মেসের বাজার নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর
সর্বশেষ হালনাগাদ · ৩৬টি প্রশ্ন
মেসের বাজার নিয়ে ছোট আর কাজের উত্তর: কে বাজার করবে, টাকা কিভাবে দেওয়া হবে, প্রতিটা বাজার কিভাবে লিখবেন, আর ঝামেলা হলে কিভাবে মেটাবেন।
মেসে বাজার কে করবে?
বেশিরভাগ মেসে সবাই পালা করে বাজার করে, যাতে একজনের ঘাড়ে পুরো কাজ আর সবার টাকা সামলানোর সন্দেহ না পড়ে। ছোট মেসে শুধু ম্যানেজার বাজার করলেও চলে, তবে সে ক্লান্ত হয়ে যায় আর বাকিরা দামের খবর রাখে না। যেটাই ঠিক করেন, নিয়মটা লিখে রাখুন আর প্রতিটা বাজার সবাইকে দেখান।
মেসের বাজারের পালা বা ডিউটি রোটা কিভাবে বানাব?
যারা মেসে খায় তাদের সবার নাম একটা ক্রমে লিখুন, একটা শুরুর তারিখ ঠিক করুন আর প্রতিজনের পালা কত দিনের হবে সেটা ঠিক করুন। ৬ জন সদস্য আর ৫ দিনের পালা হলে ৩০ দিনে চক্র ঘুরে আসে, মানে প্রত্যেকে মাসে মোটামুটি একবার বাজার করে। মেস খাতায় বাজার ডিউটি রোটায় শুরুর তারিখ, পালার দৈর্ঘ্য আর ক্রম দিলে আজকে কার বাজার আর পরের দুই সপ্তাহের তালিকা দেখায়।
একজনের বাজারের পালা কয় দিনের হওয়া উচিত?
আপনারা যত ঘন ঘন বাজার করেন, পালাও সেভাবে ঠিক করুন: প্রতিদিন বাজার হলে ২ থেকে ৩ দিনের পালা, আর সাপ্তাহিক বাজার হলে একেকজনের এক সপ্তাহ। ছোট পালায় কাজ সমানভাবে ভাগ হয় কিন্তু টাকা হাতবদল বেশি হয়; লম্বা পালায় একজনকে একা অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এমন দৈর্ঘ্য বাছুন যাতে এক বাজারের টাকা সবার কাছে স্বস্তির মধ্যে থাকে।
যার বাজারের দিন সে যেতে না পারলে কি করব?
সে অন্য কারো সাথে পালা বদল করবে আর দিনের আগেই মেসের গ্রুপে জানাবে, শুধু বাদ দিয়ে দিলে হবে না। ন্যায্য নিয়ম হলো সরাসরি বদল: যে আজকে বাজার করে দিল, সে পরের বার ওই জনের পালা পাবে। বাজারটা যে আসলে করেছে তার নামেই লিখুন, কারণ টাকা আর রসিদ সে-ই সামলিয়েছে।
মেসে প্রতিদিন বাজার ভালো নাকি সপ্তাহে একবার?
চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমের মতো জিনিস সাপ্তাহিক বাজারে ভালো চলে, কিন্তু বড় ফ্রিজ না থাকলে মাছ, মাংস আর শাকসবজি এক-দুই দিন পরপর কিনতে হয়। অনেক মেস সপ্তাহে একবার শুকনা জিনিস আর প্রতিদিন অল্প করে কাঁচা বাজার করে। কম কিন্তু বড় বাজারে লেখার ঝামেলা কমে, তবে প্রতিবার বেশি টাকা হাতে থাকে আর রসিদের দরকার বাড়ে।
মেসের সবাই মিলে একটা বাজারের লিস্ট কিভাবে রাখব?
একটাই লিস্ট রাখুন যেখানে কিছু শেষ হলেই যে কেউ লিখে দেবে, আর বাজারে যে যাবে সে কেনার সাথে সাথে টিক দেবে। ফ্রিজের গায়ে কাগজ লাগিয়েও চলে, যদি সবাই লিখতে মনে রাখে। মেস খাতায় শেয়ার করা বাজারের লিস্ট আছে: যে কেউ জিনিস যোগ করে, কেনা হলে টিক দেয় বা টিক ফেরত নেয়, আর ওয়েবে “এই বাজার রেকর্ড করুন” চাপলে টিক দেওয়া জিনিসগুলো দিয়ে আইটেম ধরে বাজারের হিসাব তৈরি হয়।
বাজারের হিসাব মোট টাকায় লিখব নাকি আইটেম ধরে ধরে?
বিশ্বাসের জন্য আইটেম ধরে লেখা ভালো, আর লিস্ট ছোট হলে বা ক্লান্ত থাকলে মোট টাকা লেখা দ্রুত। আইটেম ধরে লিখলে সবাই দেখে ৫ কেজি চাল ৭০ টাকা কেজিতে ৩৫০ টাকা, ফলে দাম নিয়ে প্রশ্ন ঝগড়া ছাড়াই মিটে যায়। মেস খাতায় দুইভাবেই লেখা যায়: এক বাজারের মোট টাকা, অথবা জিনিস, পরিমাণ, একক আর দাম ধরে তালিকা।
মেসের বাজারের রসিদ রাখা কি আসলেই দরকার?
হ্যাঁ, যতটুকু প্রমাণ রাখা যায় রাখুন, কারণ বাজারের মোট টাকাই সবার খাওয়ার খরচ ঠিক করে আর রসিদ থাকলে বেশিরভাগ ঝামেলা শুরুই হয় না। সুপারশপ রসিদ দেয়; কাঁচা বাজারে জিনিসগুলোর ছবি আর দাম লিখে রাখাই বাস্তব বিকল্প। মেস খাতায় প্রতি বাজারে ৩টা পর্যন্ত রসিদের ছবি যোগ করা যায়, আর মেসের সবাই সেগুলো দেখতে পায়।
কাঁচা বাজারে রসিদ দেয় না, তাহলে হিসাব কিভাবে লিখব?
দোকানেই মোবাইলে প্রতিটা জিনিস, পরিমাণ আর দাম লিখে নিন, তারপর বাসায় ফিরেই হিসাবে তুলুন। যেমন: চাল ৫ কেজি × ৭০ = ৩৫০ টাকা, আলু ৩ কেজি × ৪০ = ১২০ টাকা, ডিম ১২টা × ১২.৫০ = ১৫০ টাকা, মোট ৬২০ টাকা। টেবিলে রাখা ব্যাগগুলোর একটা ছবি তুললে জিনিস যে এসেছে তারও প্রমাণ থাকে।
নিজের টাকায় বাজার করলে কি সেই টাকা ফেরত পাব?
হ্যাঁ, যদি মেস সেটাকে ওই সদস্যের টাকায় করা বাজার হিসেবে লেখে, তাহলে সেটা তার জমা হিসেবে ধরা হয়। মেস খাতায় সদস্য নিজের টাকায় বাজারের এন্ট্রি দেয়; ম্যানেজার অনুমোদন দেওয়ার পরেই সেটা তার নামে জমা হয়। অনুমোদনের পর টাকাটা মাসের বাজারের মোটে যোগ হয় আর ওই সদস্যের দেনাও কমায়।
নিজের টাকার বাজারে ম্যানেজারের অনুমোদন লাগে কেন?
কারণ এটা এমন টাকা যা সদস্য দাবি করছে সবার জন্য খরচ করেছে, আর অনুমোদন মানে জিনিসগুলো যে সত্যিই এসেছে সেটা যাচাই করা। এটা না থাকলে যে কেউ নিজের নামে বাজার লিখে জমা বাড়াতে পারত। মেস খাতায় নিজের টাকার বাজার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই জমা করে না, আর ম্যানেজারের দেওয়া বাজার সাথে সাথে গোনা হয়।
বাজারে যে যাবে তাকে অগ্রিম কত টাকা দেওয়া উচিত?
লিস্টের আনুমানিক খরচের চেয়ে একটু বেশি দিন, পুরো সপ্তাহের ফান্ড না। একবারের বাজারে সাধারণত ১,৮০০ টাকার মতো লাগলে ২,০০০ টাকা অগ্রিম দিলে দাম ওঠানামা সামলানো যায়, আবার একজনের পকেটে বেশি টাকাও থাকে না। কাকে কত অগ্রিম দিলেন লিখে রাখুন, যাতে বাজারের হিসাবের সাথে ফেরত টাকা মিলিয়ে দেখা যায়।
বাজারের পর টাকা বেঁচে গেলে কি করতে হবে?
বাকি টাকা সেদিনই ম্যানেজার বা ফান্ডে ফেরত দিন, আর বাজার লিখুন আসলে যত খরচ হয়েছে তত, অগ্রিমের পরিমাণ না। কেউ ২,০০০ টাকা নিয়ে ১,৮৫০ টাকা খরচ করলে বাজার লেখা হবে ১,৮৫০ টাকা আর ১৫০ টাকা ফেরত যাবে। “পরের বার লাগবে” বলে খুচরা রেখে দিলেই হিসাবে ছোট ছোট গরমিল তৈরি হয়।
অগ্রিমের চেয়ে বেশি টাকার বাজার হয়ে গেলে কি করব?
বাড়তি টাকাটা বাজারকারীর নিজের পকেট থেকে গেছে, তাই সেটাকে তার নিজের টাকার বাজার হিসেবে লিখুন যাতে সে ফেরত পায়। অগ্রিম ছিল ১,৫০০ টাকা আর বাজার হলো ১,৭২০ টাকা, তাহলে সে নিজের ২২০ টাকা দিয়েছে। মেস খাতায় ম্যানেজার ফান্ডের ১,৫০০ টাকা লিখবে, আর বাজারকারী ২২০ টাকা নিজের টাকার বাজার হিসেবে দেবে, যা ম্যানেজার অনুমোদন দিলে তার নামে জমা হবে।
বাজারের দাম ঠিক আছে কিনা সদস্যরা কিভাবে যাচাই করবে?
কয়েক সপ্তাহের আইটেম ধরে লেখা বাজার পাশাপাশি দেখুন, একই জিনিস ভিন্ন ভিন্ন জন কিনলে কারো দাম বেশি হচ্ছে কিনা দ্রুত বোঝা যায়। একই বাজারে যারা যায় তারা বলতে পারবে সেই সপ্তাহে এক কেজি রুই মাছ ২২০ টাকা ঠিক শোনায় কিনা। পালা করে বাজার করলেও লাভ হয়, কারণ সবাই চলতি দাম জানে।
কেউ বাজারে বেশি দাম লিখেছে মনে হলে কি করা উচিত?
নির্দিষ্ট দিনের বাজার, জিনিস আর দাম ধরে শান্তভাবে কথা তুলুন, ঢালাও অভিযোগ না করে। রসিদ বা ছবি দেখুন, অন্য দিনের একই জিনিসের দামের সাথে মেলান, আর বাজারকারীকে দাম বাড়ার কারণ বলতে দিন। সবাই মিলে ভুল পেলে সেই এন্ট্রিটা খোলাখুলি ঠিক করুন; মেস খাতার কার্যকলাপের লগে কে কখন কি বদলেছে দেখা যায়, তাই সংশোধনটাও সবাই দেখে।
বাজারের মান খারাপ বলে কেউ অভিযোগ করলে কি করব?
মানের অভিযোগ আর টাকার হিসাব আলাদা রাখুন: মাছ খারাপ হলেও খরচটা সত্যি, তাই সেটা বাজারের মোটেই থাকবে। বরং বাজারের লিস্ট বা সাপ্তাহিক মেনুতে ঠিক করুন কি কিনতে হবে, কোন মাছ, কতটা তাজা, কত দামের মধ্যে। কেউ বারবার খারাপ বাজার করলে এক-দুই পালা অভিজ্ঞ কাউকে তার সাথে পাঠান।
এক বস্তা চাল দুই মাস চললে হিসাবে কিভাবে ধরব?
হয় পুরো দাম যে মাসে কেনা হয়েছে সেই মাসে ধরুন, নয়তো যত মাস চলবে তত মাসে ভাগ করুন। ৫০ কেজির বস্তা ৩,৫০০ টাকা দুই মাস চললে প্রতি মাসে ১,৭৫০ টাকা করে লেখা যায়, এতে দুই মাসেরই মিল রেট বাস্তব থাকে। একই সদস্যরা থাকলে আর নিয়মিত বস্তা কিনলে সহজ পদ্ধতিটাই সময়ের সাথে সমান হয়ে যায়।
তেল, মশলা একসাথে বেশি কিনলে হিসাব কিভাবে করব?
বেশিরভাগ মেস তেল, মশলা আর লবণ যে মাসে কেনে সেই মাসেই ধরে, কারণ রোজকার বাজারের তুলনায় এগুলো অল্প টাকা আর নিয়মিতই কেনা হয়। ৯০০ টাকার ৫ লিটার তেলের বোতল পাঁচ-ছয় সপ্তাহ চললে হাতে ভাগ করার দরকার নেই। শুধু কেউ মেস ছাড়ার সময় ভাগ করুন, যাতে যে জিনিস সে ব্যবহার করবে না তার টাকা তাকে দিতে না হয়।
মাস শেষে বাজারের জিনিস বেঁচে গেলে কি হবে?
এগুলো পরের মাসের রান্নায় চলে যায়, আর বেশিরভাগ মেস এর জন্য হিসাবে কোনো সমন্বয় করে না। বাকি চাল, তেল বা পেঁয়াজ গত মাসের সদস্যরা কিনেছে আর পরের মাসের সদস্যরা খাবে, একই লোক থাকলে এটা সমান হয়ে যায়। কেউ চলে যাওয়ার সময় রান্নাঘরে অনেক জিনিস বাকি থাকলে মেস চাইলে তার ভাগের টাকা তাকে জমা হিসেবে দিতে পারে।
মেসে গেস্ট আসলে বাজারের খরচ কে দেবে?
যে গেস্ট এনেছে সে দেবে, গেস্টের মিল তার নিজের মিলের সাথে বাড়তি মিল হিসেবে যোগ করে। বাজার স্বাভাবিকভাবেই লেখা হয়, ফলে গেস্টের খাবার মোট বাজারে থাকে আর হোস্টের বাড়তি মিল সেই খরচ বহন করে। মেস খাতায় গেস্টকে হোস্টের মিলে বাড়তি মিল হিসেবে যোগ করা হয়; গেস্ট দুপুর আর রাতে খেলে হোস্ট সেদিন ২টা বাড়তি মিল লিখবে।
কেউ বাজার করে হিসাবে লিখতে ভুলে গেছে, এখন কি করব?
ধরা পড়ার সাথে সাথে আসল তারিখ আর টাকা দিয়ে লিখে ফেলুন, রসিদ, ছবি বা বাজারকারীর নোট দেখে। একটা বাজার বাদ পড়লে মিল রেট কম দেখায় আর যে টাকা দিয়েছে সে ঠকে। মেস খাতায় মাস বন্ধ না হলে দেরিতে দেওয়া এন্ট্রিও ঠিক মাসেই যোগ হয়।
মাস ক্লোজ করার পরে কি বাজার যোগ করা যায়?
মাস আবার খোলা ছাড়া যায় না, কারণ মাস বন্ধ করলে তার ভেতরের সব তারিখ লক হয়ে যায়। মেস খাতায় বন্ধ মাসে ম্যানেজারসহ কেউ কিছু বদলাতে পারে না; ম্যানেজার মাস আবার খুলে বাদ পড়া বাজার যোগ করে আবার বন্ধ করতে পারে, আর খোলার ঘটনাটা লগে থাকে। টাকা লেনদেনের আগেই এটা করুন, নইলে টাকা দেওয়ার পর সবার হিসাব বদলে যাবে।
কাগজের খাতায় বাজারের হিসাব কিভাবে রাখব?
প্রতি মাসের জন্য এক পাতা নিন, তাতে তারিখ, কে বাজার করল, কি কি কিনল, কত টাকা আর কার টাকা এই কলামগুলো রাখুন, আর প্রতি পাতার নিচে চলতি যোগফল লিখুন। প্রতিটা বাজার সেদিনই লিখুন আর বাজারকারীকে সই বা নামের আদ্যক্ষর দিতে বলুন। রসিদগুলো পাতার সাথে আটকে রাখুন; কাগজে কাজ চলে, কিন্তু খাতা থাকে একজনের কাছে আর অন্যরা নিজের রুম থেকে দেখতে পারে না।
প্রতিটা বাজারের এন্ট্রিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত?
কমপক্ষে: তারিখ, কে বাজার করল, মোট কত খরচ, আর টাকাটা মেসের ফান্ড থেকে নাকি বাজারকারীর নিজের পকেট থেকে। জিনিস, পরিমাণ আর দাম যোগ করলে পরে যাচাই করা সহজ হয়। মেস খাতায় প্রতিটা বাজারে বাজারকারী আর টাকা থাকে, মোট টাকায় বা আইটেম ধরে লেখা যায়, আর ৩টা পর্যন্ত রসিদের ছবি দেওয়া যায়।
গ্যাস বিল বা বুয়ার বেতন কি বাজারের মধ্যে ধরব?
না, বাজারে শুধু রান্নাঘরের জন্য কেনা খাবার থাকবে, কারণ বাজার ভাগ হয় খাওয়া মিলের হিসাবে। গ্যাস, রাঁধুনি বা বুয়ার বেতন, ভাড়া, বিদ্যুৎ আর ওয়াইফাই খাবার ছাড়া অন্য খরচ, এগুলো আলাদাভাবে সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়। মেস খাতায় এগুলো আলাদা থাকে: বাজার যায় মিল রেটে, আর অন্য খরচ সমান ভাগে, শেয়ার অনুযায়ী বা নির্দিষ্ট টাকায় ভাগ হয়।
চা, বিস্কুট, নাস্তা কি মেসের বাজারে ধরা হয়?
শুধু তখনই, যখন পুরো মেস এগুলো ভাগ করে খেতে রাজি হয়েছে; নইলে এগুলো ব্যক্তিগত কেনাকাটা। সবার সকালের চায়ের জন্য চা-পাতা, চিনি আর দুধ সাধারণত বাজারেই ধরা হয়। কেউ নিজের রুমের জন্য বিস্কুট বা চানাচুর কিনলে সেটা কখনো বাজারের হিসাবে যাবে না।
মেসের বাজারের টাকা কার কাছে থাকা উচিত?
ম্যানেজার বা নির্দিষ্ট একজন হিসাবরক্ষকের কাছে ফান্ড থাকবে, আর বাজারকারী শুধু ওই বাজারের অগ্রিম পাবে। ফান্ডের টাকা কয়েকজনের পকেটে ছড়িয়ে থাকলে কত বাকি আছে বোঝা কঠিন হয়। মেস খাতায় প্রত্যেক সদস্যের জমা কোন মাধ্যমে আর ট্রানজেকশন আইডিসহ লেখা থাকে, আর সদস্য নিজে “টাকা দিয়েছি” জানালে ম্যানেজার অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত তা অপেক্ষমাণ থাকে।
বাজারের সাথে নিজের জিনিস কিনলে হিসাব কিভাবে করব?
কেনা যায়, তবে নিজের জিনিসের দাম আলাদা দিতে হবে অথবা বাজার লেখার আগে বাদ দিতে হবে। দোকানের রসিদে ১,২৪০ টাকা আর তার মধ্যে ১৪০ টাকা বাজারকারীর নিজের সাবান-শ্যাম্পু হলে বাজার লেখা হবে ১,১০০ টাকা। গ্রুপে কথাটা বলে দিলে অন্যরা রসিদের ছবি দেখে প্রশ্ন করবে না।
বাজারের রিকশা ভাড়া কি বাজার খরচে যোগ হবে?
বাজার দূরে হলে বা মাল ভারী হলে অনেক মেস একটা নির্দিষ্ট যাতায়াত খরচ ধরে, তবে আগে নিয়ম হিসেবে ঠিক করে নিন। যেমন, সাপ্তাহিক বাজারে ৬০ টাকা রিকশা ভাড়া ধরা হবে, আর মোড়ের দোকানে গেলে কিছুই না। ভাড়াটা এন্ট্রিতে আলাদা লাইন হিসেবে লিখুন, যাতে খাবারের দামের ভেতরে লুকিয়ে না থাকে।
মেস খাতায় একটা বাজারে কয়টা রসিদের ছবি দেওয়া যায়?
প্রতিটা বাজারে ৩টা পর্যন্ত রসিদের ছবি দেওয়া যায়, আর মেসের সব সদস্য সেগুলো দেখতে পায়। দোকানের রসিদ, জিনিসগুলোর ছবি আর কাঁচা বাজারের হাতে লেখা দামের তালিকা রাখার জন্য সাধারণত এটুকুই যথেষ্ট। বাজার লেখার সময়ই ছবিগুলো দিয়ে দিন, যাতে পরে কাউকে চাইতে না হয়।
কে বাজার করল আর কত টাকা খরচ করল সেটা কি সব মেম্বার দেখতে পারে?
দেখতে পারা উচিত, কারণ খোলা হিসাব থাকলে বাজার নিয়ে বেশিরভাগ ঝগড়া শুরুই হয় না। মেস খাতায় সব সদস্য বাজারের এন্ট্রি আর রসিদের ছবি দেখতে পায়, আর সবার জন্য খোলা কার্যকলাপের লগে কে কখন কি যোগ করল বা বদলাল তা দেখা যায়। একজনের রুমে রাখা কাগজের খাতায় এই সুবিধা নেই।
ভুল টাকা দিয়ে বাজার লিখে ফেলেছি, কিভাবে ঠিক করব?
উল্টো আরেকটা এন্ট্রি না দিয়ে মূল এন্ট্রিটাই সংশোধন করুন, আর গ্রুপে জানান কি বদলালেন আর কেন। ১,৮৫০ টাকার জায়গায় ১৮,৫০০ লিখলে সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু ১,৫০০ টাকার বাজার ১,০৫০ লিখলে পড়ে না। মেস খাতায় প্রতিটা পরিবর্তন কার্যকলাপের লগে দেখায়; মাস আগেই বন্ধ হয়ে গেলে ম্যানেজারকে আগে মাস খুলতে হবে।
কেউ বারবার বাজারের পালা ফাঁকি দিলে কি করব?
আগে তার সাথে কথা বলুন, তারপর পুরো মেস মিলে একটা পরিষ্কার নিয়ম করুন, যেমন পালা বদল বাধ্যতামূলক আর বাদ পড়া পালা সেই সপ্তাহেই পূরণ করতে হবে। কিছু মেস বদল ছাড়া পালা বাদ দিলে ছোট জরিমানা রাখে। মেস খাতায় জরিমানা নির্দিষ্ট টাকার খরচ হিসেবে একজনের উপর ধরা যায়, ফলে তর্ক না করে সেটা হিসাবে থাকে।
সাপ্তাহিক মেনু থাকলে বাজার করতে কি সুবিধা হয়?
নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক মেনু থাকলে বাজারকারী ঠিক জানে কি কিনতে হবে, ফলে লিস্ট ছোট হয় আর কি কেনা হলো তা নিয়ে তর্ক কমে। মঙ্গলবার রাতে মুরগি আর শুক্রবার দুপুরে গরু হলে বাজারকারী জানে কোন দিন মাংস লাগবে। মেস খাতায় ৭ দিনের সকাল, দুপুর আর রাতের সাপ্তাহিক মেনু আছে, ম্যানেজার সেটা বদলায়, সবাই দেখে, আর আজকের মেনু ড্যাশবোর্ডে থাকে।
যে বাজার করে তাকে কি আলাদা ভাতা বা ফ্রি মিল দেওয়া উচিত?
সবাই পালা করে বাজার করলে সাধারণত না, কারণ মাস শেষে কাজটা সমান হয়ে যায়। একজন যদি বেশিরভাগ বাজার করে, মেস চাইলে ছোট একটা ভাতা ঠিক করতে পারে, তবে সেটা খোলাখুলি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাদা খরচ হিসেবে লিখতে হবে, খাবারের দামে চুপচাপ যোগ করে না। লুকানো ভাতাই মেসে অবিশ্বাসের একটা বড় কারণ।
প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক
মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।
আরও প্রশ্নোত্তর
- মেস খাতা কী, আর মেসের একদম শুরুর কথা
- মিল রেট আর মিল গোনা নিয়ে সব প্রশ্ন
- মেসের ভাড়া আর বিল
- মাস শেষের মেসের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের জমা আর পেমেন্ট
- মেস ম্যানেজার হওয়া: প্রশ্ন আর উত্তর
- মেসের নিয়ম ও দৈনন্দিন জীবন
- হোস্টেল, হল ডাইনিং আর ছাত্রদের বাজেট নিয়ে প্রশ্ন
- মেসের সিট বা রুম খোঁজা
- মেসে টাকা বাঁচানোর উপায়
- মেস খাতা দিয়ে শুরু করবেন যেভাবে
- মেস খাতার ফিচারগুলো কিভাবে কাজ করে
- খরচ, প্রাইভেসি আর নিরাপত্তা
- মেস অ্যাপের তুলনা আর বিকল্প