মেস খাতা

মিল রেট আর মিল গোনা নিয়ে সব প্রশ্ন

সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৮টি প্রশ্ন

মেসের মিল রেট বের করা আর ন্যায্যভাবে মিল গোনা নিয়ে সোজা উত্তর, টাকায় এমন উদাহরণসহ যা হুবহু মিলে যায়। ভাড়া, বিল আর মাস শেষের ব্যালেন্স নিয়ে আলাদা পেজ আছে।

বাজার খরচ মাথাপিছু সমান ভাগ না করে মিল দিয়ে ভাগ করা হয় কেন?

কারণ একেকজন একেক রকম খায়, আর মিল দিয়ে ভাগ করলে প্রত্যেকে যতটুকু খেয়েছে ততটুকুর দাম দেয়। ৳১৮,৬০০ বাজার আর পাঁচজন সদস্য হলে সমান ভাগে প্রত্যেকের ৳৩,৭২০; কিন্তু মিল প্রতি ৳৬২ রেটে যে মাত্র ৪৬.৫টা মিল খেয়েছে সে দেবে ৪৬.৫ × ৳৬২ = ৳২,৮৮৩। ভাড়ার মতো স্থির খরচ মাথাপিছু ভাগ হয়, কারণ সেগুলো খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না।

মিল রেট কিভাবে বের করব?

মাসের মোট বাজারকে মাসের মোট মিল দিয়ে ভাগ করুন। মেসে খাবারের বাজার ৳১৮,৬০০ আর সবাই মিলে ৩০০ মিল খেলে মিল রেট ৳১৮,৬০০ ÷ ৩০০ = ৳৬২। আগে সব বাজারের খরচ যোগ করুন, তারপর গেস্ট মিলসহ সবার মিল যোগ করুন, শেষে ভাগ করুন।

মিল রেট থেকে প্রত্যেকের খাওয়ার খরচ কিভাবে বের করে?

সদস্যের মিল সংখ্যাকে মিল রেট দিয়ে গুণ করুন। রেট ৳৬২ হলে যে ৭২.৫টা মিল খেয়েছে তার খাওয়ার খরচ ৳৬২ × ৭২.৫ = ৳৪,৪৯৫। সবার জন্য এভাবে বের করে যোগ করলে মোট বাজারের সমান হওয়া উচিত, এটাই সবচেয়ে ভালো যাচাই যে কিছু বাদ পড়েনি।

মাসের মোট মিল কিভাবে গুনব?

মাসের প্রতিটা দিনের সব সদস্যের মিল আর গেস্ট মিল যোগ করুন। যেমন পাঁচজনের মিল ৭০, ৬৫, ৫৮.৫, ৬০ আর ৪৬.৫ হলে মোট মিল ৩০০। মাস শেষে মনে করে লেখার চেয়ে প্রতিদিন লিখে রাখা অনেক নির্ভরযোগ্য। মেস খাতায় প্রত্যেকে প্রতিদিনের নাস্তা, দুপুর আর রাতের মিল নিজে লেখেন, মোট যোগফল নিজেই হয়ে যায়।

হাফ মিল কিভাবে হিসাব করব?

হাফ মিলকে ০.৫ হিসেবে লিখুন। কেউ দুপুরে পুরো মিল আর রাতে অর্ধেক খেলে সেদিন তার মিল ১.৫, আর রেট দিয়ে গুণ করার সময় দশমিকও পূর্ণ সংখ্যার মতোই গুণ হয়। কোনটা হাফ ধরা হবে (যেমন অল্প পরিমাণ বা শুধু ভাত) সেটা আগেই ঠিক করে নিন, পরে ঝগড়া হবে না। মেস খাতায় ০.৫, ১.৫ এরকম দশমিক মিল লেখা যায়।

সকালের নাস্তা কি এক মিল নাকি হাফ মিল ধরা উচিত?

অনেক মেসে নাস্তাকে হাফ মিল আর দুপুর ও রাতকে এক মিল করে ধরা হয়, কারণ নাস্তা বানাতে খরচ কম। এই নিয়মে কেউ ৩০ দিন নাস্তা, ২৮ দিন দুপুর আর ৩০ দিন রাতে খেলে তার মিল ১৫ + ২৮ + ৩০ = ৭৩। যেকোনো নিয়মই চলে, শুধু মাস শুরুর আগে সবাই রাজি হতে হবে আর সবার জন্য একই নিয়ম খাটতে হবে।

গেস্ট মিল না লিখলে কি সবার মিল রেট বেড়ে যায়?

হ্যাঁ, তাই গেস্ট মিল অবশ্যই লিখতে হবে। গেস্টের খাবার তো বাজারেই আছে, তাই তার মিলও মোট মিলে যাবে: ৳১৮,৬০০ বাজার, সদস্যদের ২৯৬ মিল আর গেস্টের ৪ মিল হলে রেট ৳১৮,৬০০ ÷ ৩০০ = ৳৬২। গেস্ট মিল বাদ দিলে রেট হয় ৳১৮,৬০০ ÷ ২৯৬ = ৳৬২.৮৩৭৮, মানে অন্যের গেস্টের খাবারের দাম সবাই চুপচাপ একটু একটু করে দিচ্ছে।

রোজার মাসে সেহরি আর ইফতার কয় মিল ধরব?

রোজার মাসকেও অন্য মাসের মতো দেখুন: কোন বেলা কত মিল হবে আগে ঠিক করে সবার জন্য একই নিয়ম খাটান। কিছু মেস সেহরিকে এক মিল আর ইফতারকে হাফ ধরে, কেউ দুটোকেই এক মিল ধরে; প্রথম নিয়মে কেউ ২৮ দিন সেহরি আর ইফতার করলে তার মিল ২৮ + ১৪ = ৪২। যারা রোজা রাখছে না তাদের দুপুর আর রাতের মিল আগের মতোই গোনা হবে।

প্রতিদিন মিল গুনব নাকি দিনে নির্দিষ্ট মিল ধরে নেব, কোনটা ভালো?

প্রতিদিনের আসল মিল গোনা বেশি ন্যায্য; ফিক্সড মিল সহজ, কিন্তু না খাওয়া মিলের দামও নেয়। যে মেসে প্রায় সবাই সব বেলা খায় সেখানে ফিক্সড চলে, আর ছাত্র বা চাকরিজীবীরা প্রায়ই বাইরে খেলে প্রতিদিন গোনাই ভালো। মেস খাতা দুটোর মাঝামাঝি: প্রত্যেকে একটা স্থায়ী মিল প্ল্যান সেট করে, যেদিন লেখা হয়নি সেদিন সেটা বসে যায়, আর লেখা দিন সবসময় প্ল্যানের জায়গা নেয়।

মিল অফ করার শেষ সময় কখন রাখা উচিত?

আগের রাতই সবচেয়ে প্রচলিত আর কাজের সময়সীমা, কারণ বাজার আর রান্নার পরিকল্পনা আগেই হয়। কিছু মেস দুপুর আর রাতের মিল সকাল পর্যন্ত বদলাতে দেয়, এতে সুবিধা বেশি কিন্তু বাজারকারী আর বুয়ার জন্য ঝামেলা। মেস খাতায় ম্যানেজার চাইলে কাটঅফ বেছে নিতে পারেন: আগের রাতে নির্দিষ্ট সময়ে যেমন ১০টা, সেদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেমন সকাল ১০টা, বা দিনের শেষে।

কেউ মিল অফ করতে ভুলে গেলে কি হবে?

বেশিরভাগ মেসের নিয়মে মিলটা ধরা হয়, কারণ তার জন্য বাজার আর রান্না দুটোই হয়ে গেছে। এজন্যই পরিষ্কার একটা কাটঅফ সময় দরকার: তার আগে বদলানো যায়, পরে মিল থেকে যায়। মেস খাতায় কাটঅফ পেরোনো দিন সদস্যের জন্য লক হয়ে যায়, মেস রাজি থাকলে ম্যানেজার ঠিক করে দিতে পারেন, আর সেই পরিবর্তন অ্যাক্টিভিটি লগে সব সদস্য দেখতে পান।

মিল রেট দশমিকের পর কয় ঘর পর্যন্ত রাখব?

অন্তত দুই ঘর রাখুন, বেশি হলে আরো ভালো; রাউন্ড করুন শুধু প্রত্যেকের শেষ টাকার অঙ্ক। ৳১৮,৫০০ বাজার আর ২৯৭ মিলে রেট ৳৬২.২৮৯৬; একে ৳৬২ করে ফেললে ২৯৭ × ৳৬২ = ৳১৮,৪১৪, অর্থাৎ মেসের ৳৮৬ কম পড়ে। ঠিক এই কারণে মেস খাতা মিল রেট দশমিকের পর চার ঘর পর্যন্ত রাখে।

মিল রেট রাউন্ড করলে উপরে নাকি নিচে করব?

কোনোটাই না: রেট যেমন আছে রাখুন, আর শেষে প্রত্যেকের খাওয়ার খরচ কাছের টাকায় রাউন্ড করুন। রেট উপরে রাউন্ড করলে সবার কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়, নিচে করলে ফান্ডে ঘাটতি পড়ে। ৳১৮,৫০০ বাজার আর ২৯৭ মিলে ৳৬২.২৮৯৬ কে ৳৬৩ করলে ওঠে ২৯৭ × ৳৬৩ = ৳১৮,৭১১, যা খরচের চেয়ে ৳২১১ বেশি।

মিল রেটের মধ্যে কোন কোন খরচ ধরা হয়?

শুধু যা রান্না করে খাওয়ার জন্য কেনা হয়: চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, তেল, পেঁয়াজ, মশলা, লবণ আর এরকম খাবারের বাজার। পরীক্ষাটা সহজ: বেশি মিল খেলে যে খরচ বাড়ে, সেটা বাজারে যাবে। বাজারের মোট যেন পুরো থাকে, তাই প্রতিটা রসিদ রাখুন বা সেদিনই প্রতিটা বাজার লিখে ফেলুন।

কোন খরচগুলো মিল রেটের বাইরে রাখা উচিত?

ভাড়া, বিদ্যুৎ, লাইনের গ্যাস, পানি, ওয়াইফাই, বুয়া বা রাঁধুনির বেতন, মেরামত আর জরিমানা মিল রেটের বাইরে রাখুন। এগুলো স্থির খরচ, কেউ রাতে না খেলে কমে না, তাই রেটে ঢোকালে যারা কম খায় তারা বেশি খাওয়াদের খরচ বহন করে। এগুলো আলাদাভাবে মাথাপিছু বা রুমের ভাগ অনুযায়ী ভাগ করুন; মেস খাতায় এগুলো আলাদা খরচ হিসেবে সমান, শেয়ার বা নিজের মতো অঙ্কে ভাগ হয়।

বুয়ার বেতন কি মিল রেটে ধরা উচিত?

সাধারণত না: বেশিরভাগ মেস বুয়ার বেতন ভাড়া বা ওয়াইফাইয়ের মতো সবার মধ্যে সমান ভাগ করে, কারণ মাসে ২৫০ মিল হোক বা ৩২০, বুয়ার বেতন একই থাকে। মিল রেটে ঢোকালে পুরো বেতনের বোঝা যারা বেশি খায় তাদের ঘাড়ে পড়ে। আপনার মেস তবুও মিলের সাথে জুড়তে চাইলে মাস শুরুর আগে সবাই মিলে খোলাখুলি ঠিক করুন।

গ্যাস সিলিন্ডারের খরচ বাজারে ধরব নাকি বিলে?

শুধু রান্নায় লাগে এমন গ্যাস সিলিন্ডার পুরো মেস রাজি থাকলে বাজারে ধরা যায়, কারণ বেশি মিল রান্নায় বেশি গ্যাস লাগে। লাইনের গ্যাসের বিল প্রতি মাসের স্থির খরচ, তাই অন্য বিলের সাথে মাথাপিছু ভাগ করাই ভালো। সবচেয়ে জরুরি হলো একটা নিয়ম বেছে নিয়ে প্রতি মাসে সেটাই মানা, তাহলে এক মাসের রেটের সাথে আরেক মাসের তুলনা করা যায়।

একটা গ্যাস সিলিন্ডার এক মাসের বেশি চললে খরচ কোন মাসে ধরব?

হয় যে মাসে কেনা হয়েছে সেই মাসেই পুরোটা ধরুন আর মেনে নিন যে মাসভেদে রেট ওঠানামা করবে, নয়তো যতদিন চলে ততদিনে খরচ ভাগ করে দিন। যেমন ৳১,৫০০ এর সিলিন্ডার প্রায় ছয় সপ্তাহ চললে প্রথম মাসে ৳১,০০০ আর পরের মাসে ৳৫০০ ধরা যায়। মাসের মাঝে সদস্য বদলালে ভাগ করাই ন্যায্য; একই লোকজন থাকলে একবারে ধরা সহজ।

আগের মাসের চাল, তেল বেঁচে গেলে হিসাব কিভাবে করব?

বেঁচে যাওয়া জিনিস অল্প আর প্রতি মাসে প্রায় একই হলে বাদ দিন, হিসাব এমনিতেই মিলে যায়। বেশি বাঁচলে বা সদস্য বদলালে কেনা দামে মূল্য ধরে পরের মাসে সরান: ধরুন ৳৭৫ কেজি দরে ৮ কেজি চাল (৳৬০০) আর ৳১৮০ লিটার দরে ২ লিটার তেল (৳৩৬০) আছে, তাহলে হিসাব মেলানোর আগে আগের মাসের বাজার থেকে ৳৯৬০ বাদ দিন আর এই মাসের বাজারে ৳৯৬০ যোগ করুন। এতে প্রতিটা মাস যতটুকু খেয়েছে ততটুকুর দামই দেয়।

মাসের শেষে বড় বাজার করলে যেটা পরের মাসে খাওয়া হবে, সেটার কি হবে?

বেঁচে যাওয়া জিনিসের মতোই অব্যবহৃত অংশটা পরের মাসে সরিয়ে দিন। ২৮ তারিখে ৳১,৭৫০ এর চালের বস্তা কেনা হলে আর প্রায় পুরোটা পরের মাসে খাওয়া হলে, সেটা এই মাসের বদলে পরের মাসের বাজারে ধরুন। নাহলে এই মাসের রেট লাফিয়ে বাড়ে আর পরের মাসেরটা অস্বাভাবিক কম দেখায়, যা মাস শেষে চলে যাওয়া সদস্যের প্রতি অন্যায়।

মাসের মাঝখানে মিল রেট কত হলো কিভাবে বুঝব?

এখন পর্যন্ত হওয়া বাজারকে এখন পর্যন্ত খাওয়া মিল দিয়ে ভাগ করুন। ১৫ তারিখে বাজার ৳৯,৩০০ আর মিল ১৫০ হলে চলতি রেট ৳৯,৩০০ ÷ ১৫০ = ৳৬২। এটাকে একটা আন্দাজ হিসেবে দেখুন, চূড়ান্ত নয়, কারণ বড় একটা বাজার বা কম খাওয়ার একটা সপ্তাহ রেট বদলে দেবে। মেস খাতা শুধু পার হয়ে যাওয়া দিনগুলো হিসাবে ধরে, সামনের দিনগুলো পূর্বাভাস হিসেবে দেখায়।

মিল রেট প্রতিদিন বদলায় কেন?

কারণ বাজার আসে একবারে বড় অঙ্কে, আর মিল যোগ হয় প্রতিদিন অল্প অল্প করে। ৩ তারিখে ৳৪,৫০০ বাজার আর মাত্র ৩০ মিলে রেট দেখায় ৳১৫০; ১০ তারিখে ৳৭,০০০ খরচ আর ১০০ মিলে সেটা ৳৭০। মাস যত এগোয় রেট তত স্থির হয়, আর আসল রেট শুধু মাস শেষের হিসাবটাই।

এই মাসে মিল রেট এত বেশি আসলো কেন?

রেট বেশি মানে হয় বাজার বেড়েছে, নয়তো মিল কমেছে। সাধারণ কারণগুলো হলো ছুটি বা পরীক্ষায় সদস্যরা বাড়ি যাওয়া (একই রান্নার খরচ কম মিলে ভাগ), বেশি মাছ-মাংসের দিন, দাম বাড়া, খাবার নষ্ট হওয়া, গেস্ট মিল না লেখা, বা বাজারে খাবার ছাড়া অন্য জিনিস ঢুকে যাওয়া। আগের মাসের বাজার আর মিলের মোটের সাথে মিলিয়ে দেখুন কোন দিকটা বদলেছে।

মেসের মিল রেট কমানোর উপায় কি?

সপ্তাহের মেনু আগে ঠিক করুন, চাল, তেল, ডাল একসাথে বেশি করে কিনুন, কী ফুরিয়েছে তার একটা তালিকা রাখুন যাতে কেউ দুইবার না কেনে, আর আসল মিল সংখ্যা মেপে রান্না করে অপচয় কমান। প্রতিটা মিল আর গেস্ট মিল লেখা হচ্ছে কিনা দেখাও জরুরি, কারণ না লেখা মিল সবার রেট বাড়িয়ে দেয়। মেস খাতায় সাপ্তাহিক মেনু সব সদস্য দেখতে পান, আর একটা যৌথ বাজার তালিকা আছে যেখানে যে কেউ ফুরিয়ে যাওয়া জিনিস লেখে আর কেনা হলে টিক দেয়।

ঢাকার মেসে স্বাভাবিক মিল রেট কত হয়?

একটা নির্দিষ্ট স্বাভাবিক অঙ্ক নেই: রেট নির্ভর করে আপনার মেনু, কতদিন মাছ বা মাংস হয়, মৌসুমের দাম আর কত মিল খাওয়া হলো তার ওপর। সবচেয়ে কাজের তুলনা হলো আপনার নিজের মেসের আগের মাসগুলো। কোনো পরিষ্কার কারণ ছাড়া রেট লাফিয়ে বাড়লে বুয়া বা বাজারকারীকে দোষ দেওয়ার আগে বাজারের এন্ট্রি আর মিলের হিসাব মিলিয়ে দেখুন।

মিল রেট কম হওয়া কি সবসময় ভালো?

না। কম রেট মানে ভালোভাবে একসাথে কেনাকাটা হতে পারে, কিন্তু এর মানে এটাও হতে পারে যে খাবারের মান পড়ে গেছে, বা বাজার পুরোটা লেখা হয়নি আর কেউ চুপচাপ পার্থক্যটা নিজের পকেট থেকে দিচ্ছে। হঠাৎ রেট কমে গেলেও হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার মতোই যাচাই করা দরকার। লক্ষ্য রাখুন রেট যেন স্থির থাকে, পুরোটা লেখা থাকে, আর খাবার সবার পছন্দ হয়।

কিছু মেসে মিনিমাম মিলের নিয়ম থাকে কেন?

মিনিমাম মিলের নিয়ম মানে প্রত্যেক সদস্যকে মাসে অন্তত নির্দিষ্ট সংখ্যক মিলের দাম দিতে হবে, কম খেলেও। এর কারণ রান্নাঘরের কিছু খরচ, যেমন বুয়া বা গ্যাস সিলিন্ডার, কেউ খাক বা না খাক চলতেই থাকে, আর মেস সবাইকে ধরেই বাজারের পরিকল্পনা করে। এটা মেসের নিজস্ব নিয়ম, বাধ্যতামূলক কিছু না; যে মেস বুয়া আর গ্যাসকে স্থির খরচ হিসেবে ভাগ করে, তাদের প্রায়ই এর দরকার পড়ে না।

মিনিমাম মিলের নিয়ম থাকলে মিল রেট কিভাবে হিসাব করব?

ভাগ করার আগে প্রত্যেকের ঘাটতির মিল মোট মিলের সাথে যোগ করুন, তাহলে সবার খরচ যোগ করলে বাজারের সমান হবে। ধরুন মিনিমাম ৪৫, একজন খেয়েছে ৩০, আর তাকে নিয়ে সবার মোট মিল ২৮৫: তখন ৩০০ মিল ধরুন, ৳১৮,৬০০ ÷ ৩০০ = ৳৬২, আর ওই সদস্য দেবে ৪৫ × ৳৬২ = ৳২,৭৯০। মোটের সাথে যোগ না করে শুধু মিনিমাম চার্জ করলে মেস খরচের চেয়ে বেশি টাকা তোলে।

এক্সেলে মিল রেট বের করার সূত্র কি?

এক কলামে বাজারের অঙ্ক আর আরেক কলামে প্রত্যেকের মোট মিল রাখুন, তারপর একটার যোগফলকে আরেকটার যোগফল দিয়ে ভাগ করুন। বাজার B2:B40 ঘরে আর মিল E2:E9 ঘরে থাকলে রেটের জন্য H1 ঘরে লিখুন =SUM(B2:B40)/SUM(E2:E9)। এরপর প্রত্যেকের খাওয়ার খরচের জন্য =E2*$H$1 লিখে নিচে কপি করুন; ডলার চিহ্ন থাকায় প্রতিটা সারি একই রেটের ঘর থেকে হিসাব নেয়।

এক্সেল বা গুগল শিটে মিলের খাতা কিভাবে বানাব?

প্রত্যেক সদস্যের জন্য একটা সারি আর মাসের প্রতিটা দিনের জন্য একটা কলাম করুন, প্রতিদিনের মিল লিখুন (নিয়ম অনুযায়ী হাফ মিল বা নাস্তার জন্য ০.৫), আর শেষে একটা মোটের কলামে পুরো সারির যোগফল দিন। সদস্য সত্যিই কিছু না খেলে তবেই ঘর খালি রাখুন। পরে মেস খাতায় গেলে ম্যানেজার শিট থেকে পুরো মাসের মিল পেস্ট করে নামগুলো সদস্যের সাথে মিলিয়ে, আগে দেখে নিয়ে ইমপোর্ট করতে পারেন; খালি ঘর শূন্য হিসেবে না লিখে বাদ দেওয়া হয়।

মিল রেটের হিসাব ঠিক হয়েছে কিনা কিভাবে মিলাব?

রেটকে মোট মিল দিয়ে গুণ করুন, উত্তর মোট বাজারের সমান হওয়া উচিত। রেট ৳৬২ আর মিল ৩০০ হলে ৳৬২ × ৩০০ = ৳১৮,৬০০, বাজারের সাথে মিলে গেছে। তারপর সবার খাওয়ার খরচ যোগ করুন, সেটাও রাউন্ডের কয়েক টাকা এদিক-ওদিক ছাড়া ৳১৮,৬০০ হবে। না মিললে কোনো মিল বা বাজার বাদ পড়েছে বা দুইবার লেখা হয়েছে।

মনে মনে মিল রেট আন্দাজ করব কিভাবে?

সহজ সংখ্যায় রাউন্ড করে ভাগ করুন, তারপর বাকিটা মেলান। ৳১৮,৬০০ আর ৩০০ মিলে: ৩০০ × ৳৬০ = ৳১৮,০০০, বাকি ৳৬০০ ÷ ৩০০ = ৳২, তাই রেট মোটামুটি ৳৬২। এরকম দ্রুত আন্দাজে ক্যালকুলেটরে টাইপের ভুল ধরা পড়ে, যেমন একটা বাড়তি শূন্য যাতে রেট ৳৬২০ বা ৳৬.২০ হয়ে যায়।

মোবাইলের ক্যালকুলেটরে মিল রেট কিভাবে হিসাব করব?

মোট বাজার লিখে মোট মিল দিয়ে ভাগ করুন, উত্তরটা মুছবেন না; সাথে সাথে প্রত্যেকের মিল দিয়ে গুণ করুন। ৳১৮,৫০০ ÷ ২৯৭ করলে স্ক্রিনে আসে ৬২.২৮৯৬…; এটাকে ৭২.৫ মিল দিয়ে গুণ করলে ৪,৫১৫.৯৯, অর্থাৎ ওই সদস্য দেবে ৳৪,৫১৬। পুরো সংখ্যাটা স্ক্রিনে রেখে গুণ করলে রাউন্ড করা রেট আবার টাইপ করার ভুল এড়ানো যায়।

ফ্রি অনলাইন মিল রেট ক্যালকুলেটর আছে?

হ্যাঁ। মেস খাতার একটা ফ্রি মিল রেট ক্যালকুলেটর আছে messledger.com/meal-rate-calculator ঠিকানায়, ব্রাউজারেই চলে, কোনো সাইন আপ লাগে না। মাসের মোট বাজার আর মিল দিলেই রেট বের করে দেয়। পুরো মাস ধরে মিল আর বাজার লিখে রাখতে চাইলে মেস খাতার পুরো অ্যাপটাও ফ্রি, কোনো পেইড প্ল্যান বা বিজ্ঞাপন নেই।

মাসের মাঝখানে মেসে উঠলে কি মিল রেট আলাদা হবে?

না। সবাই মাস শেষের একই মিল রেটে দাম দেয়, দেরিতে আসা সদস্যের শুধু মিল কম থাকে। কেউ ১৬ তারিখে উঠে ২৮টা মিল খেলে আর মাসের রেট ৳৬২ হলে তার খাওয়ার খরচ ২৮ × ৳৬২ = ৳১,৭৩৬। ভাড়া আর বিলে তার ভাগ কত হবে সেটা আলাদা প্রশ্ন, মেস নিজের নিয়মে ঠিক করে।

মিল রেট কি জমা টাকা দিয়ে হিসাব হয় নাকি বাজারের খরচ দিয়ে?

বাজারে যা খরচ হয়েছে তা দিয়ে, জমা টাকা দিয়ে কখনো না। সদস্যরা ফান্ডে ৳২৫,০০০ জমা দিলেও খাবারে খরচ হয়েছে ৳১৮,৬০০ হলে মিল রেট হিসাব হবে ৳১৮,৬০০ দিয়ে; বাকি টাকা ফান্ডে থাকে আর প্রত্যেকের ব্যালেন্সে দেখা যায়। মেস খাতায় জমা আর বাজার আলাদা লেখা হয়, জমা কখনো মিল রেট বদলায় না।

চা, নাস্তা আর সাবান-ডিটারজেন্টের খরচ কি মিল রেটে যাবে?

চা, চিনি, বিস্কুট বা মেসে সবাই মিলে যা খায়-পান করে, সবাই ভাগাভাগি করলে সেগুলো বাজারে ধরা যায়। ডিটারজেন্ট, টয়লেট পেপার, ঝাড়ুর মতো পরিষ্কার আর ঘরের জিনিস খাবার না, তাই অনেক মেস এগুলো মাথাপিছু যৌথ খরচ হিসেবে ভাগ করে। যেটাই ঠিক করুন, কোন জিনিস কোথায় যাবে তা একবার লিখে দিন যাতে বাজারকারী জানে বাজারের স্লিপে কী তুলবে।

নিরামিষ খায় এমন সদস্যের জন্য কি আলাদা মিল রেট করা যায়?

সাধারণত মেস সবার জন্য একটাই মিল রেট রাখে, কারণ প্রতিটা জিনিস ধরে বাজার ভাগ করা খুব দ্রুত অসম্ভব হয়ে যায়। কেউ মাছ-মাংস একদমই না খেলে সাধারণ সমাধান হলো আগে থেকে রাজি হয়ে তার মিলের ওজন একটু কম ধরা, বা তাকে নিজের বিশেষ জিনিস মেসের বাজারের বাইরে নিজে কিনতে দেওয়া। নিয়মটা মাস শুরুর আগেই ঠিক করুন, বিল আসার পরে না।

প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক

মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।

আরও প্রশ্নোত্তর