মেস খাতা

মেসের শব্দকোষ

বাংলাদেশে মেস চালাতে যে শব্দগুলো লাগে, সহজ বাংলায় তাদের মানে। নতুন মেম্বার, প্রথমবার ম্যানেজার হওয়া কেউ, বা যে কেউ জানতে চান মেসের হিসাব আসলে কীভাবে চলে, সবার জন্য।

মেস

ছাত্র বা চাকরিজীবী ব্যাচেলরদের একসাথে থাকার জায়গা, যেখানে সবাই মিলে ভাড়া দেয় আর একসাথে রান্নার ব্যবস্থা চালায়। বাজার একসাথে হয়, আর খরচ ভাগ হয় কে কয়টা মিল খেয়েছে সেই অনুযায়ী। হোস্টেলে মালিক সিট আর খাবার বিক্রি করেন, সাবলেটে একজন ভাড়াটে ফ্ল্যাটের একটা অংশ আরেকজনকে ভাড়া দেন; মেস এই দুটো থেকে আলাদা।

মিল

একজনের এক বেলা মেসের রান্না খাওয়া। মেসের সব হিসাব এই এককেই গোনা হয়। অনেক মেসে দুপুর আর রাতের খাবার এক মিল করে ধরা হয়, কোথাও সকালের নাস্তা আধা মিল।

মিল রেট

মাসে এক মিলের দাম: মাসের মোট বাজার খরচকে সবার মোট মিল দিয়ে ভাগ করলে যা আসে। কোনো মেসে মাসে ৳১১,৮৫৬ বাজার হলে আর মোট ১৯০ মিল খাওয়া হলে মিল রেট ৳৬২.৪০। একজনের খাওয়ার খরচ হলো মিল রেট গুণ তার নিজের মিল।

বাজার

মেসের রান্নার জন্য কেনাকাটা, আর তাতে যে টাকা খরচ হয়। মিল রেটে শুধু বাজার ঢোকে; ভাড়া আর বিল ঢোকে না।

বাজারের পালা

নির্দিষ্ট ক্রমে প্রত্যেক মেম্বারের বাজার করার দায়িত্ব, সাধারণত এক বা কয়েক দিন করে।

বাজারের লিস্ট

রান্নাঘরে কী কী ফুরিয়েছে তার তালিকা, যেটা নিয়ে বাজারের পালার মানুষ বাজারে যান।

মেস খাতা

যে খাতায় মেসের হিসাব থাকে: এক পাতায় মিল, আরেক পাতায় বাজার, আরেক পাতায় জমা। আমাদের অ্যাপের বাংলা নাম মেস খাতা, কারণ এটা ওই খাতার জায়গা নেয়।

মেস ম্যানেজার

যে মেম্বার মাসের খাতা রাখেন: মিল আর বাজার তোলেন, জমা নেন, বিল দেন, আর মাস শেষে কার কত পাওনা বা দেনা বের করেন। অনেক মেসে দায়িত্বটা মাসে মাসে বদলায়।

মিল অফ

মেসকে জানিয়ে দেওয়া যে আপনি এক বেলা খাবেন না, যাতে আপনার জন্য রান্না না হয় আর মিলটা আপনার নামে না ওঠে। বেশিরভাগ মেসে একটা শেষ সময় থাকে, যেমন আগের রাত দশটা, তারপর আর মিল বন্ধ করা যায় না।

গেস্ট মিল

অতিথির খাওয়া মিল, যে মেম্বার ডেকেছেন তার নামে ওঠে।

ফিস্ট

পুরো মেস একসাথে খায় এমন বিশেষ খাবার, প্রায়ই ছুটির দিনে বা মাস শেষে। এর বাজার সাধারণত আলাদা হয় আর মিল ধরে নয়, সমান ভাগে ভাগ হয়।

জমা

মেম্বার মেসের তহবিলে যে টাকা দেন, নগদে বা বিকাশ, নগদ, রকেটে। মাস শেষে প্রত্যেকের জমা থেকে তার মিলের খরচ আর ভাড়া-বিলের ভাগ বাদ দেওয়া হয়।

নিজের টাকায় বাজার

মেসের তহবিল থেকে না দিয়ে কোনো মেম্বার নিজের পকেট থেকে যে বাজার করেছেন। টাকাটা তার পাওনা, আর ম্যানেজার অনুমোদন করলে সেটা জমার মতোই গোনা হয়।

ভাড়া-বিল

যে খরচ খাওয়ার সাথে বাড়ে-কমে না: ঘরভাড়া, কারেন্ট বিল, গ্যাস, পানি, ওয়াইফাই আর বুয়ার বেতন। মাথাপিছু, রুমের শেয়ারে বা নির্দিষ্ট অঙ্কে ভাগ হয়, কখনও মিল ধরে নয়।

বুয়া বা খালা

মেসে যিনি রান্না করেন। তার মাসিক বেতন সবাই নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ভাগ করে দেয়।

সিট ভাড়া

শেয়ার করা রুমে একটা বেডের ভাড়া। সিঙ্গেল রুমে সাধারণত ডাবল রুমের একটা সিটের চেয়ে বেশি ভাড়া পড়ে, তাই ভাড়া সমান ভাগে নয়, রুমের শেয়ার ধরে ভাগ হয়।

সার্ভিস চার্জ

অনেক মেসে সিট ভাড়ার ওপর মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা, যা দিয়ে বুয়া, পরিষ্কার বা বিল চলে। মেসের বিজ্ঞাপনে এটা সাধারণত আলাদা করে লেখা থাকে।

সাবলেট

মালিকের কাছ থেকে নয়, মূল ভাড়াটের কাছ থেকে নেওয়া রুম বা ফ্ল্যাটের অংশ। ঢাকায় যারা পুরো ফ্ল্যাট নিতে চান না, এমন পরিবার আর চাকরিজীবীদের মধ্যে খুব চলে।

মাস শেষের হিসাব

মাস শেষে বের করা প্রত্যেকের মিল আর খরচের ভাগ কত হলো, তিনি কত জমা দিয়েছেন, আর পার্থক্য কত: কে মেসকে টাকা দেবেন আর মেস কাকে টাকা দেবে।

পাওনা আর দেনা

পাওনা মানে যে টাকা আপনি পাবেন; দেনা মানে যে টাকা আপনাকে দিতে হবে। মাস শেষের হিসাবের পর প্রত্যেক মেম্বারের একটা না একটা থাকে।

বন্ধ মাস

যে মাসের হিসাব মিটিয়ে লক করে দেওয়া হয়েছে, তাই সেই মাসের তারিখের কোনো এন্ট্রি আর বদলানো যায় না। মাস বন্ধ করলেই মিটে যাওয়া হিসাব নিয়ে আবার তর্ক থামে।

হলের ডাইনিং

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের খাবারের ব্যবস্থা, যা ছাত্ররাই মেসের মতো মিল আর বাজারের নিয়মে চালায়।