ভিস চার্জ ৫০০ টাকা হলে খাওয়ার আগেই মাসে ৪,০০০ টাকা; মিল খরচ ৩,০০০ টাকার মতো হলে মাসে মোটামুটি ৭,০০০ টাকা, আর শুরুতে আলাদা করে অ্যাডভান্স। বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াইফাই আর বুয়ার বেতন সার্ভিস চার্জের ভেতরে নাকি আলাদা বিল হয়, জিজ্ঞেস করে নিন।

মেস খুঁজতে গিয়ে প্রতারণা থেকে কিভাবে বাঁচব?

নিজে গিয়ে সিট না দেখে আর সেখানে থাকে এমন কারো সাথে দেখা না করে কোনো টাকা দেবেন না, ছোট বুকিং ফি-ও না। এলাকার তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়া, আজই টাকা দেওয়ার চাপ, রুম দেখাতে না চাওয়া, বা ঢাকার বাইরে আছি বলে আগে বিকাশ চাওয়া, এসব দেখলে সাবধান। অ্যাডভান্স শুধু তাকেই দিন যিনি আসলে মেস চালান, আর টাকা দেওয়ার প্রমাণ রাখুন।

না দেখে সিট বুক করতে বিকাশে অ্যাডভান্স পাঠানো কি নিরাপদ?

না। না দেখা সিটের জন্য টাকা পাঠানোই টাকা হারানোর সবচেয়ে সাধারণ উপায়, আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে একবার পাঠালে ফেরত আনা কঠিন। আসল মেস আগে দেখতে দেবে; কেউ দেখাতে রাজি না হলে অন্য জায়গা খুঁজুন। জায়গা দেখে, মেম্বারদের সাথে কথা বলে, শর্ত ঠিক করার পর বিকাশে দিয়ে ট্রানজেকশন আইডি রাখা বরং প্রমাণ রাখার ভালো উপায়।

মেসের খালি সিটের বিজ্ঞাপনে কোন লক্ষণ দেখলে সন্দেহ করব?

সঠিক এলাকার নাম নেই, ইন্টারনেট থেকে নেওয়া বা জায়গার সাথে না মেলা ছবি, সবসময় বন্ধ থাকা ফোন নম্বর, আর আশেপাশের তুলনায় অনেক কম ভাড়া, এগুলো খেয়াল করুন। যিনি শুধু চ্যাটে কথা বলেন, দেখতে যাওয়ার সময় দেন না, বা ‘সিট ধরে রাখতে’ টাকা চান, তাদের ব্যাপারেও সাবধান থাকুন। আসল বিজ্ঞাপনে সাধারণত ভাড়া, অ্যাডভান্স আর নিয়ম পরিষ্কার লেখা থাকে আর এসে দেখতে বলা হয়।

মেস দেখতে কি একা যাওয়া ঠিক হবে?

বন্ধু, ক্লাসমেট বা আত্মীয় কাউকে সাথে নেওয়া নিরাপদ, বিশেষ করে অচেনা এলাকায় প্রথমবার গেলে। দিনের আলোয় যান, কোথায় যাচ্ছেন কাউকে জানান আর ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর শেয়ার করুন, ফোনে চার্জ রাখুন। জায়গা বা মানুষগুলো নিয়ে খটকা লাগলে চলে আসুন; সিট আরও পাওয়া যাবে।

সিঙ্গেল সিট নাকি শেয়ার্ড সিট, কোনটা নেব?

শেয়ার্ড সিটে খরচ কম, যদি সহজে ঘুমাতে পারেন আর পড়াশোনা বাইরে করেন তাহলে চলে; সিঙ্গেল রুমে খরচ বেশি কিন্তু পড়া, ফোনে কথা আর অসময়ে থাকার প্রাইভেসি পাবেন। অনেক মেস ভাড়া শেয়ার হিসেবে ভাগ করে, যেমন সিঙ্গেল রুম ২ শেয়ার আর শেয়ার্ড রুমের বেড ১ শেয়ার। যেমন, ১২,০০০ টাকা ভাড়া একটা সিঙ্গেল রুম (২ শেয়ার) আর চারটা বেডে (১ করে) ভাগ হলে প্রতি শেয়ার ২,০০০ টাকা: সিঙ্গেল ৪,০০০ টাকা, প্রতি বেড ২,০০০ টাকা।

ফাইন্ডারে সিঙ্গেল রুম, শেয়ার্ড সিট আর পুরো ফ্ল্যাট মানে কী?

সিঙ্গেল রুম মানে শেয়ার করা মেস ফ্ল্যাটের ভেতরে আপনার নিজের একটা রুম; শেয়ার্ড মানে অন্যদের সাথে ভাগ করা রুমে একটা সিট বা বেড, মানে চিরচেনা মেস সিট; পুরো ফ্ল্যাট মানে পুরো বাসা, যারা দল বেঁধে একসাথে উঠবে তাদের জন্য। ফাইন্ডারে এগুলো দিয়ে ফিল্টার করা যায়, আর প্রতিটা লিস্টিংয়ে কয়টা সিট খালি আর কোন তারিখ থেকে পাওয়া যাবে লেখা থাকে।

ঢাকায় মেয়েদের মেস কিভাবে খুঁজব?

ফাইন্ডারে ‘কাদের জন্য’ অপশনে মেয়েদের বেছে নিন: শুধু মেয়েদের লিস্টিং আর যেগুলো সবার জন্য খোলা সেগুলো দুটোই দেখাবে, যাতে আপনাকে নিতে রাজি এমন মেস বাদ না পড়ে। সাথে মেয়েদের ফেসবুক গ্রুপ, মেয়ে সিনিয়র ও ক্লাসমেট, আর ‘মহিলা মেস’ বা ‘মেয়েদের জন্য’ লেখা টু-লেট সাইন দেখুন। বিশ্বস্ত কাউকে নিয়ে দেখতে যান আর সেখানে থাকা মেম্বারদের সাথে কথা বলুন।

লেডিস মেসে ওঠার আগে মেয়েদের কী কী খেয়াল করা দরকার?

বিল্ডিংয়ের চাবি আর ঢোকার সুযোগ কার কার আছে, দারোয়ান বা কেয়ারটেকার আছে কিনা, গেটের সময়, ছেলে অতিথি নিয়ে নিয়ম, আর রাতে গলিতে কতটা আলো থাকে দেখুন। বর্তমান মেম্বারদের সরাসরি জিজ্ঞেস করুন তারা কতটা নিরাপদ বোধ করে, আর বাড়িওয়ালার পরিবার একই বিল্ডিংয়ে থাকে কিনা। ক্লাস বা ডিউটি শেষে দেরি হলে কী নিয়ম, সেটাও নিশ্চিত হয়ে নিন।

ভার্সিটির কাছে মেস কিভাবে পাব?

শুরু করুন ডিপার্টমেন্ট আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপ আর সিনিয়রদের দিয়ে, কারণ অনেক মেসের সিট এক ব্যাচ থেকে পরের ব্যাচে হাতবদল হয়। তারপর ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকা ফাইন্ডারে সার্চ করুন আর ওই গলিগুলোতে হেঁটে টু-লেট সাইন দেখুন। ক্লাস শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে খোঁজা শুরু করলে ভর্তির সপ্তাহের চেয়ে অনেক বেশি অপশন পাবেন।

ক্যাম্পাসের একদম পাশে থাকা ভালো নাকি একটু দূরে?

বাজেট আর সময়ের উপর নির্ভর করে। ক্যাম্পাসের পাশের মেসে প্রতিদিন যাতায়াতের সময় আর টাকা বাঁচে, কিন্তু চাহিদা বেশি থাকে, আর একটু দূরে বাসে যাওয়া যায় এমন জায়গায় সিট পাওয়া সহজ হতে পারে। তুলনা করার আগে এক মাসের ভাড়া আর রোজকার যাতায়াত খরচ যোগ করে দেখুন, আর ভিড়ের সময়ে আসল যাতায়াতের সময়টা মেপে নিন।

ফাইন্ডারে ফ্রিতে মেসের খালি সিটের বিজ্ঞাপন কিভাবে দেব?

ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে একটা ফ্রি মেস খাতা অ্যাকাউন্ট খুলুন, ফাইন্ডারে গিয়ে খালি সিট পোস্ট করার অপশন বেছে নিন। শিরোনাম, এলাকা ও শহর, রুমের ধরন, কয়টা সিট, ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, অ্যাডভান্স, কাদের জন্য, কোন তারিখ থেকে খালি আর ফোন নম্বর দিন, তারপর সুবিধা, শর্ত আর ছবি যোগ করুন। পোস্ট করা ফ্রি, আর এর জন্য আগে অ্যাপে মেস সেটআপ করা লাগে না।

মেসের সিট খালির বিজ্ঞাপনে কী কী লিখব?

সিটের ধরন আর এলাকা দিয়ে পরিষ্কার একটা শিরোনাম দিন, যেমন ‘ছেলে ছাত্রদের জন্য শেয়ার্ড সিট, মেইন রোডের কাছে’। তারপর ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, অ্যাডভান্স আর এগুলোর মধ্যে কী ধরা আছে, কয় তলা ও কী সুবিধা, মিলের নিয়ম, গেটের সময় আর ধূমপানের মতো নিয়ম, আর কাকে খুঁজছেন লিখুন। সৎ আর পূর্ণ বিজ্ঞাপনে অপ্রয়োজনীয় ফোন কম আসে, কারণ যাদের মিলবে না তারা নিজেরাই বুঝে যায়।

মেসের লিস্টিংয়ে কী ধরনের ছবি দেব?

মেস খাতার ফাইন্ডারে একটা লিস্টিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটা ছবি দেওয়া যায়, তাই যেগুলো নিয়ে মানুষ বেশি জিজ্ঞেস করে সেগুলোর ছবি দিন: খালি রুম বা বেড, বাথরুম, রান্নাঘর বা খাওয়ার জায়গা, আর বিল্ডিংয়ের গেট। দিনের আলোয় তুলুন, ছবি হালনাগাদ রাখুন, আর অন্য রুমের ছবি দেবেন না। সঠিক ছবি দিলে যারা নেবে না তাদের বারবার জায়গা দেখানোর ঝামেলা কমে।

ফাইন্ডারে আমার ফোন নম্বর কি সবাই দেখতে পাবে?

হ্যাঁ, লিস্টিং খুললেই যে কেউ আপনার দেওয়া নম্বর পুরোটা দেখতে পায়, ফোনে এক চাপে কল করার বাটনসহ, কারণ সিট খোঁজা মানুষ এভাবেই যোগাযোগ করে; দেখার জন্য তাদের অ্যাকাউন্টও লাগে না। তাই এমন নম্বর দিন যা সবার সাথে শেয়ার করতে আপত্তি নেই, যেমন মেস ম্যানেজারের নম্বর। পুরো ঠিকানা দেওয়া ঐচ্ছিক, আর সিট ভরে গেলে লিস্টিং বন্ধ করলে সেটা সার্চ থেকে সরে যায়।

সিট ভরে গেলে লিস্টিং কিভাবে বন্ধ করব?

ফাইন্ডারে ‘আমার লিস্টিং’ পেজে গিয়ে যেটার সিট ভরে গেছে সেটা ক্লোজ করুন। বন্ধ লিস্টিং সার্চ থেকে সরে যায়, কিন্তু পেজটা থেকে যায় আর ‘বন্ধ’ দেখায়, তাই যার কাছে লিংক সেভ করা আছে সে ভাঙা পেজের বদলে বুঝবে সিট নেওয়া হয়ে গেছে। যেদিন কারো সাথে কথা পাকা হবে সেদিনই বন্ধ করুন, তাহলে আর ফোন আসবে না।

মেসের লিস্টিং পরে আবার চালু, এডিট বা ডিলিট করা যায়?

হ্যাঁ। আপনার লিস্টিংয়ের পেজ থেকে সিট আবার খালি হলে বন্ধ লিস্টিং চালু করতে পারবেন, ভাড়া বা কোন তারিখ থেকে খালি এসব এডিট করতে পারবেন, ছবি যোগ বা বাদ দিতে পারবেন, অথবা ছবিসহ পুরো লিস্টিং ডিলিট করতে পারবেন। পরের টার্মে একই সিট খালি হলে পুরনোটা আবার চালু করলে সব নতুন করে লিখতে হয় না; শুধু আগে তারিখ আর ভাড়া ঠিক করে নিন।

আগেভাগে মেস ছাড়তে হলে কি নিজের সিট সাবলেট দিতে পারব?

শুধু অন্য মেম্বার আর বাড়িওয়ালা রাজি থাকলে, কারণ নতুন মানুষটার সাথে তারাই থাকবে আর তারাই ভাড়া দেবে। রাজি হলে সিটটা ফাইন্ডার আর ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করতে পারেন, তবে যে আসবে তাকে মেম্বারদের সাথে দেখা করিয়ে তাদের সম্মতি নিন। এই মাসের বাকি ভাড়া কে দেবে, আর আপনার অ্যাডভান্স নতুনজনের নামে যাবে নাকি আপনি ফেরত পাবেন, মেসের সাথে পরিষ্কার করে নিন।

মেস ছাড়ার কতদিন আগে জানানো উচিত?

ওঠার সময় মেসের সাথে যত দিনের নোটিশের কথা হয়েছিল ততদিন আগে জানান, আর কিছু ঠিক না থাকলে যত আগে সম্ভব ম্যানেজারকে বলুন, পারলে পরের মাসের ভাড়া আর বাজারের পরিকল্পনার আগেই। দেরিতে জানালে অনেক সময় পরের মাসের ভাড়া দিতে হয় বা অ্যাডভান্সের একটা অংশ কাটা যায়। আগে জানালে মেসও বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার সিট ভরানোর সময় পায়।

মেস ছেড়ে যাওয়ার সময় কী কী আদব মেনে চলা উচিত?

বকেয়া মিটিয়ে দিন, চাবি ফেরত দিন, নিজের জায়গা আর ব্যবহার করা শেয়ার্ড জায়গা পরিষ্কার করুন, আর নিজের সব জিনিস নিয়ে যান। বাজারের ডিউটি শেষ করে যান বা কারো সাথে বদলে নিন, আর অর্ধেক মিলের হিসাব বা না লেখা জমার টাকা ফেলে যাবেন না। মেস খাতায় মেস ছাড়ার মানে নিজেকে মেস থেকে সরিয়ে নেওয়া, আর আপনার আগের এন্ট্রিগুলো থেকে যায়, তাই যে মাসগুলোতে ছিলেন সেগুলোর হিসাব ঠিকই মেলে।

মেস ছাড়ার সময় শেষ হিসাব কিভাবে মেটাব?

আপনার ব্যালান্স হলো যত টাকা জমা দিয়েছেন তা থেকে মিল আর শেয়ার্ড খরচ বাবদ যত চার্জ হয়েছে সেটা বাদ দেওয়া। যেমন, জমা দিয়েছেন ৬,০০০ টাকা আর মিল ও খরচের ভাগ মিলে চার্জ হয়েছে ৬,৭৫০ টাকা, তাহলে ব্যালান্স মাইনাস ৭৫০, মানে আপনাকে ৭৫০ টাকা দিতে হবে। মেস খাতায় প্রত্যেক মেম্বারের ব্যালান্স আর তার পেছনের প্রতিটা লাইনসহ স্টেটমেন্ট দেখা যায়, তাই টাকা লেনদেনের আগে দুই পক্ষই অঙ্কটা মিলিয়ে নিতে পারে।

প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক

মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।

আরও প্রশ্নোত্তর