মেস খাতা

মেসের হিসাব, ঝগড়া ছাড়া

মাস শেষে কার কত — খাতা ছাড়াই।

মেস খাতা মেসের প্রতিদিনের মিল, বাজার, ভাড়া-বিল আর জমার হিসাব এক জায়গায় রাখে। মাস শেষে মিল রেট নিজে থেকেই বেরোয়, আর প্রত্যেকের পাওনা-দেনা হিসাব দেখিয়ে বলে দেয়।

কার্ড লাগবে না। মেস খুলতে এক মিনিট।

এই মাসের হিসাব

নমুনা

মিল রেট

৳ ৬২.৪১৩৭

৳ ১১,৮৫৬.০০ ÷ ১৯০

  • আনিকা৬২ মিল৳ ৮৪৫.৫০
  • শিরিন৫৮ মিল-৳ ৩২০.২৫
  • রাফি৭১ মিল-৳ ৫২৫.২৫
  • বাংলায়, শুরু থেকেইবাংলা সংখ্যা সহ। ইংরেজি এক ট্যাপ দূরে।
  • ফোনে চলেরান্নাঘরে দাঁড়িয়ে এক হাতে যতটুকু লাগে।
  • হিসাব দেখিয়েপ্রতিটা টাকার পাশে সেটা কোথা থেকে এল।

খাতার হিসাব মাস শেষে মেলে না

কেউ তিন দিন বাইরে ছিল, কেউ শুধু রাতে খায়, বাজার তিনজন করেছে, ভাড়া দিয়েছে একজন। মাস শেষে সেই খাতা খুলে সবাই মিলে যোগ করতে বসলে হিসাবের চেয়ে তর্ক বেশি হয় — আর যে ম্যানেজার, সন্দেহটা তার উপরেই পড়ে।

মেস খাতা

মেস খাতা হিসাবটা রোজ রাখে, একবার করে। মাস শেষে যোগ করার কিছু থাকে না — শুধু দেখার থাকে, আর সবাই একই জিনিস দেখে।

যা যা আছে

একটা মেস চালাতে যা লাগে, তার বেশি কিছু নয়।

  • প্রতিদিনের মিল

    সকাল, দুপুর, রাত — মেসের সবার জন্য এক পাতায়। মেহমান থাকলে আধা-মিলও লেখা যায়।

  • ডিফল্ট মিল প্ল্যান

    যে রোজ শুধু দুপুর আর রাত খায়, তার জন্য একবার সেট করে দিন — প্রতিদিন নিজে থেকেই বসে যাবে। বাইরে গেলে ওই কদিন বন্ধ।

  • বাজার

    কে কবে কত টাকার বাজার করল, তালিকা হয়ে থাকে। মাসের মোট বাজারই মিল রেটের উপরের অংশ।

  • ভাড়া, বিল, জরিমানা

    মাথাপিছু সমান, না মিল অনুযায়ী, না যার যতটুকু — ভাগটা আপনি ঠিক করবেন, আর সেটা সেভ হয়ে থাকবে। প্রতি মাসের ভাড়া একবার বসিয়ে রাখলে প্রতি মাসে নিজে থেকেই উঠবে।

  • জমা

    কে কত টাকা জমা দিয়েছে। জমা থেকে খরচ বাদ দিলেই যা থাকে, সেটাই তার পাওনা বা দেনা।

  • মিল রেট আর সেটেলমেন্ট

    মোট বাজার ভাগ মোট মিল — চার ঘর দশমিক পর্যন্ত, ভাগ-বাটোয়ারার এক পয়সাও হারায় না। মাস বন্ধ করে দিলে হিসাব আর নড়ে না।

  • ম্যানেজার আর মেম্বার

    ইনভাইট কোড দিয়ে সবাই যোগ দেয়। মেম্বার নিজের মিল লেখে, ম্যানেজার বাজার-জমা-খরচ তোলে।

  • কে কী করেছে

    প্রতিটা পরিবর্তন কে করেছে, কবে করেছে — লেখা থাকে। কেউ কিছু বদলালে সেটা লুকানো যায় না।

তিন ধাপে শুরু

  1. মেস খুলুন

    নাম দিন, ইনভাইট কোডটা মেসের গ্রুপে পাঠিয়ে দিন। সবাই নিজে নিজে ঢুকে যাবে।

  2. রোজ তুলুন

    মিল আর বাজার — দিনে আধা মিনিট। যাদের রোজ একই মিল, তাদের প্ল্যান বসিয়ে দিলে সেটুকুও লাগে না।

  3. মাস শেষে বন্ধ করুন

    মিল রেট, প্রত্যেকের পাওনা-দেনা, চাইলে CSV — দেখে নিয়ে মাস বন্ধ। বন্ধ মাসে আর কেউ কিছু বদলাতে পারবে না।

সচরাচর প্রশ্ন

মিল রেট কীভাবে বের হয়?

মাসের মোট বাজার ভাগ মাসের মোট মিল। ভাড়া-বিলের মতো খরচ এর মধ্যে ঢোকে না — সেগুলো আলাদা করে ভাগ হয়, কারণ কে কত খেল তার সাথে ভাড়ার সম্পর্ক নেই।

কেউ কয়েকদিন মেসে না থাকলে?

ওই কদিনের জন্য তার মিল বন্ধ করে দিন — তারিখ ধরে। ওই দিনগুলোতে তার নামে কোনো মিল বসবে না, তাই মাসের হিসাবেও ধরা পড়বে না।

বাসা ভাড়া আর বিদ্যুৎ বিল কীভাবে ভাগ হবে?

যেভাবে আপনার মেসে ভাগ হয় সেভাবেই — মাথাপিছু সমান, মিল অনুযায়ী, বা যার যতটুকু ভাগ ঠিক করা আছে। যেটা বাছবেন সেটাই সেভ থাকবে, আর মাস আবার খুললেও একই ভাগ থাকবে।

খরচ আছে?

না। মেস খাতা একটা খোলা সোর্স প্রজেক্ট, আর এমনভাবে বানানো যাতে চালাতে টাকা না লাগে। কোনো বিজ্ঞাপন নেই, আপনার হিসাব কারও কাছে বিক্রি হয় না।

আমার মেসের হিসাব কি নিরাপদ?

পাসওয়ার্ড bcrypt দিয়ে হ্যাশ করা থাকে, কখনো লেখা অবস্থায় জমা হয় না। লগইন সেশন থাকে httpOnly কুকিতে, যেটা পেজের কোনো স্ক্রিপ্ট পড়তে পারে না। আর এক মেসের ডেটা অন্য মেস থেকে দেখার কোনো পথ নেই — সেটা ডেটাবেজ পর্যন্ত গিয়ে আটকানো।

অ্যাপ নামাতে হবে?

না, ব্রাউজারেই চলে — ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ। হোম স্ক্রিনে যোগ করে রাখলে অ্যাপের মতোই খুলবে।

এই মাসের হিসাবটা এখান থেকেই শুরু হোক

মেস খুলুন, কোডটা পাঠান, আজকের মিলটা তুলে রাখুন।

ফ্রি শুরু করুনআগে থেকে অ্যাকাউন্ট আছে? লগ ইন