মেসের বাজারের লিস্ট: কী কিনবেন, কতটুকু
সর্বশেষ হালনাগাদ
যে মেস মনে করে করে বাজার করে, তারা এক সপ্তাহে তিন বোতল তেল কেনে আর পরের সপ্তাহে চাল ফুরিয়ে যায়। একটা লেখা লিস্ট আর গত মাসের খাতা থেকে বের করা বাজেট দুটো সমস্যাই মেটায়।
মাসের শুকনো বাজার, জনপ্রতি
এগুলো মাসে একবার কেনার জিনিস। পরিমাণগুলো দিনে দুই বেলা ভাত খাওয়া একজন মেম্বারের জন্য একটা সাধারণ হিসাব; আপনার নিজের গত মাসের খাতা যেকোনো লিস্টের চেয়ে ভালো, তাই প্রথম মাসের পরে মিলিয়ে নিন।
চাল: ১০ থেকে ১২ কেজি। ডাল (মসুর বা মুগ): দেড় থেকে ২ কেজি। সয়াবিন তেল: দেড় থেকে ২ লিটার। পেঁয়াজ: ২ থেকে ৩ কেজি। আলু: ৩ থেকে ৪ কেজি। রসুন আর আদা: ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম করে। লবণ: ৫০০ গ্রাম। হলুদ, মরিচ আর জিরার গুঁড়া: ১০০ গ্রামের মতো করে। মেসে চা হলে চিনি আর চা পাতা: চিনি ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি।
মেম্বার সংখ্যা দিয়ে গুণ করে শুকনো জিনিস এক বাজারেই কিনে ফেলুন। ২৫ কেজির চালের বস্তা বা ৫ লিটারের তেলের ক্যান ছোট প্যাকের চেয়ে কেজি বা লিটার প্রতি কম দামে পড়ে, আর মেসের হাতে এরকম আসল সাশ্রয় খুব বেশি নেই।
সপ্তাহের কাঁচা বাজার
মাছ, মুরগি, ডিম, সবজি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা আর লেবু বেশিদিন থাকে না, তাই যার বাজারের পালা সে সপ্তাহে দুই-তিনবার কেনে।
মাস শুরুর আগে মোটামুটি একটা ভাগ ঠিক করে নিন, যেমন সপ্তাহে চার দিন মাছ বা মুরগি, দুই দিন ডিম, প্রতিদিন সবজি আর ডাল। এতে মিল রেট স্থির থাকে, আর একজনের বাজারের সপ্তাহ আরেকজনের দ্বিগুণ খরচের হয় না।
সপ্তাহের একটা সহজ মিল চার্ট
শনিবার: ভাত, ডাল, মাছের তরকারি। রবিবার: ভাত, ডাল, ডিমের তরকারি। সোমবার: ভাত, সবজি, মুরগি। মঙ্গলবার: খিচুড়ি আর ডিম। বুধবার: ভাত, ডাল, মাছ। বৃহস্পতিবার: ভাত, সবজি, মুরগি। শুক্রবার: পোলাও বা ভালো খাবার, অনেক মেসে সবার জন্য পুরো এক মিল ধরা হয়।
চার্টটা এমন জায়গায় লাগিয়ে রাখুন যেখানে বুয়া দেখতে পায়। তাহলে যার বাজারের পালা সে জিজ্ঞেস না করেই জানে কী কিনতে হবে, আর মেম্বাররা জানে মিল অফ দিলে কোন খাবারটা বাদ যাচ্ছে।
বাজারের বাজেট ঠিক করা
গত মাস থেকে শুরু করুন: গত মাসের মিল রেট = গত মাসের মোট বাজার ÷ মোট মিল। এই মাসে আনুমানিক মিল × সেই মিল রেট = এই মাসের বাজারের বাজেট।
উদাহরণ: ছয়জন মেম্বার, প্রত্যেকে মোটামুটি ৫৫ মিল খাবে, মোট ৩৩০ মিল। গত মাসের মিল রেট ছিল ৫২ টাকা। বাজেট ৩৩০ × ৫২ = ১৭,১৬০ টাকা, তাই ভাড়া-বিলের আগে খাবারের জন্য প্রত্যেকের প্রায় ২,৯০০ টাকা অগ্রিম যথেষ্ট।
মাসের মাঝখানে চলতি মিল রেট দেখুন। রেট বাড়তে থাকলে মেস সেটা ৩০ তারিখে না, দ্বিতীয় সপ্তাহেই জানতে পারে।
বাজার লিখে রাখা
যে বাজার করে সে সেদিনই লিখে রাখে: তারিখ, মোট টাকা, আর মেস চাইলে জিনিস ধরে ধরে, রশিদের ছবি তুলে। মেসের ফান্ড থেকে নাকি নিজের পকেট থেকে দেওয়া, সেটাও লিখুন, কারণ নিজের টাকা হলে সেটা তাকে ফেরত ধরতে হবে।
এক সপ্তাহ পরে লেখা হিসাব কেউ পুরো বিশ্বাস করে না, আর মাস শেষে ঝগড়া শুরু করতে এমন একটা হিসাবই যথেষ্ট।
লিস্ট আর টাকা এক জায়গায়
মেস খাতায় বাজারের পালা, জিনিস ধরে ধরে প্রতিটা বাজার আর কে টাকা দিয়েছে, সব এক জায়গায় থাকে। নিজের টাকায় বাজার করলে ম্যানেজার অনুমোদন দেওয়ার পর সেটা আপনার জমায় যোগ হয়, আর হিসাব ঢোকার সাথে সাথে মিল রেট আপডেট হয়, তাই ওপরের বাজেটের হিসাব সবসময় হাতের কাছে। পুরোটাই ফ্রি।
প্রতি মাসে নিজে থেকেই হোক
মেস খাতা প্রতিদিনের মিল আর বাজার জমা রাখে, আর মাস শেষে এই হিসাবটাই সবার জন্য বের করে দেয়।
আরও গাইড
- মেসের মিল রেট কিভাবে বের করবেন
- মাস শেষে মেসের হিসাব কিভাবে মেলাবেন
- ঝগড়া ছাড়া মেস চালানোর নিয়ম
- মেস মানে কী, আর মেস কিভাবে চলে
- মেস ম্যানেজারের দায়িত্ব: কাজের চেকলিস্ট
- মেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: ভালো সিস্টেমে যা থাকা দরকার
- বাংলাদেশের সেরা মেস ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ: পাশাপাশি তুলনা
- স্প্লিটওয়াইজ নাকি মেস অ্যাপ: বাংলাদেশের মেসের কোনটা দরকার?
- মেসের ভাড়া আর বিল ন্যায্যভাবে ভাগ করার নিয়ম
- হোস্টেলের মাসিক খরচের হিসাব কিভাবে রাখবেন
- মেসবুক নাকি মেস ম্যানেজার: মেসের কোনটা ব্যবহার করা উচিত?