মেস মানে কী, আর মেস কিভাবে চলে
সর্বশেষ হালনাগাদ
ইংরেজি অভিধানে "mess" খুঁজলে পাবেন অগোছালো অবস্থা। কিন্তু ঢাকায় কেউ যদি বলে "মেসে থাকি", তার মানে সম্পূর্ণ আলাদা: এমন একটা বাসা যেখানে ভাড়া আর রান্নার খরচ সেখানে থাকা মানুষেরা ভাগ করে নেয়।
মেস শব্দের অর্থ
বাংলায় মেস মানে একসাথে থাকার জায়গা, সাধারণত একটা ভাড়া করা ফ্ল্যাট বা কয়েকটা রুম, যেখানে ছাত্র বা চাকরিজীবী ব্যাচেলররা একসাথে থাকে। প্রত্যেকে একটা সিট বা রুমের ভাড়া দেয়, আর সবাই এক রান্নাঘর থেকে খায়, যার খরচ সবার মধ্যে ভাগ হয়।
অভিধানে আরও দুটো অর্থ আছে। "a mess" মানে অগোছালো বা বিশৃঙ্খল অবস্থা। "officers' mess" মানে একদল মানুষ একসাথে খাওয়ার ঘর। বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে কেউ মেসে থাকে বললে প্রথম অর্থটাই বোঝায়।
শব্দটা কোথা থেকে এল
ইংরেজি mess শব্দ এসেছে পুরনো ফরাসি mes থেকে, যার মানে এক পরিবেশন খাবার। সেনাবাহিনী আর নৌবাহিনীতে একসাথে খাওয়া একদল মানুষকে mess বলা হত, আর সেই অর্থটাই ছড়িয়েছে: মেস মানে আগে একসাথে খাওয়ার টেবিল।
বাংলায় সেই অর্থের সাথে ছাদটাও যোগ হয়েছে। মেস মানে একসাথে খাওয়া মানুষগুলো, আর তারা যে বাসায় থাকে সেটা।
মেস, হোস্টেল আর সাবলেটের পার্থক্য
হোস্টেল চালায় মালিক বা কোনো প্রতিষ্ঠান। খাবার আসে হোস্টেলের রান্নাঘর থেকে নির্দিষ্ট চার্জে, আর নিয়ম ঠিক করে ওয়ার্ডেন বা অফিস।
মেস চালায় মেম্বাররা নিজেরাই। তারা ম্যানেজার ঠিক করে, নিজেরা বাজার করে, চাইলে বুয়া রাখে, আর কে কত মিল খেয়েছে সেই অনুযায়ী খাবারের খরচ ভাগ করে। রান্নাঘর থেকে কেউ লাভ করে না।
সাবলেট মানে কোনো পরিবারের ফ্ল্যাটে একটা রুম। ভাড়া দেন পরিবারকে, আর খাওয়া সাধারণত নিজের দায়িত্ব।
বেশিরভাগ মেসে সিট হিসেবে ভাড়া হয়: একটা রুমে দুই-তিনটা বেড, প্রতিটা একটা সিট। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া বেশি, আর ভাড়া ভাগের সময় অনেক মেসে সেটাকে দুই শেয়ার ধরা হয়।
টাকার হিসাব কিভাবে চলে
খরচ দুই রকম, আর দুটো দুইভাবে ভাগ হয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াই-ফাই আর বুয়ার বেতন নির্দিষ্ট খরচ, এগুলো মাথাপিছু বা রুমের শেয়ার অনুযায়ী ভাগ হয়। খাবারের খরচ বদলায়, এটা ভাগ হয় মিল অনুযায়ী: মাসের মোট বাজার ÷ মোট মিল = মিল রেট, আর প্রত্যেকে দেয় নিজের মিল × মিল রেট।
বেশিরভাগ মেসে মাসের শুরুতে অগ্রিম জমা নেওয়া হয়, আর মাস শেষে বাকিটা মিলিয়ে নেওয়া হয়। মিল রেট বের করার গাইডে পুরো একটা উদাহরণ আছে।
মেসে যে শব্দগুলো শুনবেন
মিল: এক বেলার খাবার, সাধারণত দুপুর বা রাত। অনেক মেসে সকালের নাস্তা হাফ মিল।
মিল রেট: এই মাসে মেসের এক মিলের খরচ, মোট বাজার ÷ মোট মিল।
বাজার: কেনাকাটা, আর তাতে খরচ হওয়া টাকা। বাজারের পালা মানে এবার কার বাজার করার পালা।
মিল অফ: ম্যানেজারকে জানানো যে আপনি এই বেলা খাবেন না, যাতে আপনার নামে মিল না ধরা হয়। সাধারণত আগের রাতের মধ্যে জানাতে হয়।
গেস্ট মিল: কারো অতিথির খাবার, যে মেম্বার অতিথি এনেছে তার নামে ধরা হয়।
ম্যানেজার: এই মাসে যে মেম্বার হিসাব রাখছে। অনেক মেসে প্রতি মাসে পালা করে বদলায়।
খালা বা বুয়া: রান্নার লোক, যার বেতন নির্দিষ্ট খরচ থেকে দেওয়া হয়।
জমা বা অগ্রিম: মাসের শুরুতে সামনের বিলের জন্য আগে দেওয়া টাকা।
সিট ভাড়া আর সার্ভিস চার্জ: আপনার বেডের ভাড়া, আর কিছু মেসে বুয়া, পরিষ্কার আর বিলের জন্য আলাদা একটা মাসিক চার্জ।
খাতা: যে নোটবুকে হিসাব থাকে, আর বেশিরভাগ মেসে হিসাবকেই এখনও খাতা বলে।
মেস খোঁজা, আর মেসের হিসাব রাখা
সিট খুঁজলে এই সাইটের মেস খোঁজার পাতায় ঢাকার খালি সিট আর রুমের বিজ্ঞাপন পাবেন, ভাড়া আর সার্ভিস চার্জ শুরুতেই দেখানো, আর দেখতে অ্যাকাউন্ট লাগে না।
আর মেসে থাকলে, মেস খাতা একটা ফ্রি মেস ম্যানেজার অ্যাপ যা আপনার হয়ে খাতা রাখে: প্রতিটা মিল, প্রতিটা বাজার, প্রতিটা জমা, আর মাস শেষে এমন হিসাব যেখানে প্রত্যেক মেম্বার নিজের অঙ্কের পেছনের হিসাবটা দেখতে পায়।
প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক
মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।
আরও গাইড
- মেসের মিল রেট কিভাবে বের করবেন
- মাস শেষে মেসের হিসাব কিভাবে মেলাবেন
- ঝগড়া ছাড়া মেস চালানোর নিয়ম
- মেসের বাজারের লিস্ট: কী কিনবেন, কতটুকু
- মেস ম্যানেজারের দায়িত্ব: কাজের চেকলিস্ট
- মেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: ভালো সিস্টেমে যা থাকা দরকার
- বাংলাদেশের সেরা মেস ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ: পাশাপাশি তুলনা
- স্প্লিটওয়াইজ নাকি মেস অ্যাপ: বাংলাদেশের মেসের কোনটা দরকার?
- মেসের ভাড়া আর বিল ন্যায্যভাবে ভাগ করার নিয়ম
- হোস্টেলের মাসিক খরচের হিসাব কিভাবে রাখবেন
- মেসবুক নাকি মেস ম্যানেজার: মেসের কোনটা ব্যবহার করা উচিত?