মেস খাতা

মেসের জমা আর পেমেন্ট

সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন

মেসের ফান্ডে টাকা জমা নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর: অ্যাডভান্স, বিকাশ-নগদ-ক্যাশ পেমেন্ট, অনুমোদন, বাকি টাকা, ফেরত আর প্রমাণ।

মাসের শুরুতে মেসে কত টাকা অ্যাডভান্স জমা দেওয়া উচিত?

গত মাসের হিসাব দেখে মোটামুটি এক মাসের খরচের সমান টাকা আগে জমা নেওয়া ভালো। যেমন গত মাসে প্রত্যেকের খাওয়া খরচ ছিল প্রায় ৩,০০০ টাকা আর ভাড়া-বিল মিলিয়ে ২,৫০০ টাকা, তাহলে ৫,৫০০ টাকা অ্যাডভান্স নিলে মাস চলে যাবে। বাজারদর বাড়তি থাকলে একটু বেশি ধরুন, কারণ মাস শেষে বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া বা পরের মাসে নেওয়া যায়, কিন্তু ঘাটতি হলে ম্যানেজারকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়।

মেসে মাস শেষে ভাগ না করে আগে টাকা জমা নেওয়া হয় কেন?

আগে জমা নিলে ম্যানেজার মেসের টাকা দিয়ে বাজার করেন, নিজের টাকা দিয়ে নয়। জমা ছাড়া চললে প্রথম দুই সপ্তাহেই ম্যানেজারের ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি বাজারে চলে যেতে পারে, তারপর আটজনের পেছনে টাকার জন্য ঘুরতে হয়। আগে টাকা তুললে কার হাতে টান আছে সেটাও শুরুতেই বোঝা যায়, শেষ দিনে গিয়ে ঘাটতি দেখে চমকাতে হয় না।

মেসের মাসিক টাকা কত তারিখের মধ্যে দেওয়া উচিত?

মাস শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করুন, যেমন ৫ তারিখ, আর প্রতি মাসে সেটাই রাখুন যাতে কাউকে জিজ্ঞেস করতে না হয়। আপনার মেসের মাস যদি ১ তারিখ ছাড়া অন্য দিন শুরু হয়, তাহলে সেই দিন থেকে গুনে তারিখ দিন। মেস খাতায় মেস নিজেই মাস শুরুর দিন বেছে নেয়, তাই জমা, বাজার আর খরচ সব একই হিসাবের মাসে পড়ে।

বিকাশে ম্যানেজারকে মেসের টাকা কিভাবে পাঠাব?

বিকাশ অ্যাপ থেকে সেন্ড মানি করে ম্যানেজার মেসের টাকার জন্য যে নম্বর দিয়েছেন সেখানে পাঠান, তারপর কনফার্মেশনটা রেখে দিন। রেফারেন্সে নিজের নাম আর মাস লিখুন, যেমন “রহিম অক্টোবর জমা”, তাহলে ম্যানেজার সহজে মিলাতে পারবেন। এরপর ম্যানেজারকে টাকার পরিমাণ আর ট্রানজেকশন আইডি জানান, অথবা মেস খাতায় নিজেই “আমি টাকা দিয়েছি” দিয়ে রিপোর্ট করুন, যেটা ম্যানেজারের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবে।

ট্রানজেকশন আইডি কী, মেসের টাকা দেওয়ার সময় এটা লিখে রাখা কেন জরুরি?

ট্রানজেকশন আইডি হলো বিকাশ, নগদ বা রকেটের প্রতিটা পেমেন্টের আলাদা একটা কোড, আর নির্দিষ্ট কোনো পেমেন্ট সত্যিই হয়েছে কিনা প্রমাণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় এটাই। একই দিনে দুইজন ৫,০০০ টাকা করে পাঠালেও তাদের ট্রানজেকশন আইডি কখনো এক হবে না, তাই ম্যানেজার আলাদা করে চিনতে পারেন। মেস খাতায় প্রতিটা জমার সাথে ট্রানজেকশন আইডি লেখার ঘর আছে, তাই প্রমাণটা টাকার হিসাবের সাথেই থেকে যায়।

বিকাশ বা নগদের ট্রানজেকশন আইডি কোথায় পাব?

পেমেন্টের পর যে কনফার্মেশন এসএমএস আসে সেখানে আর বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাপের লেনদেনের হিস্ট্রিতে এটা পাবেন। মুখস্থ থেকে না লিখে হুবহু কপি করে নিন, কারণ একটা অক্ষর ভুল হলেই আর মিলবে না। এসএমএস মুছে গেলে অ্যাপের হিস্ট্রিতে গিয়ে পেমেন্টটায় ট্যাপ করুন, টাকার পরিমাণ আর সময়ের সাথে আইডিটা দেখাবে।

মেস খাতায় “আমি টাকা দিয়েছি” রিপোর্ট কিভাবে কাজ করে?

মেম্বার টাকার পরিমাণ, মাধ্যম আর ট্রানজেকশন আইডি লিখে দেন, আর জমাটা ম্যানেজারের কাছে পেন্ডিং হিসেবে যায়। ম্যানেজার অনুমোদন না করা পর্যন্ত পেন্ডিং রিপোর্ট ব্যালেন্সে কিছুই যোগ করে না, ফলে ভুল বা দুইবার করা দাবি থেকে মেস নিরাপদ থাকে। অনুমোদনের পর এটা সাধারণ জমার মতোই গোনা হয়, আর ম্যানেজার নিজে যে জমা এন্ট্রি করেন সেটা সাথে সাথেই গোনা হয়।

আমার জমা দেওয়া টাকা পেন্ডিং দেখাচ্ছে কেন?

এটা ম্যানেজারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, আর ততক্ষণ আপনার ব্যালেন্সে যোগ হবে না। এটা স্বাভাবিক: ম্যানেজার সাধারণত আগে নিজের ওয়ালেটে একই পরিমাণ আর ট্রানজেকশন আইডি মিলিয়ে দেখেন। কয়েক দিন ধরে পেন্ডিং থাকলে ট্রানজেকশন আইডিসহ ম্যানেজারকে মেসেজ দিন, হয়তো তিনি খেয়ালই করেননি।

মেম্বারের বিকাশ পেমেন্ট অনুমোদনের আগে ম্যানেজার কিভাবে যাচাই করবে?

অনুমোদনের আগে তিনটা জিনিস মিলান: ট্রানজেকশন আইডি, টাকার পরিমাণ আর সময়, আর মিলাবেন নিজের বিকাশ স্টেটমেন্টের সাথে, স্ক্রিনশটের সাথে নয়। মেম্বার যদি ৫,০০০ টাকা রিপোর্ট করেন কিন্তু ওই আইডিতে আপনার হিস্ট্রিতে ৪,৫০০ টাকা দেখায়, তাহলে অনুমোদন না দিয়ে ঠিক করতে বলুন। যা সত্যিই এসেছে শুধু সেটাই অনুমোদন দিন, কারণ গ্রুপে ব্যালেন্স শেয়ার হয়ে গেলে পরে ভুল শোধরানো ঝামেলার।

মেসের টাকা কি হাতে হাতে ক্যাশ দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ, ক্যাশ দিলেও সমস্যা নেই, শুধু সেদিনই টাকার পরিমাণ আর তারিখ লিখে রাখতে হবে। সম্ভব হলে আরেকজন মেম্বারের সামনে দিন, অথবা ম্যানেজারকে গ্রুপ চ্যাটে টাকা পাওয়ার কথা জানাতে বলুন। মেস খাতায় ম্যানেজার মাধ্যম হিসেবে ক্যাশ বেছে এন্ট্রি করেন, আর ম্যানেজারের এন্ট্রি বলে এটা সাথে সাথেই গোনা হয়।

ব্যাংক ট্রান্সফার করে মেসের টাকা দেওয়া কি ঠিক আছে?

হ্যাঁ, বড় অঙ্কের টাকা যেমন ভাড়ার ভাগ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার বেশ ভালো। ট্রান্সফারের রিমার্কসে নিজের নাম আর মাস লিখুন, আর ব্যাংক যে রেফারেন্স নম্বর দেয় সেটা ম্যানেজারকে পাঠান। মেস খাতায় জমাটা ব্যাংক মাধ্যমে এন্ট্রি করে ওই রেফারেন্স নম্বর ট্রানজেকশন আইডির ঘরে লেখা যায়, তাই বিকাশের মতোই পরে খুঁজে পাওয়া সহজ।

বিকাশের ক্যাশ আউট চার্জ কে দেবে, মেম্বার নাকি ম্যানেজার?

এর কোনো বাঁধা নিয়ম নেই, তাই মেসের সবাই মিলে আগেই ঠিক করে গ্রুপে লিখে রাখুন। অনেক মেসে নিয়ম থাকে, যে টাকা পাঠায় সে নিজের পাঠানোর চার্জ দেয়, আর বাজারের জন্য ম্যানেজার টাকা তুলতে গিয়ে যে ক্যাশ আউট চার্জ লাগে সেটা মেসের সবার যৌথ খরচ ধরা হয়। যেটাই ঠিক করুন, সবার জন্য একইভাবে চালান যাতে কেউ নিজেকে আলাদা মনে না করে।

টাকা পাঠানোর সময় চার্জের টাকাটা কি বাড়তি পাঠাতে হবে?

আপনাদের মেসের নিয়ম যদি হয় চার্জ যে পাঠায় সে দেবে, তাহলে হ্যাঁ: পুরো জমার টাকা ম্যানেজারের কাছে পৌঁছাতে হবে, চার্জ আপনার আলাদা। আপনার ৫,০০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলে ম্যানেজারের কাছে ৫,০০০ টাকাই আসা উচিত, আর আপনার নামে সেটুকুই জমা হবে। জমা সবসময় যত টাকা পৌঁছেছে সেটা দিয়েই লেখা হয়, আপনার ওয়ালেট থেকে যত কেটেছে সেটা দিয়ে নয়।

মেসের টাকা দেওয়ার জন্য বিকাশ, নগদ না রকেট কোনটা ভালো?

ম্যানেজার আর বেশিরভাগ মেম্বার যেটা আগে থেকে ব্যবহার করেন সেটাই নিন; হিসাবের দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। আসল কথা হলো ম্যানেজার প্রতিটা সার্ভিসের জন্য একটা করে নম্বর জানিয়ে দেবেন আর প্রতিটা পেমেন্টের ট্রানজেকশন আইডি থাকবে। মেস খাতায় বিকাশ, নগদ, রকেট পাশাপাশি লেখা যায়, সাথে ব্যাংক, ক্যাশ আর অন্যান্য মাধ্যমও, তাই একেকজন একেক মাধ্যমে দিলেও সমস্যা নেই।

মেসের টাকা পাঠানোর সময় রেফারেন্সে কী লিখব?

নিজের নাম, মাস আর কিসের টাকা সেটা লিখুন, যেমন “করিম নভেম্বর জমা” বা “করিম গ্যাস বিল”। প্রতিবার একই ধাঁচে লিখুন যাতে এক নজরে চেনা যায়। পরিষ্কার রেফারেন্স থাকলে একই সন্ধ্যায় কয়েকজন টাকা পাঠালেও ম্যানেজার কয়েক সেকেন্ডে বুঝে যান কোনটা কার টাকা।

মেসের টাকা ম্যানেজারের নিজের বিকাশে নেওয়া ঠিক, নাকি আলাদা নম্বর রাখা উচিত?

শুধু মেসের জন্য আলাদা একটা নম্বর রাখলে হিসাব সবচেয়ে পরিষ্কার থাকে, কারণ ম্যানেজারের নিজের খরচ মেম্বারদের টাকার সাথে মিশে যায় না। সেটা সম্ভব না হলে অন্তত প্রতিটা জমা আর প্রতিটা বাজার সেদিনই লিখে রাখুন, যাতে মেসের টাকা আর নিজের টাকা আলাদা করে বোঝা যায়। ম্যানেজার বদল হলে হাতে থাকা বাকি টাকা নতুন ম্যানেজারকে বুঝিয়ে দিয়ে সেটাও লিখে রাখুন।

মেসের ফান্ডের টাকা কার কাছে থাকা উচিত?

সাধারণত ম্যানেজারের কাছেই থাকে, কারণ বাজার আর বিল তিনিই দেন। কিছু মেসে দুইজন ম্যানেজার ভাগ করে রাখেন, একজন বাজারের আর একজন ভাড়া-বিলের, এতে কাজের চাপ আর দায়িত্ব দুটোই ভাগ হয়। মেস খাতায় একটা মেসে একাধিক ম্যানেজার রাখা যায়, আর যেকোনো পরিবর্তন অ্যাক্টিভিটি লগে ওঠে যা সব মেম্বার দেখতে পারেন।

যারা এখনো মেসের টাকা দেয়নি তাদের কিভাবে মনে করিয়ে দেব?

শেষ তারিখের এক-দুই দিন আগে গ্রুপে ছোট একটা তালিকা দিন কে দিয়েছে আর কে দেয়নি, কাউকে খোঁচা না দিয়ে। তারিখ পার হওয়ার পরও যে দেয়নি তাকে আলাদা করে মেসেজ দিন। মেস খাতা এসএমএস, ইমেইল বা পুশ নোটিফিকেশন পাঠায় না, তাই ম্যানেজার বর্তমান ব্যালেন্স হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপে শেয়ার করে দেন।

মেসের কোনো মেম্বার একদমই টাকা না দিলে কী করা উচিত?

প্রথমে আলাদা করে কথা বলুন, ঠিক কত টাকা বাকি দেখান, আর একটা তারিখ বা কিস্তি লিখিতভাবে ঠিক করুন। তারপরও না দিলে তার মিল বন্ধ করা হবে নাকি মেস ছাড়তে বলা হবে, সেটা ম্যানেজার একা না, সবাই মিলে ঠিক করুন। যেটাই হোক, তার হিসাব মুছবেন না; মেস খাতায় কেউ চলে গেলেও আগের এন্ট্রি থেকে যায়, তাই বাকি টাকার হিসাব চোখের সামনে থাকে।

দেরিতে টাকা দিলে কি মেসে জরিমানা করা যায়?

হ্যাঁ, যদি সবাই আগে থেকে রাজি থাকে; হঠাৎ জরিমানা করলে দেরিতে টাকা দেওয়ার চেয়েও বেশি ঝগড়া বাধে। ছোট একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক আর কয়েক দিনের ছাড় ঠিক করুন, আর ম্যানেজারসহ সবার ওপর একইভাবে খাটান। মেস খাতায় জরিমানা কাস্টম ভাগে খরচ হিসেবে লেখা হয়, তাই পুরো টাকা শুধু ওই একজনের ওপরই পড়ে।

মেসের জমা কি কিস্তিতে ভেঙে ভেঙে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, আর প্রতিটা কিস্তি নিজের তারিখ আর ট্রানজেকশন আইডিসহ আলাদা জমা হিসেবে লিখতে হবে। যেমন ২ তারিখে ৩,০০০ টাকা আর ১৫ তারিখে ২,৫০০ টাকা মিলে ৫,৫০০ টাকা জমা, আর প্রতিবার দেওয়ার পর মেম্বারের ব্যালেন্স আপডেট হয়। আলাদা করে লিখলে দ্বিতীয় কিস্তি আসলেই এসেছে কিনা সেটাও পরিষ্কার থাকে।

রুমমেটের হয়ে আমি কি মেসের টাকা দিয়ে দিতে পারি?

পারেন, তবে জমাটা রুমমেটের নামে হওয়া উচিত, আপনার নামে নয়, যদি না আপনারা অন্যভাবে ঠিক করেন। ম্যানেজারকে জানান টাকাটা কার, রেফারেন্সে তার নাম দিন, তারপর আপনাদের দুজনের হিসাব নিজেরা মিটিয়ে নিন। মেস খাতায় জমা প্রত্যেক মেম্বারের নামে আলাদা লেখা হয়, তাই ম্যানেজার এটা রুমমেটের ঘরে এন্ট্রি করলে তার ব্যালেন্সেই যোগ হবে।

ভুল অঙ্কের টাকা ম্যানেজারকে পাঠিয়ে ফেলেছি, এখন কী করব?

সাথে সাথে ট্রানজেকশন আইডি আর আসলে কত পাঠিয়েছেন সেটা ম্যানেজারকে জানান। জমা লেখা হবে যত টাকা পৌঁছেছে ততটাই, তাই ৫,০০০ টাকা পাঠাতে গিয়ে ৫০০ টাকা পাঠালে আপনার এখনো ৪,৫০০ টাকা বাকি। বেশি পাঠালে বাড়তিটা আপনার ব্যালেন্সে জমা থাকতে পারে অথবা ম্যানেজার ফেরত পাঠাতে পারেন; কোনটা হবে গ্রুপে ঠিক করে নিন।

মাস শেষে বেশি জমা দেওয়া টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, যত টাকা দিয়েছেন তার চেয়ে খরচ কম হলে পার্থক্যটা আপনার পাওনা। যেমন কেউ ৬,০০০ টাকা জমা দিলেন আর তার খরচ হলো ৫,৪০০ টাকা, তাহলে তিনি ৬০০ টাকা ফেরত পাবেন অথবা সেটা পরের মাসে যোগ হবে। মেস খাতায় ব্যালেন্স পজিটিভ মানে মেম্বার টাকা ফেরত পাবেন, আর সব মাসের ব্যালেন্স রাখা হয় বলে পরের মাসে নেওয়া পাওনা ভুলে যাওয়ার ভয় নেই।

মাস শেষে বেঁচে যাওয়া জমা পরের মাসে নেব নাকি ফেরত দেব?

মেম্বার থেকে গেলে পরের মাসে নিয়ে যাওয়াই সহজ, এতে দুইবার টাকা পাঠাতে হয় না আর পরের মাসের জমা কমে যায়। কেউ মেস ছেড়ে গেলে বা চাইলে ক্যাশে বা বিকাশে ফেরত দিন। যেমন কারো ৬০০ টাকা পাওনা থাকলে পরের মাসে ৫,৫০০ টাকার জায়গায় তাকে পাঠাতে হবে ৪,৯০০ টাকা।

বাড়িওয়ালার অ্যাডভান্স আর মেসের মাসিক জমা কি একই জিনিস?

না; বাড়িওয়ালার অ্যাডভান্স হলো একবারের সিকিউরিটি ডিপোজিট যা বাড়িওয়ালার কাছে থাকে, আর মাসিক জমা হলো এই মাসের বাজার আর বিলের টাকা। দুটো আলাদা করে লিখে রাখুন, কারণ অ্যাডভান্স সাধারণত বাসা ছাড়ার সময় চুক্তিমতো কাটাকাটি করে ফেরত আসে। মাসিক ফান্ডের সাথে মিশিয়ে ফেললে মনে হয় হাতে আসলের চেয়ে বেশি টাকা আছে।

বাড়িওয়ালার অ্যাডভান্সে কে কত দিয়েছে সেটার হিসাব কিভাবে রাখব?

কে কত টাকা আর কবে অ্যাডভান্সে দিয়েছে তার একটা সাধারণ তালিকা রাখুন। যেমন চারজন মিলে ২০,০০০ টাকা অ্যাডভান্স দিলে জনপ্রতি ৫,০০০ টাকা; প্রচলিত একটা নিয়ম হলো একজন চলে গেলে নতুন যিনি আসবেন তিনি চলে যাওয়া জনকে ৫,০০০ টাকা দেবেন, ফলে বাড়িওয়ালার কাছের অ্যাডভান্সে হাত দিতে হয় না। নিয়মটা কেউ ওঠার আগেই ঠিক করে নিন, কারণ কেউ মেস ছাড়ার সময় এটা নিয়েই প্রায়ই ঝামেলা হয়।

মেসের টাকা দেওয়ার কী কী প্রমাণ রেখে দেওয়া উচিত?

ট্রানজেকশন আইডিসহ পেমেন্টের এসএমএস বা অ্যাপের হিস্ট্রি রাখুন, আর ক্যাশ দিলে ম্যানেজারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার একটা মেসেজ নিয়ে রাখুন। অন্তত মাসের হিসাব মিটে সবাই ব্যালেন্স মেনে নেওয়া পর্যন্ত এগুলো রেখে দিন। মেস খাতায় ট্রানজেকশন আইডি লিখে রাখলে প্রমাণটা জমার সাথেই থেকে যায়, আর প্রত্যেক মেম্বারের স্টেটমেন্টে ব্যালেন্সের পেছনের সব লাইন দেখা যায়।

বিকাশ পেমেন্টের প্রমাণ হিসেবে শুধু স্ক্রিনশট কি যথেষ্ট?

স্ক্রিনশট কাজে লাগে, তবে ট্রানজেকশন আইডি এর চেয়ে শক্ত প্রমাণ, কারণ ম্যানেজার নিজের লেনদেনের হিস্ট্রিতে সেটা খুঁজে পান। স্ক্রিনশট কেটে, পুরোনোটা আবার পাঠিয়ে বা এডিট করে বানানো যায়, কিন্তু একটা ট্রানজেকশন আইডি একটাই সত্যিকারের পেমেন্ট দেখায়। তাই দুটোই পাঠান: সুবিধার জন্য স্ক্রিনশট আর যাচাইয়ের জন্য আইডি।

আমার জমা ঠিকমতো লেখা হয়েছে কিনা কিভাবে চেক করব?

নিজের স্টেটমেন্ট খুলে প্রতিটা জমা আপনার এসএমএস বা অ্যাপের হিস্ট্রির সাথে মিলিয়ে দেখুন। মেস খাতায় প্রত্যেক মেম্বার নিজের স্টেটমেন্টে ব্যালেন্সের পেছনের প্রতিটা লাইন দেখতে পারেন। কোনো পেমেন্ট বাদ পড়লে বা ভুল থাকলে মাস ক্লোজ হওয়ার আগেই জানান, কারণ ক্লোজ করা মাস ম্যানেজার আবার না খোলা পর্যন্ত লক থাকে।

জমা এন্ট্রি হয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজার কি সেটা বদলাতে বা মুছতে পারে?

হ্যাঁ, মাস খোলা থাকা অবস্থায় ভুল অঙ্ক, ভুল মেম্বার বা ভুল তারিখের জমা ম্যানেজার ঠিক করতে পারেন। প্রতিটা পরিবর্তন অ্যাক্টিভিটি লগে ওঠে যা সব মেম্বার পড়তে পারেন, তাই চুপিচুপি কিছু বদলানো যায় না। মাস ক্লোজ হয়ে গেলে ম্যানেজার আবার না খোলা পর্যন্ত ওই মাসের কিছুই কেউ বদলাতে পারে না, আর আবার খোলাটাও লগে থাকে।

কেউ বলছে টাকা দিয়েছে কিন্তু টাকা আসেনি, ম্যানেজার তখন কী করবে?

রিপোর্টটা অনুমোদন না দিয়ে রেখে দিন; অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এটা মেম্বারের ব্যালেন্সে কিছুই যোগ করবে না। মেম্বারকে ট্রানজেকশন আইডি আর নিজের হিস্ট্রি আবার দেখতে বলুন, কারণ টাকা হয়তো অন্য নম্বরে গেছে বা পেমেন্ট ফেইল করেছে। আসল টাকা পৌঁছালে মেম্বার সঠিক আইডি দিয়ে আবার রিপোর্ট করতে পারেন।

নিজের টাকায় বাজার করলে সেটা কি জমা হিসেবে ধরা হয়?

আপনার দেওয়া টাকার মধ্যে এটা ধরা হয়, তবে এটা বাজারের এন্ট্রি, জমা নয়। কত খরচ করেছেন সেটা নিজের টাকায় করা বাজার হিসেবে লিখুন; মেস খাতায় ম্যানেজার অনুমোদন দেওয়ার পরই এটা আপনার নামে যোগ হয়। যেমন ৪,০০০ টাকা জমা দিয়ে নিজের পকেট থেকে ৮০০ টাকার বাজার করলে অনুমোদনের পর আপনার মোট দেওয়া হলো ৪,৮০০ টাকা।

গ্যাস বা কারেন্ট বিল আমি নিজের টাকায় দিলে সেটা কি আমার হিসাবে যোগ হবে?

হ্যাঁ, নিজের পকেট থেকে দেওয়া বিল জমার মতোই মেসে আপনার দেওয়া টাকা হিসেবে ধরা হয়। যেমন ১,২০০ টাকার গ্যাস বিল আপনি দিলে আপনার নামে ১,২০০ টাকা যোগ হবে, আর বিলটা যথারীতি সবার মধ্যে ভাগ হবে। মেস খাতায় মেম্বারের নিজের টাকায় দেওয়া বিল তার নামে জমা হয়, তাই টাকা এদিক-ওদিক পাঠাতে হয় না।

ম্যানেজারকেও কি মাসের অ্যাডভান্স জমা দিতে হবে?

হ্যাঁ; ম্যানেজারও মেসে থাকেন আর খান, তাই অন্য সবার মতো একই অ্যাডভান্স দেবেন। নিজের জমাও অন্যদের মতো এন্ট্রি করলে হিসাব পরিষ্কার থাকে, আর কেউ ভাবে না যে ম্যানেজার শুধু মেম্বারদের টাকাই খরচ করছেন। এতে মাস শেষের ব্যালেন্সেও সবার আস্থা থাকে।

মাস শেষ হওয়ার আগেই মেসের জমা টাকা ফুরিয়ে গেলে কী করব?

টাকা পুরো ফুরানোর আগেই বাড়তি টাকা চান, ম্যানেজার নিজের পকেট থেকে দেওয়ার পরে নয়। যেমন আটজন ৪,০০০ টাকা করে মোট ৩২,০০০ টাকা দিল, আর ২২ তারিখে হাতে আছে মাত্র ৩,০০০ টাকা, তাহলে প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ১,০০০ টাকা নিলে ৮,০০০ টাকা যোগ হয়। মাস শেষে বাড়তি থাকলে সেটা সবার ব্যালেন্সে ফিরে যায়, তাই এই বাড়তি জমায় কারো বাড়তি খরচ হয় না।

প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক

মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।

আরও প্রশ্নোত্তর